6:43 pm, Saturday, 7 March 2026

আজ বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ

সকাল ৯টায় শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে। আর এই আয়োজনকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) চারুকলায় পরিদর্শন শেষে আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বাঙালির বর্ষবরণে অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয় সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদান ও চারুকলার শিক্ষার্থীদের ফান্ড রাইজিংয়ের ওপর নির্ভর করে আয়োজন করা এটি। গত ১৯ মার্চ থেকে ফান্ড রাইজিং ক্যাম্পেইন শুরু হয়। প্রথম দিকে রমজানের কারণে আয়োজনের পরিসর ছোট করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে সরেজমিনে দেখা যায়, নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রাফিতিতে সাজানো হয়েছে চারুকলার দেয়াল। উড়ো চিঠিতে হুমকি পাওয়ার পর চারুকলায় গেটে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। তারা থার্মাল স্ক্যানারে দর্শনার্থীদের পরীক্ষা করে তারপর ঢুকতে দিচ্ছে।

আয়োজকরা ব্যস্ত রংতুলি আঁচড়ে শেষ প্রস্তুতিকে রঙিন করতে। কেউ মুখোশ তৈরি করছেন, কেউ ছবি আঁকছেন, আবার কেউ কেউ ব্যস্ত মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ পেঁচা, হরিণ, গোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর মোটিভ তৈরিতে।

হুমকি থাকলেও ভয় নেই
মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের জন্য বেনামি চিরকুট পেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন আয়োজকরা। তবে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, হামলার ভয় নেই। আর চিরকুট দেওয়াটা দুষ্ট ছেলেদের কাজ। তবে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

আয়োজকরা বলছেন, অপশক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে ভয় দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে। তাদের কাজ তারা করছে, আমাদের কাজ আমরা করছি। তারা ভয় দেখাবে, আমরা পাবো না। আয়োজকদের একজন প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মাহদী বলেন, ‘আমাদের বাংলার ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় আয়োজক হওয়া আমাদের জন্য গৌরবের। আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন আয়োজন প্রায়ই শেষ,শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।’

চিরকুটের বিষয়ে মাহদী বলেন, ‘অপশক্তি মানুষকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে ভয় দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে। তাদের কাজই ভয় দেখানো, তারা ভয় দেখাবে। আমাদের কাছ ভয়কে জয় কাজ করা। সেহেতু আমরা ভয় পাচ্ছি না।’

এবারের প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য নিয়ে নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিসার হোসেন বলেন, ‘এবারের প্রতিপাদ্য ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’। প্রতিবছর আমরা বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্য ঠিক করি। বর্তমানে মানুষের মাঝে হানাহানি, অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। তার চরম মাত্রায় পৌঁছেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চরম ধস নেমেছে। তাই আমাদের এবারের কামনা পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসুক।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণ’ ও নেতা নির্বাচনের দাবিকে ইরানের উপহাস

আজ বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ

Update Time : 08:54:25 pm, Thursday, 13 April 2023

সকাল ৯টায় শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে। আর এই আয়োজনকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) চারুকলায় পরিদর্শন শেষে আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বাঙালির বর্ষবরণে অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয় সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদান ও চারুকলার শিক্ষার্থীদের ফান্ড রাইজিংয়ের ওপর নির্ভর করে আয়োজন করা এটি। গত ১৯ মার্চ থেকে ফান্ড রাইজিং ক্যাম্পেইন শুরু হয়। প্রথম দিকে রমজানের কারণে আয়োজনের পরিসর ছোট করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে সরেজমিনে দেখা যায়, নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রাফিতিতে সাজানো হয়েছে চারুকলার দেয়াল। উড়ো চিঠিতে হুমকি পাওয়ার পর চারুকলায় গেটে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। তারা থার্মাল স্ক্যানারে দর্শনার্থীদের পরীক্ষা করে তারপর ঢুকতে দিচ্ছে।

আয়োজকরা ব্যস্ত রংতুলি আঁচড়ে শেষ প্রস্তুতিকে রঙিন করতে। কেউ মুখোশ তৈরি করছেন, কেউ ছবি আঁকছেন, আবার কেউ কেউ ব্যস্ত মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ পেঁচা, হরিণ, গোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর মোটিভ তৈরিতে।

হুমকি থাকলেও ভয় নেই
মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের জন্য বেনামি চিরকুট পেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন আয়োজকরা। তবে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, হামলার ভয় নেই। আর চিরকুট দেওয়াটা দুষ্ট ছেলেদের কাজ। তবে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

আয়োজকরা বলছেন, অপশক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে ভয় দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে। তাদের কাজ তারা করছে, আমাদের কাজ আমরা করছি। তারা ভয় দেখাবে, আমরা পাবো না। আয়োজকদের একজন প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মাহদী বলেন, ‘আমাদের বাংলার ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় আয়োজক হওয়া আমাদের জন্য গৌরবের। আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন আয়োজন প্রায়ই শেষ,শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।’

চিরকুটের বিষয়ে মাহদী বলেন, ‘অপশক্তি মানুষকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে ভয় দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে। তাদের কাজই ভয় দেখানো, তারা ভয় দেখাবে। আমাদের কাছ ভয়কে জয় কাজ করা। সেহেতু আমরা ভয় পাচ্ছি না।’

এবারের প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য নিয়ে নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিসার হোসেন বলেন, ‘এবারের প্রতিপাদ্য ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’। প্রতিবছর আমরা বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্য ঠিক করি। বর্তমানে মানুষের মাঝে হানাহানি, অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। তার চরম মাত্রায় পৌঁছেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চরম ধস নেমেছে। তাই আমাদের এবারের কামনা পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসুক।’