9:45 am, Thursday, 11 June 2026

ইমরান খানের ভাগ্য অনিশ্চিত

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজনৈতিক অস্থিরতায় আবার টালমাটাল পাকিস্তান। দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাগ্যেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান পার্লামেন্টের শুক্রবারের বিশেষ অধিবেশনের পরই বোঝা যাবে কোন পথে যাচ্ছে দেশটির রাজনীতি।

অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার বিশেষ অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। এখন দেশটির সবখানেই আলোচনার বিষয়, এ দফায় কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? বিশেষত তার নিজ দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এর ২৪ আইনপ্রণেতাই যখন বিদ্রোহ করেছেন তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে ইমরানের বিরোধিতা করায় ওই আইনপ্রণেতাদের আটকে রাখা হয়েছে সিন্ধ হাউসে।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, শুক্রবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পর পরবর্তী কর্মদিবসে পার্লামেন্ট সচিব প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। তার তিন থেকে সাতদিনের মধ্যে সেই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ইমরান খানের জোটের শরিকদের আসন ২০টি। ৩৪২ সদস্যের নিম্নকক্ষে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাব পাশের জন্য দরকার ১৭২ ভোট। আর ইমরান খানের রয়েছে ১৫৫ আসন। অন্যদিকে তার বিরোধী পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) আর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) মিলে ১৬৩টি আসন রয়েছে।

এ অবস্থায় বিরোধীদের চোখ এখন পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের আঞ্চলিক দলের আইন প্রণেতাদের ওপর। যারা ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটকে সমর্থন দিতে পারে। তাদের ভেড়াতে পারলে নিম্নকক্ষে পাশ হয়ে যাবে ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। ক্ষমতা ছেড়ে তখন ইমরান খানকে আবারো জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসতে হবে, নতুবা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন ।

অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিসহ নানা অভিযোগে গেল ৮ই মার্চ ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী জোট। ২০১৮ সালের ১৮ই আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। বলা হয়, সেনাবাহিনীর বিশেষ অনুগ্রহে ক্ষমতায় আসেন ইমরান।

পাকিস্তানে এর আগে কোন প্রধানমন্ত্রীই অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হননি। যদিও দুইজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৮৯ সালে বেনজির ভুট্টোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও, অল্পের জন্য রক্ষা পায় তার গদি। আর ২০০৬ সালে শওকত আজিজের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছিল ১৩৬টি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের কৃষিপণ্য লুট ও পান গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইমরান খানের ভাগ্য অনিশ্চিত

Update Time : 09:10:19 am, Tuesday, 22 March 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজনৈতিক অস্থিরতায় আবার টালমাটাল পাকিস্তান। দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাগ্যেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান পার্লামেন্টের শুক্রবারের বিশেষ অধিবেশনের পরই বোঝা যাবে কোন পথে যাচ্ছে দেশটির রাজনীতি।

অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার বিশেষ অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। এখন দেশটির সবখানেই আলোচনার বিষয়, এ দফায় কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? বিশেষত তার নিজ দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এর ২৪ আইনপ্রণেতাই যখন বিদ্রোহ করেছেন তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে ইমরানের বিরোধিতা করায় ওই আইনপ্রণেতাদের আটকে রাখা হয়েছে সিন্ধ হাউসে।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, শুক্রবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পর পরবর্তী কর্মদিবসে পার্লামেন্ট সচিব প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। তার তিন থেকে সাতদিনের মধ্যে সেই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ইমরান খানের জোটের শরিকদের আসন ২০টি। ৩৪২ সদস্যের নিম্নকক্ষে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাব পাশের জন্য দরকার ১৭২ ভোট। আর ইমরান খানের রয়েছে ১৫৫ আসন। অন্যদিকে তার বিরোধী পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) আর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) মিলে ১৬৩টি আসন রয়েছে।

এ অবস্থায় বিরোধীদের চোখ এখন পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের আঞ্চলিক দলের আইন প্রণেতাদের ওপর। যারা ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটকে সমর্থন দিতে পারে। তাদের ভেড়াতে পারলে নিম্নকক্ষে পাশ হয়ে যাবে ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। ক্ষমতা ছেড়ে তখন ইমরান খানকে আবারো জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসতে হবে, নতুবা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন ।

অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিসহ নানা অভিযোগে গেল ৮ই মার্চ ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী জোট। ২০১৮ সালের ১৮ই আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। বলা হয়, সেনাবাহিনীর বিশেষ অনুগ্রহে ক্ষমতায় আসেন ইমরান।

পাকিস্তানে এর আগে কোন প্রধানমন্ত্রীই অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হননি। যদিও দুইজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৮৯ সালে বেনজির ভুট্টোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও, অল্পের জন্য রক্ষা পায় তার গদি। আর ২০০৬ সালে শওকত আজিজের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছিল ১৩৬টি।