8:49 pm, Sunday, 12 July 2026

আশ্রয়হীন বৃদ্ধার শেষ বয়সেও মেলেনি মাথা গোঁজার ঠাঁই জীবন কাটছে অনিশ্চয়তায় রাস্তার পাশে

তানভীর চৌধুরী :: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়নের তাহারলামুয়া গ্রামের রাস্তার পাশে অসহায়ভাবে জীবনযাপন কাটাচ্ছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা নিহার বেগম।

চলার শক্তি নেই, হারিয়েছেন স্মৃতিশক্তিও। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, তবুও দেখার মতো নেই কোনো আপনজন।

স্থানীয়রা জানান, নিহার বেগম ছোটবেলা থেকেই তাহারলামুয়া গ্রামে বসবাস করছেন। তাহারলামুয়ার সমস্তি মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্বামীকে নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করছিলেন ছিলেন।

কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর তার সৎ ছেলে বাড়িঘর বিক্রি করে দেয়। এরপর শুরু হয় নিহার বেগমের জীবনে এক কালো অধ্যায়। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন তিনি।

বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে ঘর নোংরা করায় তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন এলাকার রাজা মিয়া।

রাজা মিয়া বলেন, আমি রাস্তার ধারে অসহায় অবস্থায় নিহার বেগমকে দেখে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমি স্থায়ীভাবে তার সেবা করা সম্ভব নয়।

৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “নিহার বেগমের সৎ পুত্র লেচু মিয়াকে ইউনিয়ন অফিসে আসতে বলেছি। সে আসেনি। আমি চেষ্টা করছি ইউনিয়ন থেকে সাহায্য করে তার সৎ পুত্রকে তার দায়িত্ব নেওয়ানোর জন্য।

অন্যদিকে জানতে চাইলে তার সৎ পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম বলেন, “শ্বশুর মারা যাওয়ার আগেই তার ভরণপোষণের খরচ দিয়ে দিয়েছেন। এখন আর আমরা দায়িত্ব নিতে পারব না।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বৃদ্ধার জন্য সরকারি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

সমাজের দায়িত্ব কি শুধু দেখে যাওয়া? নাকি একজন অসহায় মানুষকে শেষ বয়সে একটু আশ্রয় দেওয়া?

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে ৫০০ বন্যার্ত মানুষের পাশে বিএনপি নেতা স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী

আশ্রয়হীন বৃদ্ধার শেষ বয়সেও মেলেনি মাথা গোঁজার ঠাঁই জীবন কাটছে অনিশ্চয়তায় রাস্তার পাশে

Update Time : 09:14:32 am, Thursday, 11 June 2026

তানভীর চৌধুরী :: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়নের তাহারলামুয়া গ্রামের রাস্তার পাশে অসহায়ভাবে জীবনযাপন কাটাচ্ছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা নিহার বেগম।

চলার শক্তি নেই, হারিয়েছেন স্মৃতিশক্তিও। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, তবুও দেখার মতো নেই কোনো আপনজন।

স্থানীয়রা জানান, নিহার বেগম ছোটবেলা থেকেই তাহারলামুয়া গ্রামে বসবাস করছেন। তাহারলামুয়ার সমস্তি মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্বামীকে নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করছিলেন ছিলেন।

কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর তার সৎ ছেলে বাড়িঘর বিক্রি করে দেয়। এরপর শুরু হয় নিহার বেগমের জীবনে এক কালো অধ্যায়। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন তিনি।

বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে ঘর নোংরা করায় তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেন এলাকার রাজা মিয়া।

রাজা মিয়া বলেন, আমি রাস্তার ধারে অসহায় অবস্থায় নিহার বেগমকে দেখে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমি স্থায়ীভাবে তার সেবা করা সম্ভব নয়।

৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “নিহার বেগমের সৎ পুত্র লেচু মিয়াকে ইউনিয়ন অফিসে আসতে বলেছি। সে আসেনি। আমি চেষ্টা করছি ইউনিয়ন থেকে সাহায্য করে তার সৎ পুত্রকে তার দায়িত্ব নেওয়ানোর জন্য।

অন্যদিকে জানতে চাইলে তার সৎ পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম বলেন, “শ্বশুর মারা যাওয়ার আগেই তার ভরণপোষণের খরচ দিয়ে দিয়েছেন। এখন আর আমরা দায়িত্ব নিতে পারব না।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বৃদ্ধার জন্য সরকারি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

সমাজের দায়িত্ব কি শুধু দেখে যাওয়া? নাকি একজন অসহায় মানুষকে শেষ বয়সে একটু আশ্রয় দেওয়া?