অর্জুন দেবনাথ : কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয় প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী শতভূজা (১০০ হাতবিশিষ্ট) বাসন্তী পূজা ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী,দশমী পূজার শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই বাসন্তী পূজার সমাপ্ত হল। এ বছর ১৫তম বার্ষিক বাসন্তী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর অনাড়ম্বর পরিবেশে পালন করা হচ্ছে এ পূজা।
জানা গেছে, গত রবিবার ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার দশমী পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে বাসন্তী পূজার সমাপ্ত হল। করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। সরকারি নির্দেশনা মেনে সাত্ত্বিকভাবে পূজা অর্চনা করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার মহানবমীতে দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কিছুসংখ্যক ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটেছে মন্ডপে। করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভক্ত সমাগম কম। মাস্ক ছাড়া ভক্তদের মন্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ভক্তরা দূরত্ব বজায় রেখে প্রণাম ও প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করতেও দেখা গেছে। অন্যান্য বছর বিশাল মেলার আয়োজন করা হলেও এ বছর মেলার আয়োজন করা হয়নি। তাছাড়া আলোকসজ্জাও দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার দশমী পূজা শেষে বির্সজনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হবে।
দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয় মন্ডপে শতভূজা বাসন্তী পূজা দেখতে আসা অনামিকা শর্মা , অরুণ জ্যোতি শর্মা,জিতেন্দ্র পাল জিতু ও উজ্জল কুমার সিংহ ও অনিতা মন্ডল,প্রণতি রানী মালাকার ওই এলাকার বাসিন্দা প্লাবন পাল জানান, করোনার কারণে এ বছর পূজার আমেজ কমে গেছে। অন্যান্য বছর এখানে এলে অনেক ভিড় সামাল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হতো। কিন্তু এ বছর মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় সহজেই প্রবেশ করে প্রতিমা দেখা যাচ্ছে। প্রণামে গিয়েও তাড়াহুড়ো করতে হচ্ছে না।
দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয়ের সভাপতি সত্যেন্দ্র কুমার পাল (নান্টু) জানান, সিলেট বিভাগের মধ্যে এখানেই শতভূজা শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজা করা হয়। এ বছর ১৫তম বার্ষিক বাসন্তী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে সাত্ত্বিকভাবে পূজা-অর্চনা করা হচ্ছে। আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। এমনকি এ বছর ঢাকের বাজনাও বাজানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















