3:34 pm, Wednesday, 17 December 2025

চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যা ঘিরে রহস্য

ডেস্ক রিপোর্ট : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে কিশোর প্রেমিক যুগল। তাদের এই আত্মহত্যাকে রহস্যজনক বলছে প্রতিবেশীরা।

শনিবার রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুজন হলো- দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের মো. মোহনের স্কুলপড়ুয়া কিশোরী ফাহিমা (১২) ও তার ফুফাতো ভাই একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী কলস ভাঙ্গা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত হান্নান প্রধানের ছেলে নিলয় (১৬)।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন আগে নিলয়ের বাবা মারা যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে সে নানার বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলে সে তার নানার বাড়িতে অর্থাৎ তার মামার বাড়িতেই থাকতো। এরই প্রেক্ষিতে ফাহিমা ও নিলয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

অন্যদিকে প্রেমিকা ফাহিমার বাবার সঙ্গে তার মায়ের দীর্ঘদিন আগে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তারপর থেকে সে তার সৎ মায়ের সংসারে বড় হয়।

পুলিশ জানায়, নিলয়ের মা অন্যত্র স্বামীর বাড়িতে থাকায় আর প্রেমিকা ফাহিমার মা তার বাবার বাড়িতে যাওয়ায় এদিন ঘর খালি ছিল। এসময় তাদের মধ্যে প্রেম সম্পর্কিত যে কোনো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। সেজন্য তারা কীটনাশক জাতীয় কিছু খেয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, তাদেরকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ফাহিমা ও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দাউদকান্দিতে নিলয় মারা যায়।

এদিকে এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন উঠেছে তারা একে অপরকে পছন্দ করতো কিন্তু বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে মেনে না নেওয়ায় তারা আত্মহত্যার করেছে।

এমনকি আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা রহস্য রয়েছে কি-না তা তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী।

দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন ওপেল বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি এবং স্থানীয় মেম্বারকে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য বলেছি।’

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু বলা হলেও আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠাবো। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যা ঘিরে রহস্য

Update Time : 06:35:40 am, Sunday, 27 February 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে কিশোর প্রেমিক যুগল। তাদের এই আত্মহত্যাকে রহস্যজনক বলছে প্রতিবেশীরা।

শনিবার রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুজন হলো- দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের মো. মোহনের স্কুলপড়ুয়া কিশোরী ফাহিমা (১২) ও তার ফুফাতো ভাই একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী কলস ভাঙ্গা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত হান্নান প্রধানের ছেলে নিলয় (১৬)।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন আগে নিলয়ের বাবা মারা যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে সে নানার বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলে সে তার নানার বাড়িতে অর্থাৎ তার মামার বাড়িতেই থাকতো। এরই প্রেক্ষিতে ফাহিমা ও নিলয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

অন্যদিকে প্রেমিকা ফাহিমার বাবার সঙ্গে তার মায়ের দীর্ঘদিন আগে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তারপর থেকে সে তার সৎ মায়ের সংসারে বড় হয়।

পুলিশ জানায়, নিলয়ের মা অন্যত্র স্বামীর বাড়িতে থাকায় আর প্রেমিকা ফাহিমার মা তার বাবার বাড়িতে যাওয়ায় এদিন ঘর খালি ছিল। এসময় তাদের মধ্যে প্রেম সম্পর্কিত যে কোনো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। সেজন্য তারা কীটনাশক জাতীয় কিছু খেয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, তাদেরকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ফাহিমা ও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দাউদকান্দিতে নিলয় মারা যায়।

এদিকে এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন উঠেছে তারা একে অপরকে পছন্দ করতো কিন্তু বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে মেনে না নেওয়ায় তারা আত্মহত্যার করেছে।

এমনকি আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা রহস্য রয়েছে কি-না তা তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী।

দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন ওপেল বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি এবং স্থানীয় মেম্বারকে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য বলেছি।’

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু বলা হলেও আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠাবো। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।