5:08 am, Sunday, 19 April 2026

কমলগঞ্জে নদী ও ছড়ায় অবৈধ বাঁশের খাঁটি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:  কমলগঞ্জে লাঘাটা, খিন্নী ও পলক নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের খাঁটি (বেড়া) দিয়ে চলছে মাছ আহরন। ফলে নদীতে মাছের প্রজনন ও গতি প্রবাহে মারাত্মক বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নদী ও জলাশয়ে হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন। উপজেলার নদী, ছড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাঁশের খাঁটি বসানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লাঘাটা নদীটি ঝোপজঙ্গলে ও পলিবালি জমে ভরাট হওয়ায় এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে গত বছরে পুন:খনন কাজ সম্পন্ন হয়। খনন কাজ শেষ হতে না হতেই একটি অসাধু মাছ শিকারী চক্র নদীর শ্রীরামপুর, গোপীনগর এলাকায় অবৈধ বাঁশের খাঁটি স্থাপন করে মাছ শিকার করছে। একইভাবে মুন্সীবাজার নারায়নক্ষেত্র এলাকায় খিন্নি ছড়া ও পলক নদীতেও কয়েকটি বাঁশের খাঁটি বসানো হয়েছে। ফলে মাছের অবাধ গতি ও প্রবাহে এবং মৎস্য প্রজননে মারাত্মক বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাঁটিতে পুতে রাখা খাঁচায় আটকে মাছ, ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। কৃষকদেরও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গেল মৎস্য সপ্তাহেও অবৈধ বাঁশের খাটি দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ হয়নি।
পতনউষারের কৃষক ফারুক মিয়া, মুন্সিবাজারের রায়হান রাজু বলেন, আগে আমাদের নদী ও হাওরে প্রচুর দেশীয় মাছের উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন মাছের বিরানভূমি চলছে। কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় নদী, ছড়ায তারা বাঁশের খাটি স্থাপন করে মাছ শিকার করলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তারা আরও বলেন, এই স্বার্থাম্মেষী মহলের অবৈধ পন্থায় মাছ শিকার বন্ধ করা যেত তাহলে চলতি মৌসুমে মনু নদীর মাছে লাঘাটা নদী ভরপুর হয়ে উঠতো। এভাবে স্থানে স্থানে বাঁশের দেয়ার কারণে মাছ উজানে উঠতে পারছে না।
কমলগঞ্জের হাওর ও নদীরক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান তবারক বলেন, এসব বিষয় নিত্যনৈমিত্তিক। কাউকে বলেও লাভ হয় না। যে যার মতো নদী, জলাশয় ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করছে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, এটি কোন অবস্থাতেই ঠিক নয়। গুরুত্ব সহকারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ার হাওরে বোরো ধান কাটার মহোৎসব

কমলগঞ্জে নদী ও ছড়ায় অবৈধ বাঁশের খাঁটি

Update Time : 12:06:09 pm, Tuesday, 14 September 2021

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:  কমলগঞ্জে লাঘাটা, খিন্নী ও পলক নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের খাঁটি (বেড়া) দিয়ে চলছে মাছ আহরন। ফলে নদীতে মাছের প্রজনন ও গতি প্রবাহে মারাত্মক বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নদী ও জলাশয়ে হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন। উপজেলার নদী, ছড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাঁশের খাঁটি বসানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লাঘাটা নদীটি ঝোপজঙ্গলে ও পলিবালি জমে ভরাট হওয়ায় এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে গত বছরে পুন:খনন কাজ সম্পন্ন হয়। খনন কাজ শেষ হতে না হতেই একটি অসাধু মাছ শিকারী চক্র নদীর শ্রীরামপুর, গোপীনগর এলাকায় অবৈধ বাঁশের খাঁটি স্থাপন করে মাছ শিকার করছে। একইভাবে মুন্সীবাজার নারায়নক্ষেত্র এলাকায় খিন্নি ছড়া ও পলক নদীতেও কয়েকটি বাঁশের খাঁটি বসানো হয়েছে। ফলে মাছের অবাধ গতি ও প্রবাহে এবং মৎস্য প্রজননে মারাত্মক বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাঁটিতে পুতে রাখা খাঁচায় আটকে মাছ, ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। কৃষকদেরও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গেল মৎস্য সপ্তাহেও অবৈধ বাঁশের খাটি দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ হয়নি।
পতনউষারের কৃষক ফারুক মিয়া, মুন্সিবাজারের রায়হান রাজু বলেন, আগে আমাদের নদী ও হাওরে প্রচুর দেশীয় মাছের উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন মাছের বিরানভূমি চলছে। কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় নদী, ছড়ায তারা বাঁশের খাটি স্থাপন করে মাছ শিকার করলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তারা আরও বলেন, এই স্বার্থাম্মেষী মহলের অবৈধ পন্থায় মাছ শিকার বন্ধ করা যেত তাহলে চলতি মৌসুমে মনু নদীর মাছে লাঘাটা নদী ভরপুর হয়ে উঠতো। এভাবে স্থানে স্থানে বাঁশের দেয়ার কারণে মাছ উজানে উঠতে পারছে না।
কমলগঞ্জের হাওর ও নদীরক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান তবারক বলেন, এসব বিষয় নিত্যনৈমিত্তিক। কাউকে বলেও লাভ হয় না। যে যার মতো নদী, জলাশয় ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করছে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, এটি কোন অবস্থাতেই ঠিক নয়। গুরুত্ব সহকারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।