8:27 pm, Saturday, 16 May 2026

ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর জন্মদিন আজ

ডেস্ক রিপোর্ট :: উচ্চাঙ্গসংগীতের এক অমর নাম ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। তিনি ১৮৮৪ সালের ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিবপুর গ্রামের বিখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সে আয়েত আলী অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে তালিম গ্রহণ শুরু করেন।

টানা সাত বছর এ সাধনা চলে। এরপর তিনি ভারতের মাইহারে গিয়ে অন্য অগ্রজ আলাউদ্দিন খাঁর কাছে তালিম নেন। প্রথমে তিনি সেতার, এরপর সুরবাহার শেখেন। আয়েত আলীর বাদনে মুগ্ধ হয়ে মাইহারের মহারাজ তাঁর আসন নির্দিষ্ট করেন অগ্রজ আলাউদ্দিন খাঁর পাশেই।

পরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ রামপুরে নিজ গুরু ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে পাঠান আয়েত আলী খাঁকে। অনেক ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরীক্ষা দিয়ে তিনি ওস্তাদ ওয়াজিরের শিষ্যত্ব লাভ করেন। গুরুর আদেশে কর্মজীবন শুরু করেন মাইহার রাজ্যে সভাবাদক হিসেবে। সেখানে দুই ভাই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর তত্ত্বাবধানে প্রাচ্য দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দিয়ে একটি অর্কেস্ট্রা দল গঠন করেন। তাঁরা প্রমাণ করেন, ভারতীয় কনসার্ট পশ্চিমা অর্কেস্ট্রার চেয়ে কম নয়।

১৯৩৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে তিনি শান্তিনিকেতনে যান এবং বিশ্বভারতীর যন্ত্রসংগীত বিভাগের প্রধান পদে যোগ দেন। দুই ভাই মিলে একটি বাদ্যযন্ত্রের কারখানা করেন ‘আলম ব্রাদার্স’ নামে। তাঁরা সরোদ যন্ত্রের আধুনিক রূপ প্রদানের পাশাপাশি ‘চন্দ্র সারৎ’, ‘মন্ত্রণাদ’ ও ‘মনোহরা’ নামে বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবক।

তিনি বারিষ, হেমন্তিকা, আওল-বসন্ত, ওমর-সোহাগ, শিব-বেহাগ, বসন্ত ভৈরো প্রভৃতি রাগেরও স্রষ্টা। বিশুদ্ধ রাগসংগীতের প্রসারে আয়েত আলী খাঁ কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘আলাউদ্দিন মিউজিক কলেজ’ নামে দুটি সংগীত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গেছেন। গভর্নর পদক, পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (মরণোত্তর) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর) তিনি ভূষিত হয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ পরিবহন দ্বন্দ্ব চরমে: সড়ক অবরোধ: অবৈধভাবে রুট পরিচালনায় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি শত কোটি টাকা

ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর জন্মদিন আজ

Update Time : 08:09:15 am, Monday, 26 April 2021

ডেস্ক রিপোর্ট :: উচ্চাঙ্গসংগীতের এক অমর নাম ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। তিনি ১৮৮৪ সালের ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিবপুর গ্রামের বিখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সে আয়েত আলী অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে তালিম গ্রহণ শুরু করেন।

টানা সাত বছর এ সাধনা চলে। এরপর তিনি ভারতের মাইহারে গিয়ে অন্য অগ্রজ আলাউদ্দিন খাঁর কাছে তালিম নেন। প্রথমে তিনি সেতার, এরপর সুরবাহার শেখেন। আয়েত আলীর বাদনে মুগ্ধ হয়ে মাইহারের মহারাজ তাঁর আসন নির্দিষ্ট করেন অগ্রজ আলাউদ্দিন খাঁর পাশেই।

পরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ রামপুরে নিজ গুরু ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে পাঠান আয়েত আলী খাঁকে। অনেক ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরীক্ষা দিয়ে তিনি ওস্তাদ ওয়াজিরের শিষ্যত্ব লাভ করেন। গুরুর আদেশে কর্মজীবন শুরু করেন মাইহার রাজ্যে সভাবাদক হিসেবে। সেখানে দুই ভাই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর তত্ত্বাবধানে প্রাচ্য দেশীয় বাদ্যযন্ত্র দিয়ে একটি অর্কেস্ট্রা দল গঠন করেন। তাঁরা প্রমাণ করেন, ভারতীয় কনসার্ট পশ্চিমা অর্কেস্ট্রার চেয়ে কম নয়।

১৯৩৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে তিনি শান্তিনিকেতনে যান এবং বিশ্বভারতীর যন্ত্রসংগীত বিভাগের প্রধান পদে যোগ দেন। দুই ভাই মিলে একটি বাদ্যযন্ত্রের কারখানা করেন ‘আলম ব্রাদার্স’ নামে। তাঁরা সরোদ যন্ত্রের আধুনিক রূপ প্রদানের পাশাপাশি ‘চন্দ্র সারৎ’, ‘মন্ত্রণাদ’ ও ‘মনোহরা’ নামে বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবক।

তিনি বারিষ, হেমন্তিকা, আওল-বসন্ত, ওমর-সোহাগ, শিব-বেহাগ, বসন্ত ভৈরো প্রভৃতি রাগেরও স্রষ্টা। বিশুদ্ধ রাগসংগীতের প্রসারে আয়েত আলী খাঁ কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘আলাউদ্দিন মিউজিক কলেজ’ নামে দুটি সংগীত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গেছেন। গভর্নর পদক, পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (মরণোত্তর) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর) তিনি ভূষিত হয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।