স্টাফ রিপোর্টার : চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভা থেকে সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানীর ১২ টি চা-বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি-রেশন অবিলম্বে পরিশোধ ও পিএফ চাঁদা জমা প্রদানের দাবি জানানো হয়। ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়। চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল অলমিকের সভাপতিত্বে কমলগঞ্জের শমসেরনগরস্থ কার্যালয়ে অনুষ্টিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল মোহাইমীন ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস এবং ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরার পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুভাষ গৌড়, সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষী রানী বাক্তি, প্রচার সম্পাদক কাজল হাজরা, জেলা কমিটির সদস্য সুনীল শব্দকর, শ্যামল রায়, সত্য নায়েক প্রমূখ।
সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকারি মালিকানাধীন এনটিসির ১২ টি বাগানের প্রায় ১২ হাজার শ্রমিকসহ ৪০ হাজার চা-জনগোষ্ঠি গত ২২ আগষ্ট’২৪ থেকে মজুরি-রেশন না পেয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্দ্ধগতির সময়ে দৈনিক মাত্র ১৭৮.৫০ টাকা মজুরিতে এমনিতেই চা-শ্রমিকদের অর্ধাহার-অনাহারে কাটাতে হয়। তার উপর যদি শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে শ্রমিকদের কি অবস্থায় পড়তে হয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এনটিসির বাগানের চা-শ্রমিকরা অন্তবর্তী সরকারের নিকট মজুরি-রেশন পরিশোধের দাবিতে দীর্ঘদিন আবেদন-নিবেদন করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত ২০ দিন যাবত কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন, কিন্তু তাতেও সরকারের টনক নড়ছে না। চা-শ্রমিকরা আজ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছেন অতীতের সরকারগুলোর মতো অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছেও চা-শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা উপেক্ষিত। শুধু এনটিসির বাগানই নয়, সমগ্র চা-শিল্পের শ্রমিকরা আজ কঠিন সময় পার করছেন। ২০২২ সালে ৩১ ডিসেম্বর চা-শ্রমিকদের মজুরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হতে চললেও ২০২৩-২৪ সালের মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি। এব্যাপারে অতীতের ন্যায় বর্তমান অন্তবর্তী সরকার নির্বিকার। অনেক বাগানে চা-শ্রমিকদের মজুরি প্রায়ই আটকে রাখা হচ্ছে। এনটিসি, দেউন্দি টি কোম্পানী, সিলেট টি কোম্পানীসহ তারাপুর, ফুলতলা, ইমাম-বাওয়ানী, মোমিনছড়া সহ ব্যক্তিমালিকাধীন চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন ঠিক মত পরিশোধ করা হচ্ছে না। আবার মাসের পর মাস অনেক বাগানের চা-শ্রমিকদের পিএফ চাঁদাও ফান্ড অফিসে জমা দেওয়া হচ্ছে না। মজুরি পরিশোধের ক্ষেত্রে চা-শ্রমিকরা নানা রকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আইন অনুযায়ী ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের মজুরি স্থায়ী শ্রমিকের সমান হলেও অনেক বাগানে কম মজুরি প্রদান করা হচ্ছে এবং উৎসব বোনাস সকল শ্রমিকের সমান হলেও হাজিরার উপর নির্ভর করে বোনাস প্রদান করে শ্রমিক ঠকানো হচ্ছে। চা-শ্রমিকদের এই সকল বঞ্চনার ব্যাপারে মালিক-সরকার ও দালাল নেতারা নির্বিকার। তাই চা-শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার এই কঠিন সময়ে অতীতের শিক্ষা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলে দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হতে হবে।
সভা থেকে চা-শ্রমিকনেতারা সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও উৎপাদনে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ৬ সদস্যের পরিবারে ভরণ পোষণের খরচ হিসাব করে ২০২৩-২০২৪ মেয়াদের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ এবং একটি পরিবারের সাপ্তাহিক প্রয়োজনের অনুপাতে চাল, আটা, ডাল, তেল, চিনি, সাবান, চা-পাতাসহ পূর্ণ রেশন প্রদান, ভ‚মির অধিকার প্রদান, চা-শিল্পে নৈমিত্তিক ছুটি (বছরে ১০ দিন) কার্যকর ও অর্জিত ছুটি প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রম আইনের বৈষম্য নিরসন করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মজুরি ও উৎসব বোনাস প্রদানে সকল অনিয়ম বন্ধ করে শ্রমআইন মোতাবেক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদান, বকেয়া মজুরিসহ নিয়মিত সকল চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি-রেশন পরিশোধ, প্রতি মাসের পিএফ চাঁদা ফান্ড অফিসে জমা প্রদান এবং ৯০ দিন কাজ করলেই সকল শ্রমিককে স্থায়ী করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
10:51 pm, Monday, 19 January 2026
News Title :
চা-শ্রমিক সংঘের সভায় বক্তারা
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - Update Time : 08:33:32 am, Monday, 11 November 2024
- 185 Time View
Tag :
Popular Post






























