1:05 am, Sunday, 9 August 2026

উত্তরা চার নম্বর সেক্টরে ‘শর্ত সাপেক্ষে’ চলবে শুটিং

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে বাড়িভিত্তিক শুটিং কার্যক্রম বন্ধ করতে বাড়ি মালিকদের যে চিঠি পাঠিয়েছিল স্থানীয় কল্যাণ সমিতি, শর্তসাপেক্ষে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ছোট পর্দার সব সংগঠনের নেতারা শনিবার আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন লাবণী চার শুটিং হাউজের মালিক আসলাম হোসেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কিছু শর্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে, লিখিত শর্তগুল এখনো হাতে আসেনি। তবে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শুটিংয়ের সময় নির্ধারণ।
রাত ১১টার পর কোনো শুটিং করা যাবে না–এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তায় বা আউটডোরে শুটিং করলে যানজট ও জনভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
“আমরাও সে বিষয়টি মাথায় রেখে ছোট পর্দার সব সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও) একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে কল্যাণ সমিতিতে সেটা জমা দেবে।”
উত্তরা চার নম্বর সেক্টরের কল্যাণ সমিতির সদস্য, হাউস মালিক অ্যাসোসিয়েশন, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ, টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যরা (টেলিপ্যাব) আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ জুলাই উত্তরা কল্যাণ সমিতি সেক্টর চারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শুটিং হাউজ পরিচালনা ‘নীতিমালার পরিপন্থি’ এবং তা এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ‘ব্যাহত’ করছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শুটিং চলাকালে রাস্তায় জনসমাগম তৈরি হচ্ছে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং আশপাশের বাসিন্দারা ‘বিরক্তি ও নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন। এ ছাড়া ‘পরিবেশের শান্তি ও সুনিশ্চিত নিরাপত্তা’ ব্যাহত হচ্ছে।
কল্যাণ সমিতি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে লেখে, “সেক্টরবাসীর ক্রমবর্ধমান অভিযোগ ও সবার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে শুটিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এটি বন্ধে বাড়ির মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।”   সেক্টর-৪ এলাকায় বর্তমানে তিনটি শুটিং হাউস রয়েছে—লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২।   উত্তরায় বহু বছর ধরেই শুটিং হচ্ছে, এখন হঠাৎ শুটিং বন্ধের নোটিস কেন দেওয়া হল, তা জানতে চাইলে সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমাদের এটা আবাসিক এলাকা। বেশ কিছুদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।
“শুটিংয়ের সময় বিভিন্ন মানুষের সমাগম হয়, গাড়ি চলে, এতে সমস্যা হয়। অনেক রাত পর্যন্ত শুটিং করা হয়, এমন সব ঘটনা ঘটে মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে।  অসুবিধা বাড়ছে বলেই চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেন শুটিং স্পটগুলো বাইরে নেওয়া হয়।”
সমিতির ওই নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

অরক্ষিত ‘হাকালুকি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র’চিকিৎসা বঞ্চিত হাওর পারের হতদরিদ্র বাসিন্দারা

উত্তরা চার নম্বর সেক্টরে ‘শর্ত সাপেক্ষে’ চলবে শুটিং

Update Time : 09:43:03 am, Sunday, 27 July 2025

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে বাড়িভিত্তিক শুটিং কার্যক্রম বন্ধ করতে বাড়ি মালিকদের যে চিঠি পাঠিয়েছিল স্থানীয় কল্যাণ সমিতি, শর্তসাপেক্ষে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ছোট পর্দার সব সংগঠনের নেতারা শনিবার আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন লাবণী চার শুটিং হাউজের মালিক আসলাম হোসেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কিছু শর্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে, লিখিত শর্তগুল এখনো হাতে আসেনি। তবে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শুটিংয়ের সময় নির্ধারণ।
রাত ১১টার পর কোনো শুটিং করা যাবে না–এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তায় বা আউটডোরে শুটিং করলে যানজট ও জনভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
“আমরাও সে বিষয়টি মাথায় রেখে ছোট পর্দার সব সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও) একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে কল্যাণ সমিতিতে সেটা জমা দেবে।”
উত্তরা চার নম্বর সেক্টরের কল্যাণ সমিতির সদস্য, হাউস মালিক অ্যাসোসিয়েশন, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ, টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যরা (টেলিপ্যাব) আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ জুলাই উত্তরা কল্যাণ সমিতি সেক্টর চারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শুটিং হাউজ পরিচালনা ‘নীতিমালার পরিপন্থি’ এবং তা এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ‘ব্যাহত’ করছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শুটিং চলাকালে রাস্তায় জনসমাগম তৈরি হচ্ছে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং আশপাশের বাসিন্দারা ‘বিরক্তি ও নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন। এ ছাড়া ‘পরিবেশের শান্তি ও সুনিশ্চিত নিরাপত্তা’ ব্যাহত হচ্ছে।
কল্যাণ সমিতি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে লেখে, “সেক্টরবাসীর ক্রমবর্ধমান অভিযোগ ও সবার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে শুটিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এটি বন্ধে বাড়ির মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।”   সেক্টর-৪ এলাকায় বর্তমানে তিনটি শুটিং হাউস রয়েছে—লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২।   উত্তরায় বহু বছর ধরেই শুটিং হচ্ছে, এখন হঠাৎ শুটিং বন্ধের নোটিস কেন দেওয়া হল, তা জানতে চাইলে সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমাদের এটা আবাসিক এলাকা। বেশ কিছুদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।
“শুটিংয়ের সময় বিভিন্ন মানুষের সমাগম হয়, গাড়ি চলে, এতে সমস্যা হয়। অনেক রাত পর্যন্ত শুটিং করা হয়, এমন সব ঘটনা ঘটে মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে।  অসুবিধা বাড়ছে বলেই চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেন শুটিং স্পটগুলো বাইরে নেওয়া হয়।”
সমিতির ওই নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী।