8:25 am, Thursday, 18 June 2026

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে গৃহীত হয়।

ভোটাভুটিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না।

কার্যকর হতে হলে এটি সিনেটেও পাস হতে হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অসন্তোষের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে এ উদ্যোগ।
এর আগে একই ধরনের তিনটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে ব্যর্থ হয়েছিল।

এদিকে দুই দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ‘খুব ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হেফাজতে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। উভয় পক্ষই প্রস্তাবিত খসড়াগুলো পর্যালোচনা করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। আগামী শনিবার এ সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও এ সময়ের মধ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শত শত নেতাকর্মী নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সমাবেশে মোসারফ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

Update Time : 08:27:35 am, Thursday, 4 June 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে গৃহীত হয়।

ভোটাভুটিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না।

কার্যকর হতে হলে এটি সিনেটেও পাস হতে হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অসন্তোষের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে এ উদ্যোগ।
এর আগে একই ধরনের তিনটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে ব্যর্থ হয়েছিল।

এদিকে দুই দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ‘খুব ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হেফাজতে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। উভয় পক্ষই প্রস্তাবিত খসড়াগুলো পর্যালোচনা করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। আগামী শনিবার এ সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও এ সময়ের মধ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।