11:02 pm, Thursday, 14 May 2026

কাজের অনুমোদনই হয়নি এখনও: ফুলতলা-বটুলি রাস্তার কাজ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা

বড়লেখা প্রতিনিধি : জুড়ীর ফুলতলা-বটুলি সড়কের মজবুতকরণ ও বর্ধিতকরণ কাজ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও মন্তব্য। অথচ রাস্তার যে স্থানটি নিয়ে এতো হৈচৈ, সে ৪ কিলোমিটার স্থানের বর্ধিতকরণ কাজের এখনও অনুমোদনই হয়নি।

এদিকে মুল প্রকল্পের ২২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হচ্ছে না নির্ধারিত সময়ে। করোনা মহামারীর জন্য শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তারা প্রকল্পের ৫৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে। অপরদিকে প্রকল্পের শেষ অংশের ৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে দূর্ভোগ পোয়াচ্ছেন এলাকাবাসী। আর এতে মহল বিশেষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় তুলছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে তারা এ অংশের বর্ধিতকরণ কাজের অনুমোদনই পায়নি, কাজ করবে কিভাবে। সওজের অনুমোদনহীন অংশ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় চালানো অভিযোগকে অপপ্রচার, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলেছেন মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন।

জানা গেছে, জুড়ী উপজেলা সদর থেকে ফুলতলা-বটুলি শুল্ক স্টেশন পর্যন্ত ভাঙাচোরা প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কটি ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্থ ও মজুবতকরণের কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই বছরে কাজ সম্পন্নের চুক্তিতে ২০১৯ সালের ফেব্রæয়ারীতে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। পরে সড়কের ১০ কিলোমিটার জায়গার কাজের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় বড়লেখার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। গত কয়েক দিন ধরে সওজের অনুমোদনহীন ৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য স্থানীয় ওই ঠিকাদারকে দায়ী করে সোস্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মুল ঠিকাদার ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন লিমিটেডের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান জানান, ওয়ার্কঅর্ডার পেয়েই তারা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ করার জন্য তারা স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিযুক্ত করেছে। ওই অংশের শেষ দিকের কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় বর্ধিতকরণ ছাড়া রাস্তাটি করা যাচ্ছে না। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ বর্ধিত এ কাজের অনুমোদন দেয়নি। অনুমোদনহীন অংশের কাজ না হওয়ায় একটি মহল আমাদের নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকিতে গুনগত মান নিয়ন্ত্রণ করেই ইতিমধ্যে তারা প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন। শুরুতেই করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় সময় বর্ধিত করা হয়। এবছরের ১৪ এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার কারণে জনবল ও মালামাল সংকটে বর্ধিত সময়েও কাজ সম্পন্ন না হওয়ার আশংকায় ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন জানান, জুড়ী-ফুলতলা-বটুলি রাস্তা মজবুতকরণ ও প্রশস্থকরণ প্রকল্পের (২২ কিলোমিটার) শেষ অংশের ৪ কিলোমিটারের মাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এ রাস্তা বর্ধিতকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। গত ২ মে সড়ক ভবনে এ সংক্রান্ত চিঠিও প্রেরণ করেছেন, এখনও রিপ্লাই আসেনি। ঠিকাদারের সাথে চুক্তির আগেই সোস্যাল মিডিয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা, তুমুল সমালোচনা-মন্তব্য করা, রাস্তায় ধানের চারা রোপন ¯্রফে অপপ্রচার, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কাজের অনুমোদনই হয়নি এখনও: ফুলতলা-বটুলি রাস্তার কাজ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা

Update Time : 04:25:26 pm, Friday, 21 May 2021

বড়লেখা প্রতিনিধি : জুড়ীর ফুলতলা-বটুলি সড়কের মজবুতকরণ ও বর্ধিতকরণ কাজ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও মন্তব্য। অথচ রাস্তার যে স্থানটি নিয়ে এতো হৈচৈ, সে ৪ কিলোমিটার স্থানের বর্ধিতকরণ কাজের এখনও অনুমোদনই হয়নি।

এদিকে মুল প্রকল্পের ২২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হচ্ছে না নির্ধারিত সময়ে। করোনা মহামারীর জন্য শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তারা প্রকল্পের ৫৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে। অপরদিকে প্রকল্পের শেষ অংশের ৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে দূর্ভোগ পোয়াচ্ছেন এলাকাবাসী। আর এতে মহল বিশেষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় তুলছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে তারা এ অংশের বর্ধিতকরণ কাজের অনুমোদনই পায়নি, কাজ করবে কিভাবে। সওজের অনুমোদনহীন অংশ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় চালানো অভিযোগকে অপপ্রচার, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলেছেন মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন।

জানা গেছে, জুড়ী উপজেলা সদর থেকে ফুলতলা-বটুলি শুল্ক স্টেশন পর্যন্ত ভাঙাচোরা প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কটি ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্থ ও মজুবতকরণের কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই বছরে কাজ সম্পন্নের চুক্তিতে ২০১৯ সালের ফেব্রæয়ারীতে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। পরে সড়কের ১০ কিলোমিটার জায়গার কাজের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় বড়লেখার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। গত কয়েক দিন ধরে সওজের অনুমোদনহীন ৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য স্থানীয় ওই ঠিকাদারকে দায়ী করে সোস্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মুল ঠিকাদার ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন লিমিটেডের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান জানান, ওয়ার্কঅর্ডার পেয়েই তারা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ করার জন্য তারা স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিযুক্ত করেছে। ওই অংশের শেষ দিকের কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় বর্ধিতকরণ ছাড়া রাস্তাটি করা যাচ্ছে না। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ বর্ধিত এ কাজের অনুমোদন দেয়নি। অনুমোদনহীন অংশের কাজ না হওয়ায় একটি মহল আমাদের নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকিতে গুনগত মান নিয়ন্ত্রণ করেই ইতিমধ্যে তারা প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন। শুরুতেই করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় সময় বর্ধিত করা হয়। এবছরের ১৪ এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার কারণে জনবল ও মালামাল সংকটে বর্ধিত সময়েও কাজ সম্পন্ন না হওয়ার আশংকায় ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন জানান, জুড়ী-ফুলতলা-বটুলি রাস্তা মজবুতকরণ ও প্রশস্থকরণ প্রকল্পের (২২ কিলোমিটার) শেষ অংশের ৪ কিলোমিটারের মাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এ রাস্তা বর্ধিতকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। গত ২ মে সড়ক ভবনে এ সংক্রান্ত চিঠিও প্রেরণ করেছেন, এখনও রিপ্লাই আসেনি। ঠিকাদারের সাথে চুক্তির আগেই সোস্যাল মিডিয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা, তুমুল সমালোচনা-মন্তব্য করা, রাস্তায় ধানের চারা রোপন ¯্রফে অপপ্রচার, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।