9:43 pm, Thursday, 8 October 2026

কুলাউড়ার সেই বিতর্কিত উপজেলা প্রকৌশলীকে অবশেষে বদলী

এম. মছব্বির আলী:: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া কার্যালয়ের সেই আলোচিত  সমালোচিত উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল ইসলাম মৃধাকে অবশেষে বদলী করা হয়েছে। তাঁর নতুন কর্মস্থল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা। এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী  সেখ মোহাম্মদ মহসিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে সম্প্রতি তাকে এ বদলীর আদেশ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন এলজিইডি’র
জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ। জানা গেছে, প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা ২০২১ সালের
সেপ্টেম্বর মাসে কুলাউড়ায় যোগদান করেন। গত বছরের জুলাই মাসে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে  অনাস্থা প্রস্তাব করে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ওই প্রকৌশলীকে অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। গত বছরের ২৪ জুলাই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায়
প্রকৌশলী আমিনুলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা উপজেলা প্রকৌশলীকে ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ’ মন্তব্য করে বলেন, তাঁকে বক্তব্যের সুযোগ দিলে সব চেয়ারম্যান সভা বয়কট করবেন। ওই সভায় উপস্থিত মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ
সলমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আরো জানা গেছে, ওই সময় বরাদ্দকৃত কাজের বিল পাস
করাতে হলে প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। নতুবা তিনি কোন বিলের
ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করেন না। টাকা ছাড়া একাধিকবার তাঁর কাছে গেলে কোন কাজ হয় না। এমনকি তিনি কারো ফোন রিসিভ করেন না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের ২ লাখ টাকা বরাদ্দেও তাঁকে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের। টাকা না দিলে কাজের প্রত্যয়ন দিতে চান না আমিনুল ইসলাম। শিকক্ষদের সাথে খারাপ আচরণেরও  অভিযোগ করেন। প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন ১৩ ইউপি চেয়ারম্যান। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করেন। গত বছরের ২৮ আগস্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল হুদার অভিযোগের তদন্ত করেন। এদিকে গত বছরের ৭ আগস্ট ও ১৮ ডিসেম্বর প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম দুই দফায় দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে এলজিইডি’র প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন
রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে এলজিইডি’র মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ সোমবার বিকেলে বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন,
প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে কুলাউড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে শহরের ১৪টি পূজা মণ্ডপে অনুদানের চেক বিতরণ

কুলাউড়ার সেই বিতর্কিত উপজেলা প্রকৌশলীকে অবশেষে বদলী

Update Time : 12:44:27 pm, Monday, 2 January 2023

এম. মছব্বির আলী:: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া কার্যালয়ের সেই আলোচিত  সমালোচিত উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল ইসলাম মৃধাকে অবশেষে বদলী করা হয়েছে। তাঁর নতুন কর্মস্থল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা। এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী  সেখ মোহাম্মদ মহসিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে সম্প্রতি তাকে এ বদলীর আদেশ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন এলজিইডি’র
জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ। জানা গেছে, প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা ২০২১ সালের
সেপ্টেম্বর মাসে কুলাউড়ায় যোগদান করেন। গত বছরের জুলাই মাসে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে  অনাস্থা প্রস্তাব করে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ওই প্রকৌশলীকে অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। গত বছরের ২৪ জুলাই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায়
প্রকৌশলী আমিনুলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা উপজেলা প্রকৌশলীকে ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ’ মন্তব্য করে বলেন, তাঁকে বক্তব্যের সুযোগ দিলে সব চেয়ারম্যান সভা বয়কট করবেন। ওই সভায় উপস্থিত মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ
সলমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আরো জানা গেছে, ওই সময় বরাদ্দকৃত কাজের বিল পাস
করাতে হলে প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। নতুবা তিনি কোন বিলের
ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করেন না। টাকা ছাড়া একাধিকবার তাঁর কাছে গেলে কোন কাজ হয় না। এমনকি তিনি কারো ফোন রিসিভ করেন না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের ২ লাখ টাকা বরাদ্দেও তাঁকে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের। টাকা না দিলে কাজের প্রত্যয়ন দিতে চান না আমিনুল ইসলাম। শিকক্ষদের সাথে খারাপ আচরণেরও  অভিযোগ করেন। প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন ১৩ ইউপি চেয়ারম্যান। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করেন। গত বছরের ২৮ আগস্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল হুদার অভিযোগের তদন্ত করেন। এদিকে গত বছরের ৭ আগস্ট ও ১৮ ডিসেম্বর প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম দুই দফায় দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে এলজিইডি’র প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন
রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে এলজিইডি’র মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ সোমবার বিকেলে বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন,
প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে কুলাউড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে।