বিশেষ প্রতিবেদক: ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত তিনজন নিহতের তথ্য মিলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল রণাঙ্গন এবার কেড়ে নিল এক নিরপরাধ প্রবাসী বাংলাদেশির জীবন। সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হলো সালেখ আহমদের স্বপ্ন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৪৮) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত সালেখ আহমদের মৌলভীবাজারের বড়লেখা শহরের গাজিটেকা গ্রামের ছবর আলীর ছেলে। দীর্ঘ দিন ধরে আমিরাতের আজমানে কর্মরত ছিলেন। আর প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত। গত শনিবার সন্ধ্যায় ইফতার শেষে জীবিকার তাগিদে বাইক নিয়ে জরুরি খাবার ও পানীয় সরবরাহের কাজে বের হলে আকাশ থেকে হঠাৎ একটি জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড বা মিসাইলের মতো বস্তু তীব্র বেগে মাটিতে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে ও ঘটনাস্থলেই সালেখ আঘাত পেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও মুমূর্ষু অবস্থায় সালেখসজ কয়েকজনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার সকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা জানি হয়। যদিও এখন পর্যন্ত আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে সেখানকার প্রবাসী কমিউনিটি, সহকর্মী ও সেখানে বসবাসরত সালেখের ভাইয়েরা নিশ্চিত করেছেন যে সালেখসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হলেও সালেখ ইরানের ছোড়া ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়। সেখানে থাকা স্বজনরা হাসপাতালে মরদেহ দেখার জন্য গেছেন। সালেখ এর অকাল মৃত্যুতে গাজিটেকা গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
এব্যাপারে পরিবার ও স্বজনসহ স্থানীয়রা জানান-বাবার মৃত্যুর সংবাদে সন্তানদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সালেখ এর কফিনটি শেষবারের মতো দেখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান।
নিহত সালেহ আহমেদের পরিচয় ও পরিবারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন- মনিরুজ্জামান খান, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বড়লেখা থানা, মৌলভীবাজার।
সালেখসহ বাংলাদেশীদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















