ডেস্ক রিপোর্ট : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক সভ্যতায় রাষ্ট্র ও সমাজ সব ক্ষেত্রেই গণমাধ্যম হলো আয়না। যে রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেকে স্বচ্ছ করতে চায় না, তারা গণমাধ্যমের মতো স্বচ্ছ আয়নাকে গ্রহণ করতে পারে না।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ও রাষ্ট্রে যদি সুশাসন নিশ্চিত করা না যায়, তবে বিচ্ছিন্নভাবে কেবল গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সেমিনারটির আয়োজন করে ইকোনোমিক রিপোর্টারস ফোরাম (ইআরএফ)। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি।
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও সঞ্চালনা করেন ইআরএফ জেনারেল সেক্রেটারি আবুল কাশেম।
বক্তব্যের শুরুতে গণমাধ্যমকে আয়নার সঙ্গে তুলনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা আয়না দিয়ে খেলতাম।
ভালো কোয়ালিটির আয়নায় আসল চেহারা দেখা যায়, আর যেটার কোয়ালিটি ভালো না, সেখানে নিজের চেহারাই বাঁকা দেখা যায়। এমনকি শাহরুখ খানের মতো জনপ্রিয় নায়কের চেহারাও খারাপ আয়নায় অদ্ভুত দেখাতে পারে। গণমাধ্যম হচ্ছে সেই আয়না। কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের চেহারা জনগণের সামনে কতটা স্বচ্ছভাবে প্রতিফলিত করতে চায়, তা নির্ভর করে তারা এই আয়নাকে কতটা গ্রহণ করছে তার ওপর।’
ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যদি তা না পারে, তবে শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বিরাজ করবে। এটা আশা করা যায় না। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন মূলত জাতীয় ক্ষেত্রের রাজনৈতিক সুশাসনের ঘাটতিরই প্রতিফলন। তবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ক্ষমতার কোনো বিকল্প নেই।’
পরিসংখ্যান ম্যানিপুলেশন বা কারসাজির কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় নির্দেশ জারির পর খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হিসাব রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। রাষ্ট্র যখন তার কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক রেটোরিক দেওয়ার জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোকে ব্যবহার করে, তখন তারা কতটা ম্যানিপুলেশন করতে পারে তা ভাবার বিষয়। আমার এখন ঘুমের দরকার, তাই বলতে হবে সূর্য ওঠেনি; আমার এখন অপরাধ করতে হবে, তাই দিনের বেলাকে বলতে হবে এখন রাত্রি; এভাবে ম্যানিপুলেশন করার ক্ষমতা যদি রাষ্ট্রের থাকে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সব জায়গায় প্রভাব ফেলবে।’
ব্যাংকিং কমিশন গঠন ও উদ্যোক্তাদের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর থেকে এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মতো অর্থনীতিতে রক্তপ্রবাহের উৎসকে সংস্কার করতেই হবে। ব্যাংক থেকে মূলধন নিয়ে উদ্যোক্তারা কাজে লাগান। কিন্তু তাদের মধ্যে কারা সত্যিকারের পারফর্মার আর কারা চোর, বাটপার, গুন্ডা, বদমাশ, তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়।’
শেয়ারবাজার ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা টার্গেট করে, তারাই আবার শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হলে ব্যাংকের ওপর চাপ কমিয়ে শেয়ারবাজারকে পুঁজির শক্তিশালী উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃত্বপরায়ণ হতে পারে না। সাংবাদিকদের বসার জায়গা ফার্স্ট ফ্লোরে নাকি থার্ড ফ্লোরে সেটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় কথা হলো ‘অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন’ বা তথ্যের কাছে তাদের যাওয়ার সুযোগ আছে কি না। ব্যাংক যেখানে তথ্য রাখে, সেখানে সাংবাদিকদের পৌঁছানোর সুযোগ বা গ্রাউন্ড ফ্লোর পর্যন্ত তাদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















