5:43 pm, Friday, 10 April 2026

ডুবে যাওয়া লঞ্চে বুকে জড়ানো মা-শিশুর লাশ, কেঁদেছেন উদ্ধারকর্মীরাও

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় এক মা ও এক বছরের শিশুর একসাথে জড়িয়ে থাকাবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মা সন্তানের জড়িয়ে ধরা লাশের এ দৃশ্য দেখে কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। খোদ কেঁদেছেন উদ্ধারকর্মী থেকে শুরু করে মিডিয়া কর্মীরা।

মৃতদেহ দুটি হচ্ছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ খাসকান্দি এলাকায় বিথী আক্তার (২৫) ও তার মেয়ে আরিফার (১)। নিহত বিথী আক্তার ওই গ্রামের আরিফ কাজির স্ত্রী। আরিফ ডেকোরেটরের লাইট মিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়িকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে স্বজনদের কাছে মা-মেয়ের লাশ বুঝিয়ে দেন উদ্ধারকার্মীরা। পরে ২টার দিকে তাদের লাশ নিয়ে আসা হয় মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার খাসকান্দি রমজানবেগ গ্রামে।

এ সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে গোসল করানোর সময় মা ও মেয়েকে আলাদা করেন স্বজনরা।

এলাকার চর মাশুরা কবরস্থানে নিহত বিথী ও তার মেয়ে আরিফাকে দাফন করা হয়েছে বিথীর মা পাকিজা বেগমের পাশে। এর আগে পাকিজা বেগমকে দাফন করা হয়। একই লঞ্চে ডুবে পাকিজা বেগমও নিহত হন।

রবিবার সন্ধ্যার কিছু আগে এসকেএল-৩ নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায়। আশপাশে কোনো নৌকা না থাকায় অনেকেই রক্ষা পাননি। ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিশু ও নারীসহ মোট ৩৪ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো : আতাউর রহমান এর শেষ কর্ম দিবস সম্পন্ন

ডুবে যাওয়া লঞ্চে বুকে জড়ানো মা-শিশুর লাশ, কেঁদেছেন উদ্ধারকর্মীরাও

Update Time : 09:47:54 am, Wednesday, 7 April 2021

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় এক মা ও এক বছরের শিশুর একসাথে জড়িয়ে থাকাবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মা সন্তানের জড়িয়ে ধরা লাশের এ দৃশ্য দেখে কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। খোদ কেঁদেছেন উদ্ধারকর্মী থেকে শুরু করে মিডিয়া কর্মীরা।

মৃতদেহ দুটি হচ্ছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ খাসকান্দি এলাকায় বিথী আক্তার (২৫) ও তার মেয়ে আরিফার (১)। নিহত বিথী আক্তার ওই গ্রামের আরিফ কাজির স্ত্রী। আরিফ ডেকোরেটরের লাইট মিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়িকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে স্বজনদের কাছে মা-মেয়ের লাশ বুঝিয়ে দেন উদ্ধারকার্মীরা। পরে ২টার দিকে তাদের লাশ নিয়ে আসা হয় মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার খাসকান্দি রমজানবেগ গ্রামে।

এ সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে গোসল করানোর সময় মা ও মেয়েকে আলাদা করেন স্বজনরা।

এলাকার চর মাশুরা কবরস্থানে নিহত বিথী ও তার মেয়ে আরিফাকে দাফন করা হয়েছে বিথীর মা পাকিজা বেগমের পাশে। এর আগে পাকিজা বেগমকে দাফন করা হয়। একই লঞ্চে ডুবে পাকিজা বেগমও নিহত হন।

রবিবার সন্ধ্যার কিছু আগে এসকেএল-৩ নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায়। আশপাশে কোনো নৌকা না থাকায় অনেকেই রক্ষা পাননি। ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিশু ও নারীসহ মোট ৩৪ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।