12:06 am, Monday, 19 January 2026

জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ইফতার বাজার

ডেস্ক রিপোর্ট :: দুই বছরের দুঃসময়ের পর পুরান ঢাকার রাস্তায় আবারও সেই চেনা দৃশ্য।

গতকাল রোববার (৩ এপ্রিল) রোজার প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার এমাথা–ওমাথা ভরে উঠেছিল হরেক রকমের ইফতারি আইটেমে। চৈত্রের ঝাঁজালো বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছিল তার ঘ্রাণ।

ঢাকার বয়স ৪০০ বছরের বেশি হলে ঢাকার ইফতারির ইতিহাসও চার শতাব্দীর। সেই আদিকালে ইফতার করাকে বলা হতো ‘রোজা খোলাই’। রোজা খোলাই শব্দটি অনেক পাঠকের কাছে নতুন মনে হতে পারে, কিন্তু রমজান মাসে পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দারা এই শব্দটির ব্যবহারে এখনও অভ্যস্ত আছে। রোজা খোলাই অর্থ ইফতার করা।

ইফতারি বানানোর রেওয়াজ পুরান ঢাকার প্রতি ঘরে ঘরে। তারপরও পুরান ঢাকার ইতিহাস বলে, ঢাকাইয়ারা সবসময় বাইরের খাবারে আকর্ষণ বোধ করে। সে কারণেই বাইরের ইফতারির টান সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে।

ইফতার ইতিহাস ও স্বাদের কথা বললে পুরান ঢাকার কথাই প্রথমে চলে আসে। রমজান মাসজুড়ে এই আদি জনপদে ইফতারির মেলা চলে; আক্ষরিক অর্থে না, বাস্তবিক মেলা।

চারশত বছরের পুরাতন বাজার চকবাজারই ছিল ঢাকার প্রধান বাজার। সে সময় চকবাজার বাদশাহি বাজার নামে পরিচিত ছিল। চকবাজারের মতো রায়সাহেব বাজার নাজিরাবাজার পুরান ঢাকার নামকরা বাজারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

দুই বছরের করোনা মহামারির দুঃসময়ের পর আবারও পুরাতন ঐতিহ্য বজায় রেখে চকবাজারের ইফতারিপাড়া এবারও সেজেছে রকমারি ইফতারির সাজে। চকবাজার ইফতারিপাড়া মোঘল ঐতিহ্যের ধারক। এখানকার ইফতারির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাহারি রকমের কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, কোফ্তা, চিকেন কাঠি, কোয়েল-কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, কাশ্মীরি সরবত, ইসবগুলের ভুসি, পুরিসহ কতনা পদ।

চকবাজারের ইফতারিপাড়ায় রোজার প্রথম দিন পা দিয়ে দেখা গেল এসব মুখরোচক খাবারের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দোকানভেদে ইফতারির নানা পদের দামে তারতম্য রয়েছে। চকবাজারে নূরানী, ডিসেন্ট আর আনন্দের হালিম খুব জনপ্রিয়।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ইফতার বাজার

Update Time : 09:39:13 am, Monday, 4 April 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: দুই বছরের দুঃসময়ের পর পুরান ঢাকার রাস্তায় আবারও সেই চেনা দৃশ্য।

গতকাল রোববার (৩ এপ্রিল) রোজার প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার এমাথা–ওমাথা ভরে উঠেছিল হরেক রকমের ইফতারি আইটেমে। চৈত্রের ঝাঁজালো বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছিল তার ঘ্রাণ।

ঢাকার বয়স ৪০০ বছরের বেশি হলে ঢাকার ইফতারির ইতিহাসও চার শতাব্দীর। সেই আদিকালে ইফতার করাকে বলা হতো ‘রোজা খোলাই’। রোজা খোলাই শব্দটি অনেক পাঠকের কাছে নতুন মনে হতে পারে, কিন্তু রমজান মাসে পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দারা এই শব্দটির ব্যবহারে এখনও অভ্যস্ত আছে। রোজা খোলাই অর্থ ইফতার করা।

ইফতারি বানানোর রেওয়াজ পুরান ঢাকার প্রতি ঘরে ঘরে। তারপরও পুরান ঢাকার ইতিহাস বলে, ঢাকাইয়ারা সবসময় বাইরের খাবারে আকর্ষণ বোধ করে। সে কারণেই বাইরের ইফতারির টান সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে।

ইফতার ইতিহাস ও স্বাদের কথা বললে পুরান ঢাকার কথাই প্রথমে চলে আসে। রমজান মাসজুড়ে এই আদি জনপদে ইফতারির মেলা চলে; আক্ষরিক অর্থে না, বাস্তবিক মেলা।

চারশত বছরের পুরাতন বাজার চকবাজারই ছিল ঢাকার প্রধান বাজার। সে সময় চকবাজার বাদশাহি বাজার নামে পরিচিত ছিল। চকবাজারের মতো রায়সাহেব বাজার নাজিরাবাজার পুরান ঢাকার নামকরা বাজারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

দুই বছরের করোনা মহামারির দুঃসময়ের পর আবারও পুরাতন ঐতিহ্য বজায় রেখে চকবাজারের ইফতারিপাড়া এবারও সেজেছে রকমারি ইফতারির সাজে। চকবাজার ইফতারিপাড়া মোঘল ঐতিহ্যের ধারক। এখানকার ইফতারির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাহারি রকমের কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, কোফ্তা, চিকেন কাঠি, কোয়েল-কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, কাশ্মীরি সরবত, ইসবগুলের ভুসি, পুরিসহ কতনা পদ।

চকবাজারের ইফতারিপাড়ায় রোজার প্রথম দিন পা দিয়ে দেখা গেল এসব মুখরোচক খাবারের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দোকানভেদে ইফতারির নানা পদের দামে তারতম্য রয়েছে। চকবাজারে নূরানী, ডিসেন্ট আর আনন্দের হালিম খুব জনপ্রিয়।