5:22 pm, Monday, 11 May 2026

কমলগঞ্জে তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জে গ্রীষ্মের প্রখর তাপে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চলমান তাপদাহে পুড়ছে প্রকৃতি, সূর্যের প্রচন্ড তাপ আর বাতাস যেনো আগুনে ছোঁয়া। সকাল থেকেই সূর্য তেঁতে থাকে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। এমন একটি অবস্থায় প্রাণীক‚ল ও জনজীবনে উঠেছে চরম হাঁসফাঁস। মানুষ আকাশের দিকে দুই চোখে চেয়ে থাকে একটু বৃষ্টির আশায়।
এবার গ্রীষ্মের শুরু থেকেই কমলগঞ্জে তেমন বৃষ্টির দেখা যায়নি। তাপদাহে প্রাণীক‚লেও নেমেছে হাঁসফাঁস। গৃহপালিত পশুপাখিরা গরম থেকে একটু শীতল স্বস্তি পেতে পুকুর বা ডোবায় নেমে বসে আছে। করোনাকালীন লকডাউন চলছে পাশাপাশি জরুরী কাজ ছাড়া ঘরের বাহিরে যাচ্ছে না মানুষ। অনাবৃষ্টি ও সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারায় প্রচন্ড তাপদাহে রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল ৩টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমকি ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কষ্টের শেষ নেই খেটে খাওয়া দিনমজুর ও চা শ্রমিকদের।
এমনিতেই করোনাকালীন সময়ের লকডাউন, তারপরে তাপদাহ বাহিরে তেমন দেখা যায়নি অনেক দিন মজুর ও শ্রমিকদের। অনাহারে থাকা মানুষগুলো বাসায় বসে থাকলে সংসার চলেনা তারা কাজ না পেয়ে এই তাপদহে দিশেহারা ছুটছে। চরম রৌদ্রের উত্তাপে কাজকর্ম জীবিকা নির্বাহ করা অনেক কষ্টকর হয়ে গেছে। তাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। শমশেরনগরের রিকশাচালক বিকাশ শব্দকর জানায়, সংসারের খাবার সংগ্রহের জন্য রোদ কি আর ঝর বাদল কি! কাজ না করলে অনাহারে থাকতে হবে।
শহরের ইট কাঠের খাচার ভিতর থাকা গৃহিনীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ফ্যানের গরম বাতাস আর মাঝে মধ্যে লোডশেডিং কষ্টের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া জানান, গত কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের হিটস্টোকের সম্ভঅবনা রয়েছে। হাসপাতালে পেটের পপিড়াজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। রোগীদের মধ্যে বয়স্করা বেশী। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গরমে বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং করোনা প্রতিরোধে সকল স্বাস্ব্যবিধি মেনে চলতে বলেছেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

পুলিশি হয়রানি ও ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে ফারিয়ার মানববন্ধন

কমলগঞ্জে তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ

Update Time : 01:28:22 pm, Monday, 26 April 2021

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জে গ্রীষ্মের প্রখর তাপে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চলমান তাপদাহে পুড়ছে প্রকৃতি, সূর্যের প্রচন্ড তাপ আর বাতাস যেনো আগুনে ছোঁয়া। সকাল থেকেই সূর্য তেঁতে থাকে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। এমন একটি অবস্থায় প্রাণীক‚ল ও জনজীবনে উঠেছে চরম হাঁসফাঁস। মানুষ আকাশের দিকে দুই চোখে চেয়ে থাকে একটু বৃষ্টির আশায়।
এবার গ্রীষ্মের শুরু থেকেই কমলগঞ্জে তেমন বৃষ্টির দেখা যায়নি। তাপদাহে প্রাণীক‚লেও নেমেছে হাঁসফাঁস। গৃহপালিত পশুপাখিরা গরম থেকে একটু শীতল স্বস্তি পেতে পুকুর বা ডোবায় নেমে বসে আছে। করোনাকালীন লকডাউন চলছে পাশাপাশি জরুরী কাজ ছাড়া ঘরের বাহিরে যাচ্ছে না মানুষ। অনাবৃষ্টি ও সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারায় প্রচন্ড তাপদাহে রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল ৩টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমকি ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কষ্টের শেষ নেই খেটে খাওয়া দিনমজুর ও চা শ্রমিকদের।
এমনিতেই করোনাকালীন সময়ের লকডাউন, তারপরে তাপদাহ বাহিরে তেমন দেখা যায়নি অনেক দিন মজুর ও শ্রমিকদের। অনাহারে থাকা মানুষগুলো বাসায় বসে থাকলে সংসার চলেনা তারা কাজ না পেয়ে এই তাপদহে দিশেহারা ছুটছে। চরম রৌদ্রের উত্তাপে কাজকর্ম জীবিকা নির্বাহ করা অনেক কষ্টকর হয়ে গেছে। তাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। শমশেরনগরের রিকশাচালক বিকাশ শব্দকর জানায়, সংসারের খাবার সংগ্রহের জন্য রোদ কি আর ঝর বাদল কি! কাজ না করলে অনাহারে থাকতে হবে।
শহরের ইট কাঠের খাচার ভিতর থাকা গৃহিনীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ফ্যানের গরম বাতাস আর মাঝে মধ্যে লোডশেডিং কষ্টের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া জানান, গত কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের হিটস্টোকের সম্ভঅবনা রয়েছে। হাসপাতালে পেটের পপিড়াজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। রোগীদের মধ্যে বয়স্করা বেশী। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গরমে বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং করোনা প্রতিরোধে সকল স্বাস্ব্যবিধি মেনে চলতে বলেছেন।