11:03 am, Saturday, 16 May 2026

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : ভারতে ৫০ হাজার মানুষ ঘরহারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এ ঝড়ের তাণ্ডবে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে ঘর হারিয়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ; জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে সহস্রাধিক গ্রাম। একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগ বা চোখ বালাশ^রের কাছ দিয়ে পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসে। তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ের সময় কেবল এ রাজ্যেই ১১শ গ্রাম জলোচ্ছ্বাস প্লাবিত হয়েছে। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে অন্তত ১০০ জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় তার অফিস নবান্নে বসে পর্যবেক্ষণ করছেন পুরো পরিস্থিতি। স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর দীঘায় ঝড়ের সময় সাগরে ভেসে গেছেন এক ব্যক্তি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, তার রাজ্যের নিচু এলাকাগুলোতে অন্তত তিন লাখ কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাগর থেকে উঠে আসা লোনা জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। কেবল পশ্চিমবঙ্গেই এক কোটির মতো মানুষ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস যে এলাকা দিয়ে স্থলভাগে উঠে এসেছে, সেই উড়িষ্যায় অন্তত ১২০টি গ্রাম প্রবল বর্ষণ আর জলোচ্ছ্বাসে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা সুরেশ মহাপাত্র বলেছেন, এসব গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় সবাইকে আগেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসায় মঙ্গলবারের মধ্যেই উড়িষ্যা উপকূলের নিচু এলাকাগুলো থেকে আড়াই লাখ এবং পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে ১৫ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওড়িশার বীর সুরেন্দ্র সাই বিমানবন্দর, দুর্গাপুর বিমানবন্দর বুধবার সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয়।

ঝড়ের কারণে ভারতীয় রেলওয়ে ৩৮টি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে। কলকাতার নয়টি ফ্লাইওভারেও সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার।

ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের রেকর্ড ১১৫টি দলকে এবারের ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় মাঠে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : ভারতে ৫০ হাজার মানুষ ঘরহারা

Update Time : 08:04:08 am, Thursday, 27 May 2021

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এ ঝড়ের তাণ্ডবে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে ঘর হারিয়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ; জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে সহস্রাধিক গ্রাম। একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগ বা চোখ বালাশ^রের কাছ দিয়ে পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসে। তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ের সময় কেবল এ রাজ্যেই ১১শ গ্রাম জলোচ্ছ্বাস প্লাবিত হয়েছে। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে অন্তত ১০০ জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় তার অফিস নবান্নে বসে পর্যবেক্ষণ করছেন পুরো পরিস্থিতি। স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর দীঘায় ঝড়ের সময় সাগরে ভেসে গেছেন এক ব্যক্তি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, তার রাজ্যের নিচু এলাকাগুলোতে অন্তত তিন লাখ কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাগর থেকে উঠে আসা লোনা জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। কেবল পশ্চিমবঙ্গেই এক কোটির মতো মানুষ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস যে এলাকা দিয়ে স্থলভাগে উঠে এসেছে, সেই উড়িষ্যায় অন্তত ১২০টি গ্রাম প্রবল বর্ষণ আর জলোচ্ছ্বাসে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা সুরেশ মহাপাত্র বলেছেন, এসব গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় সবাইকে আগেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসায় মঙ্গলবারের মধ্যেই উড়িষ্যা উপকূলের নিচু এলাকাগুলো থেকে আড়াই লাখ এবং পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে ১৫ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওড়িশার বীর সুরেন্দ্র সাই বিমানবন্দর, দুর্গাপুর বিমানবন্দর বুধবার সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয়।

ঝড়ের কারণে ভারতীয় রেলওয়ে ৩৮টি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে। কলকাতার নয়টি ফ্লাইওভারেও সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার।

ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের রেকর্ড ১১৫টি দলকে এবারের ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় মাঠে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।