ডেস্ক রিপোর্ট : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতেই যেতে হবে, আইসিসির এমন অনড় অবস্থানের মধ্যে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করে একটি বিশ্বকাপ না খেললে দেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।
আজ (২২ জানুয়ারি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে, যা নির্ধারণ করে দেবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার অতীতে বড় দলগুলোর বিশ্বকাপ বর্জনের উদাহরণ টেনে আনেন।
তিনি বলেন, ‘২০০৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কায় যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে যায়নি, নিউজিল্যান্ডও কেনিয়াতে (তথ্যসূত্র অনুযায়ী কেনিয়া) খেলতে যায়নি। এতে কি তাদের ক্রিকেট থেমে গেছে? বাংলাদেশ যদি একটি বিশ্বকাপ না খেলে, তবে এ দেশের ক্রিকেটও বন্ধ হবে না।’
এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, নিরাপত্তা ইস্যুতে ছাড় দিতে নারাজ সরকার।
যদিও একদিন আগেই আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে।
বাংলাদেশ না এলে তাদের বদলে অন্য দলকে (সম্ভাব্য স্কটল্যান্ড) অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম অবশ্য এখনো আশাবাদী। তিনি মনে করেন, আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বোর্ডের সিদ্ধান্ত মূলত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের ওপর আমরা কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আইসিসিকে জানানো হবে।’
গত বুধবার আইসিসির ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বাদে বাকি সব সদস্য দেশ ভারতের মাটিতে খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছে। আইসিসি দাবি করেছে, ভারতে খেলতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
তবে বাংলাদেশ ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অনড় ছিল, যা আইসিসি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজকের দিনটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনার পর সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 



























