2:40 pm, Thursday, 19 February 2026

উনিশে জানুয়ারী স্বাধীনতা মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বইতম শুভ জন্মঃ দোয়া, মাগফিরাতঃ স্মৃতি কথা


। মুজিবুর রহমান মুজিব।
উনিশে জানুয়ারী স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সাতই নবেম্বর সিপহী বিপ্লবের মহানায়ক, বাংলাদেশে বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবর্তক, সংস্কার মূলক ঐতিহাসিক উনিশ দফা কর্ম সূচীর প্রচেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বইতম শুভ জন্মদিন। উনিশ’শ একাশি সালে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন কালে বন্দও নগরি চট্টগ্রাম সফর করছিলেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া। কর্ম ব্যস্থ দিন শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘুমন্ত অবস্থায় সেনাবাহিনীর কতেক বিপথগামী কর্মকর্তা তাকে নির্মম ভাবে ব্রাশ ফায়ার করতঃ হত্যা করে। সফল রাষ্ট্রপতি শহীধ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সেই মৃত্যো ছিল নির্মম। নৃশংস। অসময়ের। আকস্মিক। সারা বাংলায়-টেকনাফ তেতুলিয়া-আওয়াজ উঠে হায় জিয়া। হায় জিয়া। সমগ্র দেশও জাতি সংসদ ভবন সংলগ্ন বিশাল এলাকায় স্মরনাতীত কালের বৃহত্তম জানাজার মাধ্যমে শ্রদ্ধাও শেষ বিদায় জানান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বগুড়ার এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সু-সন্তান।
একাত্তোর সালের অগ্নি ঝরা দিন গুলিতে দেশ ও জাতির যুগ সন্ধিক্ষনে স্বদেশ প্রেম ও স্বাদে শিকতায় উদ্ভোদ্ধ হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক চৌকশ মেজর হিসাবে চট্টগ্রামস্থ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে উচ্চ কন্ঠে উচ্চারক করেন-ঘোষনা কওে “আই মেজর জিয়া ডু হেয়ার বাই ডিকলিয়ার দে ওয়ার অব ইনডিপেনডেন্স”। মেজর জিয়ার এই ঘোষনা মুক্তিযুদ্ধের একটি দিক নির্দেশনা দেয়। মুক্তি যোদ্ধা মেজর জিয়া জেড ফোর্স এর অধিনায়ক এবং একটি সেক্টারের সেক্টার কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তার কালে “বীর উত্তম” জিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব ষ্টাফ নিযুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পূর্নঘটনে আত্বনিয়োগ করেন। স্বাধীনতা উত্তর কালে রাষ্ট পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতা, স্বজন প্রীতি, দূর্নীতি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্মক রকমের অবনতি, সরকারের আভ্যন্তরীন কলহ-কোন্দলের কারনে পনোরোই আগষ্টে মহামান্য রাষ্ট্রপতি শেক মুজিবের মর্মান্তিক মৃত্যো ক্ষমতাপাট পরিবর্তন, জেলে হত্যা জনিত কারনে সরকার, সেনা বাহিনী, প্রশাসনের মধ্যে অসন্তÍষ ও বিশৃংখলা দেখা দেয়। এ সময় সম্প্রসারনবাদ ও ভারত পহ্নী আধিপত্যবাদীদের অপ তৎপরতা রোধে বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক সেনা-জনতার মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। সাতই নবেম্বরে সিপাহী বিপ্লবের মহানায়ক হিসাবে দেশ ও জাতির সম্মুখে হাজির হন সাচ্চা
জাতীয়তা বাদী জেনারেল জিয়া। সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার নিয়ে আমি কোড অব কন্ডাক্ট মোতাবেক সেনাবাহিনী ব্যেরাকে ফিরে যান। দেশে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে দেশ ও জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নিয়ে প্রেসিডেন্টি জিয়া সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। “বাকশালী” একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশে বহু
দলীয় গনতন্ত্র চালু করেন। রাজনৈতিক শুন্যতা পূরনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি, এন, পি প্রতিষ্টা করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতির সংকট কালে এগিয়ে এসেছেন। ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বাধীনতা উত্তর কালে তাঁর স্বল্প কালীন শাসন ছিল “স্বর্ন যুগ”। গনতন্ত্র ছিল, দূর্নীতি ছিল না, অর্থ নৈতিক স্থিতিশীল তাও শেয়ার বাজার চাঙ্গাঁছিল, পররাষ্ট্র নীতি ছিল মর্য্যাদার। বাহির্বিশে চীন থেকে সৌদি আরবে কমনওয়েলথ দেশ সমূহে সংস্কারে ঐতিহাসিক উনিশ দফা কর্ম সূচী নিয়ে গ্রাম বাংয়াল ছুটে গেছেন শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। উনিশ দফা ও খালকাটা কর্মসূচী নিয়ে সিলেটের “সিলামে” আসেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। আমরা তখন সিলেটের অধীনে একটি মহকুমা মাত্র। সিলেটের জেলা প্রশাসক সাহেবের আমন্ত্রনে আমরা দেশের প্রবীনতম আইনজীবী আবুল মোহিত চৌধুরীর নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল “সিলামের” সেই মহাসমাবেশে যোগ দেই। একটি অস্থায়ী ক্যেম্পে বিশ্রাম নিচ্ছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জেলারেল জিয়া। আমি পেশার সাথে সাংবাদিকতা, দেশ কর্ম ও গবেষনা কাজে আছি। নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করব। আমার কালোকোটের কৌলিন্য প্রায় ছ’ ফুট দীর্ঘ দেহ, একমাথা কাঁধ অব্দি বাবরি চুল এবং ডেইম কেয়ার মার্কা বিশাল গোঁফ সম্বল কওে “বিসমিল্লা” বলে ছুটলাম ক্যেম্প অভিমুখে। আমার হাবভাব ও ভাবভঙ্গীঁতে কোন বাধা বিপত্তি পেলাম না সোঝা ক্যেম্প সম্মুখে গিয়ে একটি কড়া সিভিল স্যেলিউট দিয়ে বল্লাম “মে আই কামইন স্যার”। “ইয়েস কামইন”-ভিতরে থেকে শুরু গম্ভীর আওয়াজ এলো। দুরু দুরু বুকে কক্ষে ঢুকে আবার হালকা সিভিল সেলিউট দিলাম। জিন্স এর ফুল পেন্ট, টি সার্ট। মাথায় ক্যেপ। চোখে সান গøাস-তাঁর প্রিয় ও পরিচিত বেশে বসে আছেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। আমি সাক্ষাত ও সময় নেয়ার
এসেছি। কোন দাবী দাওয়া নয় শুনে আশ্বাস্থ হলেন। মুক্তিযোদ্ধা এবং পেশাগত ভাবে আইনজীবী ও সাংবাদিক শুনে খুশী হলেন। দেশের জন্য কাজ করতে বল্লেন। একাত্তোরের অকুতভয় বীর, দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সাধারন পোষাকে দেখলাম। তাঁর সৌজন্য বোধ ও বিনয়াচরনে বিমুগ্ধ হলাম। এমন সহজ সরল সাদা মনের সৎ মানুষ মহত মানুষকে মাত্র ক’ বছর পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্মম ভাবে হত্যার পর পাওয়ার গেছে তার জীর্ন স্যুট কেইস. ছেড়া গেঞ্জি, হাফহাতা সাফারি, জায়জানাজ ও টুপি। চট্টগ্রাম হউসই এখন শহীদ জিয়া যাদুঘর। পরিদর্শন গিয়েছি, চেয়ে চেয়ে দেখেছি একজন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গেঁ কোন পাউন্ড ডলার, টাকা কড়ি ছিল না। অথছ পতিত প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীঁর শত শত কোটি টাকার মালিক, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে শত কোটি টাকার ব্যবসা বানিজ্য। দেশী বিদেশী চক্রান্ত কারীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলেও তাঁর দল ও খালেদা জিয়া গৃহ বধু থেকে দেশ নেত্রী হয়েছেন, একাধিক মেয়াদী দেশের প্রধান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, আজীবন ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। জেল ঝুলুম আওয়ামী নির্যাতন সহ্য করেছেন-আপোষ-আঁতাত করেন নি- ফলতঃ দেশ ও জাতি কর্তৃক আপোষ হীন দেশ নেত্রী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। শহীদ জিয়ার সু-সন্তন
এ প্রজন্মেও প্রিয় নেতা, আরেক জিয়া-তারেক রহমান। বি,এন,পির চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার নিয়ে দেশ ও জাতির আশা আকাংকার বিমূর্ত প্রতীক হিসাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বই তম, শুভ জন্ম দিনে তাঁর উজ্জল স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। মহান মালিক তাঁর বেহেশত নসিব করুন এই মোনাজাত সহ আমীন। ছুম্মা আমীন।
[মুক্তিযোদ্ধা। সভাপতি শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার, মৌলভীবাজার জেলা মাখা। আহŸায়ক, মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি।]

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

রমজানকে মুনাফা লাভের মাস হিসেবে বিবেচনা করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

উনিশে জানুয়ারী স্বাধীনতা মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বইতম শুভ জন্মঃ দোয়া, মাগফিরাতঃ স্মৃতি কথা

Update Time : 09:41:52 am, Monday, 19 January 2026


। মুজিবুর রহমান মুজিব।
উনিশে জানুয়ারী স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সাতই নবেম্বর সিপহী বিপ্লবের মহানায়ক, বাংলাদেশে বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবর্তক, সংস্কার মূলক ঐতিহাসিক উনিশ দফা কর্ম সূচীর প্রচেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বইতম শুভ জন্মদিন। উনিশ’শ একাশি সালে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন কালে বন্দও নগরি চট্টগ্রাম সফর করছিলেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া। কর্ম ব্যস্থ দিন শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘুমন্ত অবস্থায় সেনাবাহিনীর কতেক বিপথগামী কর্মকর্তা তাকে নির্মম ভাবে ব্রাশ ফায়ার করতঃ হত্যা করে। সফল রাষ্ট্রপতি শহীধ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সেই মৃত্যো ছিল নির্মম। নৃশংস। অসময়ের। আকস্মিক। সারা বাংলায়-টেকনাফ তেতুলিয়া-আওয়াজ উঠে হায় জিয়া। হায় জিয়া। সমগ্র দেশও জাতি সংসদ ভবন সংলগ্ন বিশাল এলাকায় স্মরনাতীত কালের বৃহত্তম জানাজার মাধ্যমে শ্রদ্ধাও শেষ বিদায় জানান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বগুড়ার এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সু-সন্তান।
একাত্তোর সালের অগ্নি ঝরা দিন গুলিতে দেশ ও জাতির যুগ সন্ধিক্ষনে স্বদেশ প্রেম ও স্বাদে শিকতায় উদ্ভোদ্ধ হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক চৌকশ মেজর হিসাবে চট্টগ্রামস্থ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে উচ্চ কন্ঠে উচ্চারক করেন-ঘোষনা কওে “আই মেজর জিয়া ডু হেয়ার বাই ডিকলিয়ার দে ওয়ার অব ইনডিপেনডেন্স”। মেজর জিয়ার এই ঘোষনা মুক্তিযুদ্ধের একটি দিক নির্দেশনা দেয়। মুক্তি যোদ্ধা মেজর জিয়া জেড ফোর্স এর অধিনায়ক এবং একটি সেক্টারের সেক্টার কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তার কালে “বীর উত্তম” জিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব ষ্টাফ নিযুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পূর্নঘটনে আত্বনিয়োগ করেন। স্বাধীনতা উত্তর কালে রাষ্ট পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতা, স্বজন প্রীতি, দূর্নীতি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্মক রকমের অবনতি, সরকারের আভ্যন্তরীন কলহ-কোন্দলের কারনে পনোরোই আগষ্টে মহামান্য রাষ্ট্রপতি শেক মুজিবের মর্মান্তিক মৃত্যো ক্ষমতাপাট পরিবর্তন, জেলে হত্যা জনিত কারনে সরকার, সেনা বাহিনী, প্রশাসনের মধ্যে অসন্তÍষ ও বিশৃংখলা দেখা দেয়। এ সময় সম্প্রসারনবাদ ও ভারত পহ্নী আধিপত্যবাদীদের অপ তৎপরতা রোধে বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক সেনা-জনতার মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। সাতই নবেম্বরে সিপাহী বিপ্লবের মহানায়ক হিসাবে দেশ ও জাতির সম্মুখে হাজির হন সাচ্চা
জাতীয়তা বাদী জেনারেল জিয়া। সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার নিয়ে আমি কোড অব কন্ডাক্ট মোতাবেক সেনাবাহিনী ব্যেরাকে ফিরে যান। দেশে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে দেশ ও জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নিয়ে প্রেসিডেন্টি জিয়া সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। “বাকশালী” একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশে বহু
দলীয় গনতন্ত্র চালু করেন। রাজনৈতিক শুন্যতা পূরনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি, এন, পি প্রতিষ্টা করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতির সংকট কালে এগিয়ে এসেছেন। ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বাধীনতা উত্তর কালে তাঁর স্বল্প কালীন শাসন ছিল “স্বর্ন যুগ”। গনতন্ত্র ছিল, দূর্নীতি ছিল না, অর্থ নৈতিক স্থিতিশীল তাও শেয়ার বাজার চাঙ্গাঁছিল, পররাষ্ট্র নীতি ছিল মর্য্যাদার। বাহির্বিশে চীন থেকে সৌদি আরবে কমনওয়েলথ দেশ সমূহে সংস্কারে ঐতিহাসিক উনিশ দফা কর্ম সূচী নিয়ে গ্রাম বাংয়াল ছুটে গেছেন শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। উনিশ দফা ও খালকাটা কর্মসূচী নিয়ে সিলেটের “সিলামে” আসেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। আমরা তখন সিলেটের অধীনে একটি মহকুমা মাত্র। সিলেটের জেলা প্রশাসক সাহেবের আমন্ত্রনে আমরা দেশের প্রবীনতম আইনজীবী আবুল মোহিত চৌধুরীর নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল “সিলামের” সেই মহাসমাবেশে যোগ দেই। একটি অস্থায়ী ক্যেম্পে বিশ্রাম নিচ্ছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জেলারেল জিয়া। আমি পেশার সাথে সাংবাদিকতা, দেশ কর্ম ও গবেষনা কাজে আছি। নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করব। আমার কালোকোটের কৌলিন্য প্রায় ছ’ ফুট দীর্ঘ দেহ, একমাথা কাঁধ অব্দি বাবরি চুল এবং ডেইম কেয়ার মার্কা বিশাল গোঁফ সম্বল কওে “বিসমিল্লা” বলে ছুটলাম ক্যেম্প অভিমুখে। আমার হাবভাব ও ভাবভঙ্গীঁতে কোন বাধা বিপত্তি পেলাম না সোঝা ক্যেম্প সম্মুখে গিয়ে একটি কড়া সিভিল স্যেলিউট দিয়ে বল্লাম “মে আই কামইন স্যার”। “ইয়েস কামইন”-ভিতরে থেকে শুরু গম্ভীর আওয়াজ এলো। দুরু দুরু বুকে কক্ষে ঢুকে আবার হালকা সিভিল সেলিউট দিলাম। জিন্স এর ফুল পেন্ট, টি সার্ট। মাথায় ক্যেপ। চোখে সান গøাস-তাঁর প্রিয় ও পরিচিত বেশে বসে আছেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। আমি সাক্ষাত ও সময় নেয়ার
এসেছি। কোন দাবী দাওয়া নয় শুনে আশ্বাস্থ হলেন। মুক্তিযোদ্ধা এবং পেশাগত ভাবে আইনজীবী ও সাংবাদিক শুনে খুশী হলেন। দেশের জন্য কাজ করতে বল্লেন। একাত্তোরের অকুতভয় বীর, দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সাধারন পোষাকে দেখলাম। তাঁর সৌজন্য বোধ ও বিনয়াচরনে বিমুগ্ধ হলাম। এমন সহজ সরল সাদা মনের সৎ মানুষ মহত মানুষকে মাত্র ক’ বছর পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্মম ভাবে হত্যার পর পাওয়ার গেছে তার জীর্ন স্যুট কেইস. ছেড়া গেঞ্জি, হাফহাতা সাফারি, জায়জানাজ ও টুপি। চট্টগ্রাম হউসই এখন শহীদ জিয়া যাদুঘর। পরিদর্শন গিয়েছি, চেয়ে চেয়ে দেখেছি একজন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গেঁ কোন পাউন্ড ডলার, টাকা কড়ি ছিল না। অথছ পতিত প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীঁর শত শত কোটি টাকার মালিক, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে শত কোটি টাকার ব্যবসা বানিজ্য। দেশী বিদেশী চক্রান্ত কারীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলেও তাঁর দল ও খালেদা জিয়া গৃহ বধু থেকে দেশ নেত্রী হয়েছেন, একাধিক মেয়াদী দেশের প্রধান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, আজীবন ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। জেল ঝুলুম আওয়ামী নির্যাতন সহ্য করেছেন-আপোষ-আঁতাত করেন নি- ফলতঃ দেশ ও জাতি কর্তৃক আপোষ হীন দেশ নেত্রী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। শহীদ জিয়ার সু-সন্তন
এ প্রজন্মেও প্রিয় নেতা, আরেক জিয়া-তারেক রহমান। বি,এন,পির চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার নিয়ে দেশ ও জাতির আশা আকাংকার বিমূর্ত প্রতীক হিসাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বই তম, শুভ জন্ম দিনে তাঁর উজ্জল স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। মহান মালিক তাঁর বেহেশত নসিব করুন এই মোনাজাত সহ আমীন। ছুম্মা আমীন।
[মুক্তিযোদ্ধা। সভাপতি শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার, মৌলভীবাজার জেলা মাখা। আহŸায়ক, মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি।]