আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বিমান হামলার সময় মুখে ও পায়ে পাওয়া গুরুতর আঘাত থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। খামেনি ঘনিষ্ঠ তিনজন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে চালানো ওই হামলায় খামেনির মুখ বিকৃত হয়ে যায় এবং তার এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন।
তবে যারা তার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন তারা জানিয়েছেন, তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন এবং সুস্থ আছেন। তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।
তবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম, সেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের শান্তি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে, যা শনিবার ইসলামাবাদে শুরু হওয়ার কথা।
তার ঘনিষ্ঠদের দেওয়া তথ্যই এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির অবস্থার সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনির অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে রহস্য রয়ে গেছে। তার বাবার মৃত্যুর পর ৮ মার্চ তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে তাকে কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিওতে দেখা বা শোনা যায়নি।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন তার আঘাতের মাত্রা বা তার অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।
সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি আহত হন। ওই হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করছিলেন। হামলায় মোজতবার স্ত্রী, শ্যালক ও শ্যালিকারাও নিহত হন।
এখনো ইরান সরকার তার আঘাতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ পাঠিকা তাকে ‘জানবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই শব্দটি সাধারণত যুদ্ধে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আগেই বলেছিলেন যে খামেনি আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সম্ভবত একটি পা হারিয়েছেন।
সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা বলেন, আঘাতের মাত্রা যাই হোক না কেন, অভিজ্ঞতাহীন নতুন নেতা তার বাবার মতো সর্বময় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, এমন সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, যদিও মোজতবাকে ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু পূর্বসূরির মতো কর্তৃত্ব অর্জন করতে তার বহু বছর লাগতে পারে।
ভাতাঙ্কা আরও বলেন, ‘মোজতবা একটি কণ্ঠস্বর হবেন, কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী প্রধান ব্যক্তি নাও হতে পারেন। তাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত শাসনব্যবস্থাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন পথে যাবে।’
সূত্র: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক 




























