2:56 am, Monday, 19 January 2026

কমলগঞ্জে রেলের জমি দখল ও ভেজাল মসলার ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন মুহিত মিয়া

আব্দুর রাজ্জাক রাজা :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের বিতর্কিত অসাধু ব্যবসায়ী সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়দানকারী মুহিত মিয়া নিঃস্ব অবস্থা থেকে বিপুল সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার এই বিপুল সম্পদ অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয় জনমনে প্রশ্নের অন্ত নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়,উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কনদু মিয়ার ছেলে মুহিত মিয়া। পূর্বে মুহিতের পিতা কনদু মিয়ার ৮শতক জমিতে শুধু ভিটে ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। পিতা জীবিকার তাগিদে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। যাদের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো তারাই কিনা অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিপুল সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তাদের উত্থান ও বিত্তশালী হওয়ার উৎস ঘিরে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,মুহিত বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। সেই সুবাধে সাবেক কৃষি মন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড.মো.আব্দুস শহীদ ও তার ছোট ভাইদের সাথে গড়ে ওঠে ঘনিষ্টতা ও গভীর সম্পর্ক। তাদের সাথে ছিল ওঠা বসা। এই ওঠা-বসা,ঘনিষ্টতা ও গভীর সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে চতুর মুহিত মিয়া এসময় এলাকায় পরিচয় দিতে শুরু করেন“মন্ত্রীর ভাগিনা”বলে। আওয়ামী লীগের প্রভাব,কৃষি মন্ত্রী ও তার ভাইদের আশ্রয়-প্রশয়ের সুবাধে মুহিত পেয়ে যান“আলাদিনের চেরাগ”। এলাকার বির্তকিত ও অসাধু ব্যবসায়ী মন্ত্রী পরিবারের আর্শীবাদে হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। মন্ত্রী পরিবারের ছায়ার কারনে তার অনৈতিক ব্যবসা কেউ বন্ধ করতে পারেনি। কেউ বন্ধ করার চেষ্টা করলে তার ওপর নেমে আসতো “শাস্তির খড়ক”। তাই ভয়ে আর কেউ তার অবৈধ ব্যবসায় বাঁধা দিতে সাহস দেখাতো না। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শমশেরনগর রেলস্টেশনে পাশের লালগুদামের গোডাউনের বিপরীত দিকে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জায়গা জোর পূর্বক দখল করে কয়েকটি দোকান কোটা তৈরী করেন। তৈরীকৃত দোকানকোটা ভাড়া দেন। এছাড়া,শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া মুহিতের ব্যবসায়িক পার্টনার। ব্যবসায়িক পার্টনার রাসেলের বাড়িতে তৈরী করেন মসলা ও ঘি তৈরীর “ ঘরোয়া কারখানা”। ঘরোয়া কারখানায় মুরগীর ফিড দিয়ে হলুদ,মরিচ,ধনিয়া তৈরী করে বাজারজাত করেন। “বিসমিল্লাহ” মসলা মিলের মাধ্যমে মধু ব্র্যান্ড ১২ মসলা,মধু ব্র্যান্ড মিক্স মসলা,সশ,রুবি মসলা,হিরো বাটার, হিরো ঘি,হিরো ক্রিম,তীর ঘি,নুরজাহান ঘি,নুরজাহান মসলা বিভিন্ন কোম্পানির নামে প্রস্তুত করেন। তাদের তৈরীকৃত পণ্যের বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই মানহীন এসব ভোগ্যপন্য বাজারজাত করেন। তাদের তৈরীকৃত নিম্নমানের সামগ্রী সমুহ মৌলভীবাজার,ভানুগাছ,শ্রীমঙ্গল,নবীগঞ্জ,ফেঞ্চুগঞ্জ,আদমপুর সহ বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদেরকে কাজে লাগিয়ে পণ্য সমুহ বাজারজাত করতেন। এই জমি দখল ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমেই কয়েক বছরে তিনি ১৫/১৬ কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। রেলের জমি উদ্ধার ও অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্টানে প্রশাসনিকভাবে অভিযান করা হলে মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয় দেয়ায় অভিযানিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই চলে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,প্রায় ৩ বছর পূর্বে তৎকালীন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক মুরগীর খাদ্য মিশ্রিত করে তৈরী করা হলুদ,মরিচ,ধনিয়া জব্দ করে কারখানাটি সীলগালা করে দেন। পরে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে ব্যবসাটি পুণরায় সচল হয়ে যায়। জানা গেছে.ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে কনদু মিয়ার ছোট ছেলে লেবু মিয়া পর্তুগাল ও বড় ছেলে মুমিন মিয়াকে সৌদিআরব পাঠানো হয়েছে। রয়েছে রাধানগর গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি ও প্রচুর জমি জমা। এসব অনিয়ম স্থানীয় মানুষ জনের চোখের সামনে ঘটলে ও মুহিতের প্রভাবের কারনে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। যদি ও কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন তাদের উপর নেমে আসে হামলা ও মামলার খড়গ। তাই আওয়ামী লীগ শাসনামলে এলাকার মানুষজন ভয়ে মুখ খুলতোনা। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, মানুষের খাবারের অযোগ্য পণ্য সমুহ বাজারজাত করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে মুহিত ও তার সহযোগিরা আর্থিকভাবে লাভবান হলে ও মানুষজনেরা নানা রোগব্যাধিসহ প্রাণহানী ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অচিরেই প্রশাসনিক ভাবে সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে রেলেওয়ের জমি উদ্ধারসহ নিন্মমানের মসলা ও ঘি এর কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। মুিহত মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘনিষ্টজনরা বলেন,তাদের কোন অবৈধ ব্যবসা নেই। সব কাগজপত্র ঠিক আছে। রেলওয়ের জমিও লিজ আছে। একটি কুচক্রী মহল ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য অপ-প্রচার করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন,সরেজমিন তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে রেলের জমি দখল ও ভেজাল মসলার ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন মুহিত মিয়া

Update Time : 10:16:34 am, Sunday, 20 October 2024

আব্দুর রাজ্জাক রাজা :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের বিতর্কিত অসাধু ব্যবসায়ী সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়দানকারী মুহিত মিয়া নিঃস্ব অবস্থা থেকে বিপুল সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার এই বিপুল সম্পদ অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয় জনমনে প্রশ্নের অন্ত নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়,উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কনদু মিয়ার ছেলে মুহিত মিয়া। পূর্বে মুহিতের পিতা কনদু মিয়ার ৮শতক জমিতে শুধু ভিটে ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। পিতা জীবিকার তাগিদে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। যাদের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো তারাই কিনা অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিপুল সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তাদের উত্থান ও বিত্তশালী হওয়ার উৎস ঘিরে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,মুহিত বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। সেই সুবাধে সাবেক কৃষি মন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড.মো.আব্দুস শহীদ ও তার ছোট ভাইদের সাথে গড়ে ওঠে ঘনিষ্টতা ও গভীর সম্পর্ক। তাদের সাথে ছিল ওঠা বসা। এই ওঠা-বসা,ঘনিষ্টতা ও গভীর সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে চতুর মুহিত মিয়া এসময় এলাকায় পরিচয় দিতে শুরু করেন“মন্ত্রীর ভাগিনা”বলে। আওয়ামী লীগের প্রভাব,কৃষি মন্ত্রী ও তার ভাইদের আশ্রয়-প্রশয়ের সুবাধে মুহিত পেয়ে যান“আলাদিনের চেরাগ”। এলাকার বির্তকিত ও অসাধু ব্যবসায়ী মন্ত্রী পরিবারের আর্শীবাদে হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। মন্ত্রী পরিবারের ছায়ার কারনে তার অনৈতিক ব্যবসা কেউ বন্ধ করতে পারেনি। কেউ বন্ধ করার চেষ্টা করলে তার ওপর নেমে আসতো “শাস্তির খড়ক”। তাই ভয়ে আর কেউ তার অবৈধ ব্যবসায় বাঁধা দিতে সাহস দেখাতো না। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শমশেরনগর রেলস্টেশনে পাশের লালগুদামের গোডাউনের বিপরীত দিকে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জায়গা জোর পূর্বক দখল করে কয়েকটি দোকান কোটা তৈরী করেন। তৈরীকৃত দোকানকোটা ভাড়া দেন। এছাড়া,শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া মুহিতের ব্যবসায়িক পার্টনার। ব্যবসায়িক পার্টনার রাসেলের বাড়িতে তৈরী করেন মসলা ও ঘি তৈরীর “ ঘরোয়া কারখানা”। ঘরোয়া কারখানায় মুরগীর ফিড দিয়ে হলুদ,মরিচ,ধনিয়া তৈরী করে বাজারজাত করেন। “বিসমিল্লাহ” মসলা মিলের মাধ্যমে মধু ব্র্যান্ড ১২ মসলা,মধু ব্র্যান্ড মিক্স মসলা,সশ,রুবি মসলা,হিরো বাটার, হিরো ঘি,হিরো ক্রিম,তীর ঘি,নুরজাহান ঘি,নুরজাহান মসলা বিভিন্ন কোম্পানির নামে প্রস্তুত করেন। তাদের তৈরীকৃত পণ্যের বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই মানহীন এসব ভোগ্যপন্য বাজারজাত করেন। তাদের তৈরীকৃত নিম্নমানের সামগ্রী সমুহ মৌলভীবাজার,ভানুগাছ,শ্রীমঙ্গল,নবীগঞ্জ,ফেঞ্চুগঞ্জ,আদমপুর সহ বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদেরকে কাজে লাগিয়ে পণ্য সমুহ বাজারজাত করতেন। এই জমি দখল ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমেই কয়েক বছরে তিনি ১৫/১৬ কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। রেলের জমি উদ্ধার ও অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্টানে প্রশাসনিকভাবে অভিযান করা হলে মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয় দেয়ায় অভিযানিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই চলে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,প্রায় ৩ বছর পূর্বে তৎকালীন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক মুরগীর খাদ্য মিশ্রিত করে তৈরী করা হলুদ,মরিচ,ধনিয়া জব্দ করে কারখানাটি সীলগালা করে দেন। পরে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে ব্যবসাটি পুণরায় সচল হয়ে যায়। জানা গেছে.ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে কনদু মিয়ার ছোট ছেলে লেবু মিয়া পর্তুগাল ও বড় ছেলে মুমিন মিয়াকে সৌদিআরব পাঠানো হয়েছে। রয়েছে রাধানগর গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি ও প্রচুর জমি জমা। এসব অনিয়ম স্থানীয় মানুষ জনের চোখের সামনে ঘটলে ও মুহিতের প্রভাবের কারনে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। যদি ও কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন তাদের উপর নেমে আসে হামলা ও মামলার খড়গ। তাই আওয়ামী লীগ শাসনামলে এলাকার মানুষজন ভয়ে মুখ খুলতোনা। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, মানুষের খাবারের অযোগ্য পণ্য সমুহ বাজারজাত করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে মুহিত ও তার সহযোগিরা আর্থিকভাবে লাভবান হলে ও মানুষজনেরা নানা রোগব্যাধিসহ প্রাণহানী ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অচিরেই প্রশাসনিক ভাবে সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে রেলেওয়ের জমি উদ্ধারসহ নিন্মমানের মসলা ও ঘি এর কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। মুিহত মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘনিষ্টজনরা বলেন,তাদের কোন অবৈধ ব্যবসা নেই। সব কাগজপত্র ঠিক আছে। রেলওয়ের জমিও লিজ আছে। একটি কুচক্রী মহল ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য অপ-প্রচার করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন,সরেজমিন তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।