10:29 am, Sunday, 7 December 2025

আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা বজায়ে একমত শেখ হাসিনা-মোদি

ডেস্ক রিপোর্ট :: আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে ভারতের সঙ্গে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রেস বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

যৌথ বিবৃতির আগে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একমত হওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং আমাদের দুই দেশ এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছি।’

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘প্রতিবেশী কূটনীতির’ রোল মডেল বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশ ও ভারত বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনায় দুই দেশ অনেক অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান করেছে।’

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ অন্যান্য সব অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নিকটতম প্রতিবেশী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫০ বছরে একটি শক্তিশালী অংশীদারত্ব তৈরির মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ এবং ভারত অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে তা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদী এবং চার হাজার কিলোমিটার সীমান্তবেষ্টিত বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ তাদের জনগণের সম্মিলিত কল্যাণে বদ্ধপরিকর।

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সারা বছরব্যাপী আয়োজিত ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর সফল সমাপ্তির জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে আরেকটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বৈঠকের ফলাফল দুই দেশের জনগণকে উপকৃত করবে।

তিনি বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনা নিয়ে আমরা বৈঠকটি করেছি। সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো আরও সামনে এগিয়ে নিতে বৈঠকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’

পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘কানেকটিভিটি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং ঋণসুবিধার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের অমূল্য ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস, সংস্কৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং অব্যাহত সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।’

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গতি প্রদান করেছে।’

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর হায়দরাবাদ হাউসে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ফটোসেশনে অংশগ্রহণের পর দুই প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

বিকেলে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে উপরাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখরের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে- উদ্যোগতা কুতুব উদ্দিন চৌধুরী কুলাউড়ায় কৃষি মেলায়

আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা বজায়ে একমত শেখ হাসিনা-মোদি

Update Time : 09:27:17 am, Tuesday, 6 September 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে ভারতের সঙ্গে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রেস বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

যৌথ বিবৃতির আগে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একমত হওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং আমাদের দুই দেশ এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছি।’

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘প্রতিবেশী কূটনীতির’ রোল মডেল বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশ ও ভারত বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনায় দুই দেশ অনেক অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান করেছে।’

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ অন্যান্য সব অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নিকটতম প্রতিবেশী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫০ বছরে একটি শক্তিশালী অংশীদারত্ব তৈরির মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ এবং ভারত অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে তা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদী এবং চার হাজার কিলোমিটার সীমান্তবেষ্টিত বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ তাদের জনগণের সম্মিলিত কল্যাণে বদ্ধপরিকর।

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সারা বছরব্যাপী আয়োজিত ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর সফল সমাপ্তির জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে আরেকটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বৈঠকের ফলাফল দুই দেশের জনগণকে উপকৃত করবে।

তিনি বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনা নিয়ে আমরা বৈঠকটি করেছি। সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো আরও সামনে এগিয়ে নিতে বৈঠকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’

পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘কানেকটিভিটি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং ঋণসুবিধার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের অমূল্য ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস, সংস্কৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং অব্যাহত সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।’

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গতি প্রদান করেছে।’

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর হায়দরাবাদ হাউসে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ফটোসেশনে অংশগ্রহণের পর দুই প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

বিকেলে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে উপরাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখরের সঙ্গে বৈঠক করবেন।