ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের দেশ নেপাল। এভারেস্টের মতোই অদম্য, লড়াকু আর মাথা নত না করা এক জাতি। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে এভারেস্টের দেশটা এখনও যেন আটকে আছে হৃদস্পন্দন বাড়ানো উত্তেজনায়। শেষ ওভারের নাটক, শ্বাসরুদ্ধকর জয় কিংবা কাছাকাছি গিয়ে হার।
এসব কারণেই ক্রিকেটবিশ্বে নেপাল পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘কার্ডিয়াক কিডস’ নামে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হোক, দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ কিংবা বাছাইপর্ব—নেপালের ম্যাচ মানেই দর্শকের বুক ধড়ফড়। কখনও শক্তিশালী দলকে চাপে ফেলা, কখনও আবার জয়ের কাছাকাছি গিয়েও হোঁচট। বড় মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ শেষ করতে না পারার ব্যর্থতাই তাদের এই তকমা দিয়েছে।
গতকাল (রোববার) ইংল্যান্ডকে কাপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। ইতিহাসের অমরত্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল তারা, পৌঁছে গিয়েছিলেন লোকেশ বামও। দরকার ছিল স্রেফ একটি ছক্কা—মাত্র একটিই। স্যাম কারেনের শেষ বলটি যদি লোকেশের ব্যাটে ঠিকভাবে লেগে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি রোপ পার হতো, তাহলে সেটি কেবল একটি জয় হতো না, হয়ে উঠত ইতিহাস।
লোকেশ বাম পরিণত হতেন নেপাল ক্রিকেটের মহানায়কে। ক্রিকেটের জনক সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারানো নেপালের মতো দেশের জন্য হতো অনন্য গর্বের উপলক্ষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আফসোসই থেকে গেল। এই আফসোস হিমালয়ের মতোই বিশাল!
এমন দৃশ্য নেপালের জন্য নতুন নয়। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৫ রানে আটকে রেখেছিল তারা।
তবু শেষ পর্যন্ত মাত্র ১ রানে হার মানতে হয়।
তবে নিয়মিত তীরে গিয়ে তরী ডুবলেও গত কয়েক বছরে নেপাল ক্রিকেটের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এশিয়া কাপ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সব মঞ্চেই তারা এখন লড়াই করছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গ্যালারিভর্তি দর্শক, দেশজুড়ে ক্রিকেট উন্মাদনা আর নির্ভীক ক্রিকেটে তারা ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও এর মধ্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে সময় বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে নেপাল। শের মাল্লা, রোহিত পাউডেল, লোকেশ বাম, কুশল ভুরতেলদের হাত ধরে দলটি এখন আর কেবল আবেগনির্ভর নয়। ফিটনেস, পাওয়ার হিটিং ও ডেথ ওভারের বোলিং—সব ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত তারা।
এভারেস্ট যেমন এক দিনে জয় করা যায় না, তেমনি নেপাল ক্রিকেটের শিখরে ওঠাও সময়সাপেক্ষ। তবে যে পথে তারা এগোচ্ছে, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে খুব দ্রুতই তারা বড় দলের কাতারে নাম লেখাতে পারে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি শেষ মুহূর্তে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ শেষ করতে হয়, সেই অভ্যাস রপ্ত করা। সেটি পারলেই হয়তো ‘কার্ডিয়াক কিডস’ তকমা ঝরে যাবে—আর এভারেস্টের দেশ ক্রিকেটেও চূড়ার পথ খুঁজে পাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















