1:24 am, Friday, 11 September 2026

গ্রাম্য শালিস বিচারে সুদের বিষয় কেমন সিদ্ধান্তঃ হবে। এ নিয়ে কোরআন এবং হাদিস ভিত্তিক আমার ক্ষুদ্র আলোচনা

মতিন বকশ:
ইসলামে সুদের শালিস করে সুদকে বৈধ করে দেওয়া যাবে না, বরং শালিসের উদ্দেশ্যই হবে সুদকে বাতিল করে ইনসাফ করা।
এটা দুই ভাবে বুঝতে হবে:
১. ইসলামে সুদ সম্পর্কে হুকুম কী?
ইসলামে সুদ বা রিবা কবিরা গুনাহ এবং হারাম। কুরআনে খুব কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” [সূরা বাকারা – ২৭৫]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা না ছাড়ো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।” [সূরা বাকারা – ২৭৮, ২৭৯]
হাদিসে রাসূল ﷺ সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষী – সবার উপর লানত করেছেন। [সহিহ মুসলিম]
১. তাহলে সুদের টাকার শালিস কিভাবে হবে?
আমাদের সিলেট অঞ্চলে যেটা হয় – কেউ সুদে টাকা নিয়েছে, এখন দিতে পারছে না, তখন মুরব্বিরা মিলে শালিস করেন। এই শালিসে ইসলামী নিয়ম হলো:
শালিসে সুদকে বহাল রাখা হারাম। অর্থাৎ শালিসদাররা বলতে পারবেন না যে “ঠিক আছে, সুদ সহ দিয়ে দাও” বা “সুদের হার কমিয়ে দাও”। এটা করলে শালিসদাররাও গুনাহগার হবেন, কারণ তারা হারামকে সমর্থন করলেন।
ইসলাম সম্মত শালিস হবে এভাবে:
ক. মূল টাকা বা আসল যেটা ধার নেওয়া হয়েছে, সেটা ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। এটা তার উপর ফরজ ঋণ।
খ. সুদ হিসেবে যে অতিরিক্ত টাকার চুক্তি হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে। ঋণদাতা সুদ দাবি করতে পারবে না।
গ. যদি ঋণদাতা ইতিমধ্যে সুদের কিছু টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে উত্তম হলো তা মূল টাকার সাথে সমন্বয় করে দেওয়া।
ঘ. যদি ঋণগ্রহীতা খুব গরীব হয় এবং আসল টাকা দিতেও কষ্ট হয়, তাহলে শালিসদারদের উচিত তাকে সময় বাড়িয়ে দেওয়া বা মাফ করে দিতে উৎসাহিত করা। কুরআনে বলা হয়েছে, অভাবীকে সময় দেওয়া অনেক সওয়াবের কাজ। [সূরা বাকারা – ২৮০]
সুতরাং, সুদের বিচার বলতে ইসলামে সুদ আদায়ের বিচার নেই, বরং সুদ বন্ধ করে ন্যায় বিচার আছে।
আপনি যদি শালিসের দায়িত্বে থাকেন, তাহলে আপনার কাজ হবে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে সুদী লেনদেন থেকে তওবা করানো এবং শুধু মূল টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মীমাংসা করিয়ে দেওয়া। এটাই হলো কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণের শিক্ষা।
মুলধন এবং লাভের বিষয়
হ্যাঁ, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শালিসে এই ভুলটাই সবচেয়ে বেশি হয়।
ইসলামী নিয়মে মূলধন কখনো মাফ হয় না। সুদ মাফ হয়।
ধরেন, আপনি এইভাবে হিসাব করবেন:
১. যদি সুদ হিসেবে টাকা নিয়ে থাকে:
মনে করেন একজন ১০,০০০ টাকা ধার নিয়েছে। চুক্তি ছিল মাসে ১,০০০ টাকা সুদ দেবে। সে ৪ বার ১,০০০ করে মোট ৪,০০০ টাকা সুদ দিয়েছে।
এখন শরীয়ত অনুযায়ী বিচার হলো:

  • ওই ৪,০০০ টাকা সুদ হিসেবে ধরা হবে না, ওটা মূলধনের অংশ হিসেবে ধরা হবে।
  • তাহলে তার মূলধন বাকি থাকলো ১০,০০০ – ৪,০০০ = ৬,০০০ টাকা। তাকে এখনো ৬,০০০ টাকা দিতে হবে।
    ১. যদি সুদের টাকা মূলধনের সমান বা বেশি দিয়ে ফেলে:
    একই লোক যদি ১০,০০০ টাকার জন্য ১২,০০০ টাকা সুদ হিসেবেই দিয়ে ফেলে, তাহলে ইসলামী শালিস অনুযায়ী তার মূলধন শোধ হয়ে গেছে বলে ধরা হবে। পাওনাদার আর এক টাকাও পাবে না। বরং অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা নেওয়াটা তার জন্য হারাম হয়েছে, সেটা ফেরত দেওয়া উচিত।
    ১. যদি কয়েকবার আলাদা আলাদা ধার নিয়ে থাকে:
    যেমন – প্রথমে ৫,০০০, পরে আবার ১০,০০০। তাহলে দুইটার মূলধন আলাদা হিসাব হবে। মোট মূলধন হবে ১৫,০০০ টাকা। এরপর সে সুদ হিসেবে মোট যত দিয়েছে, সব টাকা ওই ১৫,০০০ থেকে বাদ যাবে।
    সহজ কথায় শালিসের ফর্মুলা:
    ঋণগ্রহীতা যা পেয়েছে (আসল) – সে সুদ হিসেবে যা ফেরত দিয়েছে = এখন যা বাকি আছে
    এর বাইরে এক টাকাও সুদ দাবি করা জায়েজ নেই।
    এজন্য শালিসে দুইজনেরই খাতা দেখা দরকার। কে কত নিয়েছে আর কত দিয়েছে। দুই পক্ষকে আল্লাহর ভয়ে সুদ থেকে তওবা করতে বলবেন। পাওনাদারকে বোঝাবেন যে মূলধন ফেরত পেলেই তার হক আদায় হয়ে গেছে, আর সুদের আশা করলে গুনাহগার হবেন।
    সুদের গোনাহ ঃ

সুদ সম্পর্কে হাদিসে খুব কঠোর কথা এসেছে। কয়েকটি সহিহ হাদিস আপনাকে দিচ্ছি:
১. সুদের সাথে জড়িত সবার উপর অভিশাপ
জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ লা’নত করেছেন – সুদখোরের উপর, সুদদাতার উপর, সুদের লেখকের উপর এবং তার দুই সাক্ষীর উপর। এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান গুনাহগার।
[সহিহ মুসলিম – ১৫৯৮]
মানে শুধু যে সুদ খায় সে না, যে দেয়, যে হিসাব লেখে, যে শালিসে সাক্ষী থাকে – সবাই একই গুনাহে শামিল।
১. সুদ সবচেয়ে নিকৃষ্ট হারামের একটি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “৭টি ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবীরা বললেন, সেগুলো কী? তিনি বললেন, তার মধ্যে একটি হলো সুদ খাওয়া।
[সহিহ বুখারী ও মুসলিম]
১. সুদের গুনাহের ভয়াবহতা
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সুদের ৭০টি গুনাহের স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি হলো নিজের মায়ের সাথে যেনা করার মতো।”
[ইবনে মাজাহ – ২২৭৪]
এই হাদিসের সনদ নিয়ে আলেমদের কিছু কথা থাকলেও এর মূল বক্তব্য হলো সুদ কতটা জঘন্য তা বোঝানো।
১. মেরাজের রাতে যা দেখেছেন
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মেরাজের রাতে আমি এমন কিছু লোককে দেখলাম যাদের পেট ঘরের মতো বড়। তার ভেতর সাপে ভরা। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? জিবরাইল (আঃ) বললেন, এরা সুদখোর।
[মুসনাদে আহমদ]
১. কোন ধরনের লেনদেন সুদ হবে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবণের বিনিময়ে লবণ – সমান সমান ও নগদ নগদ বিক্রি করবে। যদি প্রকারভেদ হয়, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো, যখন তা নগদ হয়।”
[সহিহ মুসলিম – ১৫৮৪]
এই হাদিস থেকে আলেমগণ রিবার দুই প্রকার বের করেছেন। একই জিনিস কম-বেশি করে বিক্রি করা বা বাকিতে বিক্রি করে অতিরিক্ত নেওয়াই সুদ।
এজন্যই হাদিস অনুযায়ী শালিসের নিয়ম হলো – মূলধন থাকবে, সুদ বাতিল হবে। কারণ হাদিসে সুদকে হারাম করা হয়েছে, মূলধনকে না।
যারা গ্রাম্য শালিস করেন সুদের বিষয় তা মনগড়া না করে কোরআন এবং হাদিস ভিত্তিক করতে হবে নতুবা নিজে গোনাগাড় হবে।
মতিন বকশ
সমাজ কর্মী

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

গ্রাম্য শালিস বিচারে সুদের বিষয় কেমন সিদ্ধান্তঃ হবে। এ নিয়ে কোরআন এবং হাদিস ভিত্তিক আমার ক্ষুদ্র আলোচনা

Update Time : 10:15:22 am, Tuesday, 25 August 2026

মতিন বকশ:
ইসলামে সুদের শালিস করে সুদকে বৈধ করে দেওয়া যাবে না, বরং শালিসের উদ্দেশ্যই হবে সুদকে বাতিল করে ইনসাফ করা।
এটা দুই ভাবে বুঝতে হবে:
১. ইসলামে সুদ সম্পর্কে হুকুম কী?
ইসলামে সুদ বা রিবা কবিরা গুনাহ এবং হারাম। কুরআনে খুব কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” [সূরা বাকারা – ২৭৫]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা না ছাড়ো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।” [সূরা বাকারা – ২৭৮, ২৭৯]
হাদিসে রাসূল ﷺ সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষী – সবার উপর লানত করেছেন। [সহিহ মুসলিম]
১. তাহলে সুদের টাকার শালিস কিভাবে হবে?
আমাদের সিলেট অঞ্চলে যেটা হয় – কেউ সুদে টাকা নিয়েছে, এখন দিতে পারছে না, তখন মুরব্বিরা মিলে শালিস করেন। এই শালিসে ইসলামী নিয়ম হলো:
শালিসে সুদকে বহাল রাখা হারাম। অর্থাৎ শালিসদাররা বলতে পারবেন না যে “ঠিক আছে, সুদ সহ দিয়ে দাও” বা “সুদের হার কমিয়ে দাও”। এটা করলে শালিসদাররাও গুনাহগার হবেন, কারণ তারা হারামকে সমর্থন করলেন।
ইসলাম সম্মত শালিস হবে এভাবে:
ক. মূল টাকা বা আসল যেটা ধার নেওয়া হয়েছে, সেটা ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। এটা তার উপর ফরজ ঋণ।
খ. সুদ হিসেবে যে অতিরিক্ত টাকার চুক্তি হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে। ঋণদাতা সুদ দাবি করতে পারবে না।
গ. যদি ঋণদাতা ইতিমধ্যে সুদের কিছু টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে উত্তম হলো তা মূল টাকার সাথে সমন্বয় করে দেওয়া।
ঘ. যদি ঋণগ্রহীতা খুব গরীব হয় এবং আসল টাকা দিতেও কষ্ট হয়, তাহলে শালিসদারদের উচিত তাকে সময় বাড়িয়ে দেওয়া বা মাফ করে দিতে উৎসাহিত করা। কুরআনে বলা হয়েছে, অভাবীকে সময় দেওয়া অনেক সওয়াবের কাজ। [সূরা বাকারা – ২৮০]
সুতরাং, সুদের বিচার বলতে ইসলামে সুদ আদায়ের বিচার নেই, বরং সুদ বন্ধ করে ন্যায় বিচার আছে।
আপনি যদি শালিসের দায়িত্বে থাকেন, তাহলে আপনার কাজ হবে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে সুদী লেনদেন থেকে তওবা করানো এবং শুধু মূল টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মীমাংসা করিয়ে দেওয়া। এটাই হলো কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণের শিক্ষা।
মুলধন এবং লাভের বিষয়
হ্যাঁ, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শালিসে এই ভুলটাই সবচেয়ে বেশি হয়।
ইসলামী নিয়মে মূলধন কখনো মাফ হয় না। সুদ মাফ হয়।
ধরেন, আপনি এইভাবে হিসাব করবেন:
১. যদি সুদ হিসেবে টাকা নিয়ে থাকে:
মনে করেন একজন ১০,০০০ টাকা ধার নিয়েছে। চুক্তি ছিল মাসে ১,০০০ টাকা সুদ দেবে। সে ৪ বার ১,০০০ করে মোট ৪,০০০ টাকা সুদ দিয়েছে।
এখন শরীয়ত অনুযায়ী বিচার হলো:

  • ওই ৪,০০০ টাকা সুদ হিসেবে ধরা হবে না, ওটা মূলধনের অংশ হিসেবে ধরা হবে।
  • তাহলে তার মূলধন বাকি থাকলো ১০,০০০ – ৪,০০০ = ৬,০০০ টাকা। তাকে এখনো ৬,০০০ টাকা দিতে হবে।
    ১. যদি সুদের টাকা মূলধনের সমান বা বেশি দিয়ে ফেলে:
    একই লোক যদি ১০,০০০ টাকার জন্য ১২,০০০ টাকা সুদ হিসেবেই দিয়ে ফেলে, তাহলে ইসলামী শালিস অনুযায়ী তার মূলধন শোধ হয়ে গেছে বলে ধরা হবে। পাওনাদার আর এক টাকাও পাবে না। বরং অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা নেওয়াটা তার জন্য হারাম হয়েছে, সেটা ফেরত দেওয়া উচিত।
    ১. যদি কয়েকবার আলাদা আলাদা ধার নিয়ে থাকে:
    যেমন – প্রথমে ৫,০০০, পরে আবার ১০,০০০। তাহলে দুইটার মূলধন আলাদা হিসাব হবে। মোট মূলধন হবে ১৫,০০০ টাকা। এরপর সে সুদ হিসেবে মোট যত দিয়েছে, সব টাকা ওই ১৫,০০০ থেকে বাদ যাবে।
    সহজ কথায় শালিসের ফর্মুলা:
    ঋণগ্রহীতা যা পেয়েছে (আসল) – সে সুদ হিসেবে যা ফেরত দিয়েছে = এখন যা বাকি আছে
    এর বাইরে এক টাকাও সুদ দাবি করা জায়েজ নেই।
    এজন্য শালিসে দুইজনেরই খাতা দেখা দরকার। কে কত নিয়েছে আর কত দিয়েছে। দুই পক্ষকে আল্লাহর ভয়ে সুদ থেকে তওবা করতে বলবেন। পাওনাদারকে বোঝাবেন যে মূলধন ফেরত পেলেই তার হক আদায় হয়ে গেছে, আর সুদের আশা করলে গুনাহগার হবেন।
    সুদের গোনাহ ঃ

সুদ সম্পর্কে হাদিসে খুব কঠোর কথা এসেছে। কয়েকটি সহিহ হাদিস আপনাকে দিচ্ছি:
১. সুদের সাথে জড়িত সবার উপর অভিশাপ
জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ লা’নত করেছেন – সুদখোরের উপর, সুদদাতার উপর, সুদের লেখকের উপর এবং তার দুই সাক্ষীর উপর। এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান গুনাহগার।
[সহিহ মুসলিম – ১৫৯৮]
মানে শুধু যে সুদ খায় সে না, যে দেয়, যে হিসাব লেখে, যে শালিসে সাক্ষী থাকে – সবাই একই গুনাহে শামিল।
১. সুদ সবচেয়ে নিকৃষ্ট হারামের একটি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “৭টি ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবীরা বললেন, সেগুলো কী? তিনি বললেন, তার মধ্যে একটি হলো সুদ খাওয়া।
[সহিহ বুখারী ও মুসলিম]
১. সুদের গুনাহের ভয়াবহতা
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সুদের ৭০টি গুনাহের স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি হলো নিজের মায়ের সাথে যেনা করার মতো।”
[ইবনে মাজাহ – ২২৭৪]
এই হাদিসের সনদ নিয়ে আলেমদের কিছু কথা থাকলেও এর মূল বক্তব্য হলো সুদ কতটা জঘন্য তা বোঝানো।
১. মেরাজের রাতে যা দেখেছেন
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মেরাজের রাতে আমি এমন কিছু লোককে দেখলাম যাদের পেট ঘরের মতো বড়। তার ভেতর সাপে ভরা। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? জিবরাইল (আঃ) বললেন, এরা সুদখোর।
[মুসনাদে আহমদ]
১. কোন ধরনের লেনদেন সুদ হবে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবণের বিনিময়ে লবণ – সমান সমান ও নগদ নগদ বিক্রি করবে। যদি প্রকারভেদ হয়, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো, যখন তা নগদ হয়।”
[সহিহ মুসলিম – ১৫৮৪]
এই হাদিস থেকে আলেমগণ রিবার দুই প্রকার বের করেছেন। একই জিনিস কম-বেশি করে বিক্রি করা বা বাকিতে বিক্রি করে অতিরিক্ত নেওয়াই সুদ।
এজন্যই হাদিস অনুযায়ী শালিসের নিয়ম হলো – মূলধন থাকবে, সুদ বাতিল হবে। কারণ হাদিসে সুদকে হারাম করা হয়েছে, মূলধনকে না।
যারা গ্রাম্য শালিস করেন সুদের বিষয় তা মনগড়া না করে কোরআন এবং হাদিস ভিত্তিক করতে হবে নতুবা নিজে গোনাগাড় হবে।
মতিন বকশ
সমাজ কর্মী