2:39 am, Monday, 19 January 2026

ঈদের দিনে ফরিদপুরে আধিপত্যের লড়াইয়ে নিহত ২

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নে ঈদের দিনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ মে) বেলা দেড়টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত দুই ব্যক্তি হলেন, উপজেলার চরদৈতরকাঠি গ্রামের হাসেম মোল্যার ছেলে আকিদুল মোল্যা (৩৩) ও একই গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে খায়রুল শেখ (৪৪)। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকি একটি পক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালী বজলু খালাসীর পক্ষের মাঝে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদ চলমান। ঈদের নামাজের পর গোলাম মোস্তফা সিদ্দিকি বাড়ির পাশে গোহাইলবাড়ি বাজারে কর্মীদের নিয়ে বসেছিলেন। এসময় বজলু খালাসী গ্রুপের সমর্থকদের ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোলাম মোস্তফা ও তার লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার চাচাতো ভাই আকিদুল শেখ ও খায়রুল শেখ গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

এ ব্যপারে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী বলেন, ঈদের নামাজের পর দুপুরের দিকে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলাম। এ সময় বজলু খালাসির ছেলে শরীফ খালাসি তার ভাই আরিফ খালাসি ও দেলোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল আমার ও আমার লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে দুই জন নিহত হন ও ২০ জন আহত হন।

এ ব্যপারে ঘোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব মিয়া বলেন, ঘটনা শুনেছি। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদ উপলক্ষে দুই পক্ষের লোকজন বাড়িতে এসে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছেন।

এ ব্যপারে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। লাশের সুরতহাল করা শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খালেদুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। আমরা মৃত অবস্থায় তাদের পেয়েছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) সুমন কর বলেন, আপাতত পরিবেশ শান্ত করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ঈদের দিনে ফরিদপুরে আধিপত্যের লড়াইয়ে নিহত ২

Update Time : 01:17:32 pm, Tuesday, 3 May 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নে ঈদের দিনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ মে) বেলা দেড়টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত দুই ব্যক্তি হলেন, উপজেলার চরদৈতরকাঠি গ্রামের হাসেম মোল্যার ছেলে আকিদুল মোল্যা (৩৩) ও একই গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে খায়রুল শেখ (৪৪)। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকি একটি পক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালী বজলু খালাসীর পক্ষের মাঝে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদ চলমান। ঈদের নামাজের পর গোলাম মোস্তফা সিদ্দিকি বাড়ির পাশে গোহাইলবাড়ি বাজারে কর্মীদের নিয়ে বসেছিলেন। এসময় বজলু খালাসী গ্রুপের সমর্থকদের ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোলাম মোস্তফা ও তার লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার চাচাতো ভাই আকিদুল শেখ ও খায়রুল শেখ গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

এ ব্যপারে মোস্তফা জামান সিদ্দিকী বলেন, ঈদের নামাজের পর দুপুরের দিকে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলাম। এ সময় বজলু খালাসির ছেলে শরীফ খালাসি তার ভাই আরিফ খালাসি ও দেলোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল আমার ও আমার লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে দুই জন নিহত হন ও ২০ জন আহত হন।

এ ব্যপারে ঘোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব মিয়া বলেন, ঘটনা শুনেছি। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদ উপলক্ষে দুই পক্ষের লোকজন বাড়িতে এসে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছেন।

এ ব্যপারে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। লাশের সুরতহাল করা শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খালেদুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। আমরা মৃত অবস্থায় তাদের পেয়েছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) সুমন কর বলেন, আপাতত পরিবেশ শান্ত করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।