বিনোদন ডেস্ক :: অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। জানা গেছে, এক সন্তানের জননীও হয়েছেন তিনি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক ভিডিও বার্তায় রুপালি জগতকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দেন, পাশাপাশি ধর্মীয় রীতি মেনে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন কাটানোর কথাও স্পষ্টভাবে জানান এই অভিনেত্রী। এ ভিডিওতে কাঁদতে কাঁদতে পপি বলেছিলেন, ‘আমি সব কিছু থেকে দূরে চলে গেছি।
মানুষ কত দিনই বাঁচে! যে কয়দিন বাঁচি, সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। একটু ভালো থাকতে চাই।
একটু ভালো খেতে চাই, আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘পরিবারের কারণে কাজ করতে গিয়ে মানুষের যতটা গালি খেয়েছি, যতটা পাপ কামিয়েছি- সবকিছু মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।
এটা যদি আমার জন্য অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আমি অপরাধী।’
পপির এসব বক্তব্য নিয়ে সেই সময়েও জোর চর্চা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) অভিনেতা-সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পপির একটি ফটো কার্ড শেয়ার করেছেন। একটি গণমাধ্যমের এই ফটো কার্ডে লেখা রয়েছে- ‘যতটুকু পাপ কামাইছি সব ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই। আর যে কয়দিন বাঁচব হেদায়াতের জন্য আল্লাহ-খোদার নাম করে যাব।’
বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, পপির বক্তব্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তিনি বলেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, নায়িকা পপিও তা বললেন। এখন শাবনূর এবং পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো। অভিনয় যে একটা গুনাহর কাজ এটা তারা বুঝতে পেরেছে।’
খানিকটা ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘আমার প্রশ্ন- আপনারা তো ১৬ আনা বুঝে নিয়ে তারপর ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমরা যে কিছুই না বুঝেই আপনাদের ভক্ত হয়ে ভুল করেছি এবং গুনাহ করেছি। আমাদের কি হবে তাহলে? তাই ইবাদতের সময় ভক্তদের জন্যও দোয়া কইরেন।’
বর্তমান সময়ের তারকাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জয় আরও বলেন, ‘বর্তমানে যারা হিট তারাও কি ভবিষ্যতে এরকম স্টেটমেন্ট দিবেন? বিষয়টা এমন নয় কি পাপ করে জীবন গুছিয়ে নিয়ে তারপরে হজ করে আল্লাহর পথে চলে এলাম।’
জয়ের এই পোস্টে নেটিজেনদের অনেকে মন্তব্য করেছেন। আবুল আসাদ লেখেন, ‘যথেষ্ট টাকা হয়ে যাওয়ার পর মানুষ সৎ হয়ে যায়।’ জয়কে উদ্দেশ্যে করে শিহাব নামের একজন লেখেন, ‘জায়গামতো দিয়ে দিলেন। আমিও তাইলে শেষ বয়সে গিয়ে ভালো হয়ে যাব।’ এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে।
বলে রাখা যায়, ১৯৯৫ সালে লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পপির মিডিয়ায় পথচলা শুরু। এরপর প্রয়াত পরিচালক শহীদুল হক খানের পরিচালনায় প্যাকেজ নাটক ‘নায়ক’-এ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















