6:35 pm, Tuesday, 12 May 2026

ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাজ্য গড়তে কাজ করব : ঋষি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের এখন ঐক্য ও স্থিতিশীলতা দরকার বলে মনে করছেন হবু প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, এ লক্ষ্যে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

দেশটির ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সময় সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনৈতিক নেতা।

যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন; সে হিসেবে এখন শুধু সুনাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা বাকি।

নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দুই মিনিটেরও কম সময়ের বক্তব্যে দেশ ও দলের মধ্যে ঐক্যের ডাক দেন সুনাক। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য একটি মহান দেশ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা একটি গভীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।’

সুনাক বলেন, ‘আমাদের এখন স্থিতিশীলতা এবং ঐক্য দরকার। আমি আমাদের দল এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব প্রশ্নে ভোট থেকে শেষ প্রতিদ্বন্দ্বী পেনি মর্ডান্ট সরে দাঁড়ানোয় বিনা ভোটেই টোরিদের নেতা হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এর আগে এই দৌড় থেকে নাম প্রত্যাহার করেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন লিজ ট্রাস। প্রধানমন্ত্রী পদে কেবল ৪৫ দিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সুনাকের জন্ম ১৯৮০ সালের ১২ মে পূর্ব ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে। কেনিয়ান বাবা এবং তানজেনিয়ান মায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় সুনাক। তার দাদা-দাদি ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০-এর দশকে সন্তানদের নিয়ে পূর্ব আফ্রিকা থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তারা।

চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে বরিস জনসনকে নেতার পদ থেকে প্রতিস্থাপনের দৌড়ে ছিলেন ঋষি সুনাক। রক্ষণশীল এমপিদের সর্বাধিক সমর্থন জিতে লিজ ট্রাসের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রচারে তিনি সতর্ক করেছিলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীর (ট্রাসের) কর পরিকল্পনা অর্থনীতির ক্ষতি করবে। তবে তার বার্তা পার্টির সদস্যদের কাছে অতটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি ২১ হাজার ভোটে হেরে যান।

সুনাক একবারই রিচমন্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ার নির্বাচনি এলাকা থেকে ২০১৫ সালে এমপি হয়েছিলেন। ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে খুব কম মানুষই তাকে সমর্থন করে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজকোষের চ্যান্সেলর হয়েছিলেন তিনি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ার একজন মানবিক, দূরদর্শী ও কর্মঠ প্রশাসকের বিদায়

ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাজ্য গড়তে কাজ করব : ঋষি

Update Time : 08:10:57 am, Tuesday, 25 October 2022

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের এখন ঐক্য ও স্থিতিশীলতা দরকার বলে মনে করছেন হবু প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, এ লক্ষ্যে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

দেশটির ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সময় সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনৈতিক নেতা।

যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন; সে হিসেবে এখন শুধু সুনাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা বাকি।

নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দুই মিনিটেরও কম সময়ের বক্তব্যে দেশ ও দলের মধ্যে ঐক্যের ডাক দেন সুনাক। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য একটি মহান দেশ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা একটি গভীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।’

সুনাক বলেন, ‘আমাদের এখন স্থিতিশীলতা এবং ঐক্য দরকার। আমি আমাদের দল এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব প্রশ্নে ভোট থেকে শেষ প্রতিদ্বন্দ্বী পেনি মর্ডান্ট সরে দাঁড়ানোয় বিনা ভোটেই টোরিদের নেতা হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এর আগে এই দৌড় থেকে নাম প্রত্যাহার করেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন লিজ ট্রাস। প্রধানমন্ত্রী পদে কেবল ৪৫ দিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সুনাকের জন্ম ১৯৮০ সালের ১২ মে পূর্ব ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে। কেনিয়ান বাবা এবং তানজেনিয়ান মায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় সুনাক। তার দাদা-দাদি ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০-এর দশকে সন্তানদের নিয়ে পূর্ব আফ্রিকা থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তারা।

চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে বরিস জনসনকে নেতার পদ থেকে প্রতিস্থাপনের দৌড়ে ছিলেন ঋষি সুনাক। রক্ষণশীল এমপিদের সর্বাধিক সমর্থন জিতে লিজ ট্রাসের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রচারে তিনি সতর্ক করেছিলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীর (ট্রাসের) কর পরিকল্পনা অর্থনীতির ক্ষতি করবে। তবে তার বার্তা পার্টির সদস্যদের কাছে অতটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি ২১ হাজার ভোটে হেরে যান।

সুনাক একবারই রিচমন্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ার নির্বাচনি এলাকা থেকে ২০১৫ সালে এমপি হয়েছিলেন। ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে খুব কম মানুষই তাকে সমর্থন করে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজকোষের চ্যান্সেলর হয়েছিলেন তিনি।