3:12 am, Thursday, 17 September 2026

তিন পৃষ্ঠার চিঠি ও হ্যারি পটারের কলমে মেসির বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট : লিওনেল মেসি যেন এমন এক গল্পের ইতি টানলেন, যা মনে হতো কখনোই শেষ হবে না। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে ২১ বছরের দীর্ঘ যাত্রার পর এক আবেগঘন বার্তা ও স্মৃতিময় ভিডিওর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে মেসির এই ঘোষণা কেবল কিছু শব্দের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বার্তাটির সঙ্গে যে ছবিটি তিনি বেছে নিয়েছেন, তা ছিল গভীর প্রতীকী অর্থে ভরা।
একটি নোটপ্যাডের ছেঁড়া তিনটি পাতায় সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে (ক্যাপিটাল লেটার) নিজের হাতে বিদায়ী বার্তাটি লিখেছেন মেসি।

চিঠিটির শুরুতেই রয়েছে এমন এক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারী অনুভূতি, এরপর দুই দশকের স্মৃতির পাতা উল্টানো এবং শেষে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!”
তবে চিঠির পাতাগুলোর ওপর রাখা একটি বিশেষ বস্তু সবার দৃষ্টি কেড়েছে, একটি সোনালি রঙের হ্যারি পটার কলম।

মেসি যে কলমটি দিয়ে এই বিদায়ী বার্তা লিখেছেন, সেটি কোনো সাধারণ কলম নয়।

কলমটির ওপরের অংশে রয়েছে জে. কে. রাউলিংয়ের কল্পবিজ্ঞান জগতের জনপ্রিয় চরিত্র হারমিওনি গ্রেঞ্জারের ব্যবহৃত ‘টাইম-টার্নার’। ঐতিহ্যবাহী গোলাকার ফ্রেমের মাঝখানে রয়েছে ছোট এক বালুঘড়ি (আওয়ারগ্লাস)।
সোনালি প্রলেপ দেওয়া মেটালিক বডিতে কালো রঙে মুদ্রিত রয়েছে হ্যারি পটারের অফিসিয়াল লোগো। উল্লেখ্য, মেসি, তার স্ত্রী আন্তোনেলা ও সন্তানরা সবাই এই সিরিজের ভক্ত, তাই এটি মোটেও কোনো সাধারণ বিষয় নয়।

চিঠির পে প্রেক্ষাপটে এই ‘টাইম-টার্নার’-এর উপস্থিতি এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। হ্যারি পটারের গল্পে টাইম-টার্নার হলো একটি জাদুকরী বস্তু, যা দিয়ে সময়ে পেছনে ভ্রমণ করা যায়। ২০ বছর আগের অভিষেকের স্মৃতিচারণ করা একটি চিঠির ওপর মেসি ঠিক এমন একটি জিনিস রাখলেন, যা সময়কে পেছনে ঘোরানোর প্রতীক!

যে মানুষটি আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিচ্ছেন, তিনি সময় পেছনে ফেলার এক প্রতীকী বস্তু দিয়ে সময়ের হিসেব লিখেছেন, এই দৃশ্য এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। এই চিঠিতে সময়ের ছাপ স্পষ্ট; বছরের পর বছর ত্যাগ, হার, সমালোচনা, ফাইনাল হারার কষ্ট এবং অবশেষে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি দিনগুলো।

বিদায়ী চিঠিটি একটি নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটি পাতার ওপর লেখা। দিন, ছোট আইকন বা তারিখের জায়গা থাকলেও পাতাগুলো ছিল একেবারে খালি। মেসি কালো কালির স্পষ্ট অক্ষরে হাতে লিখে সেগুলোকে এক ইতিহাস বানিয়ে দিলেন। এমনকি হুটহাট লেখার কারণে কিছু কাটাকাটিও রয়েছে এতে। পাতা তিনটি পাশাপাশি সাজানো, যেন পড়ে মনে হয় তার জাতীয় দলের গল্পের শেষ পৃষ্ঠা এটি।

প্রথম পাতায় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথা জানিয়ে মেসি লিখেছেন সেই শক্তিশালী বাক্য, ‘আমি আমার সবকিছু দিয়েছি… নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছি, আমার আর কিছুই দেওয়ার বাকি নেই।’ কোনো বার্তা সংস্থা দিয়ে তৈরি করা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, এখানে রয়েছে ক্লান্তি, সমাপ্তি এবং একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার সহজ স্বীকারোক্তি।

দ্বিতীয় পাতাটি ছিল স্মৃতির পথ ধরে হাঁটা। পরিবার, সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও সেশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘এই ২০ বছরের সমস্ত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।’ এই পাতায় দুই দশকের সেই দীর্ঘ যাত্রার প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে, যেখানে এক ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রায় সব অভিজ্ঞতাই জমা হয়েছিল।

তৃতীয় পাতায় এসে বার্তার সুর আবার বদলে যায়। অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও খাঁটি আর্জেন্টাইন মেজাজে শেষ টানেন তিনি, ‘আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!’

চিঠির সঙ্গে মেসি পোস্ট করেছেন নিজের জাতীয় দলের সেরা মুহূর্তগুলো দিয়ে তৈরি একটি আবেগঘন ভিডিও। আলবিসিলেস্তেদের (আর্জেন্টিনা দল) হয়ে নিজের যাত্রার এক অডিও-ভিজ্যুয়াল চিত্র তুলে ধরেছেন সেখানে।

অভিষেকের প্রথম দিনগুলো, বড় বড় টুর্নামেন্ট, ব্যর্থতার মুহূর্ত এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের আনন্দ; সবই ধরা পড়েছে এতে। হাত দিয়ে লেখা চিঠির পাশাপাশি এই ভিডিওটি যেন পুরো গল্পটিকে চোখের সামনে জীবন্ত করে তুলেছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় এসএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো ছাত্রদল

তিন পৃষ্ঠার চিঠি ও হ্যারি পটারের কলমে মেসির বিদায়

Update Time : 07:51:42 am, Tuesday, 1 September 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : লিওনেল মেসি যেন এমন এক গল্পের ইতি টানলেন, যা মনে হতো কখনোই শেষ হবে না। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে ২১ বছরের দীর্ঘ যাত্রার পর এক আবেগঘন বার্তা ও স্মৃতিময় ভিডিওর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে মেসির এই ঘোষণা কেবল কিছু শব্দের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বার্তাটির সঙ্গে যে ছবিটি তিনি বেছে নিয়েছেন, তা ছিল গভীর প্রতীকী অর্থে ভরা।
একটি নোটপ্যাডের ছেঁড়া তিনটি পাতায় সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে (ক্যাপিটাল লেটার) নিজের হাতে বিদায়ী বার্তাটি লিখেছেন মেসি।

চিঠিটির শুরুতেই রয়েছে এমন এক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারী অনুভূতি, এরপর দুই দশকের স্মৃতির পাতা উল্টানো এবং শেষে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!”
তবে চিঠির পাতাগুলোর ওপর রাখা একটি বিশেষ বস্তু সবার দৃষ্টি কেড়েছে, একটি সোনালি রঙের হ্যারি পটার কলম।

মেসি যে কলমটি দিয়ে এই বিদায়ী বার্তা লিখেছেন, সেটি কোনো সাধারণ কলম নয়।

কলমটির ওপরের অংশে রয়েছে জে. কে. রাউলিংয়ের কল্পবিজ্ঞান জগতের জনপ্রিয় চরিত্র হারমিওনি গ্রেঞ্জারের ব্যবহৃত ‘টাইম-টার্নার’। ঐতিহ্যবাহী গোলাকার ফ্রেমের মাঝখানে রয়েছে ছোট এক বালুঘড়ি (আওয়ারগ্লাস)।
সোনালি প্রলেপ দেওয়া মেটালিক বডিতে কালো রঙে মুদ্রিত রয়েছে হ্যারি পটারের অফিসিয়াল লোগো। উল্লেখ্য, মেসি, তার স্ত্রী আন্তোনেলা ও সন্তানরা সবাই এই সিরিজের ভক্ত, তাই এটি মোটেও কোনো সাধারণ বিষয় নয়।

চিঠির পে প্রেক্ষাপটে এই ‘টাইম-টার্নার’-এর উপস্থিতি এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। হ্যারি পটারের গল্পে টাইম-টার্নার হলো একটি জাদুকরী বস্তু, যা দিয়ে সময়ে পেছনে ভ্রমণ করা যায়। ২০ বছর আগের অভিষেকের স্মৃতিচারণ করা একটি চিঠির ওপর মেসি ঠিক এমন একটি জিনিস রাখলেন, যা সময়কে পেছনে ঘোরানোর প্রতীক!

যে মানুষটি আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিচ্ছেন, তিনি সময় পেছনে ফেলার এক প্রতীকী বস্তু দিয়ে সময়ের হিসেব লিখেছেন, এই দৃশ্য এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। এই চিঠিতে সময়ের ছাপ স্পষ্ট; বছরের পর বছর ত্যাগ, হার, সমালোচনা, ফাইনাল হারার কষ্ট এবং অবশেষে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি দিনগুলো।

বিদায়ী চিঠিটি একটি নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটি পাতার ওপর লেখা। দিন, ছোট আইকন বা তারিখের জায়গা থাকলেও পাতাগুলো ছিল একেবারে খালি। মেসি কালো কালির স্পষ্ট অক্ষরে হাতে লিখে সেগুলোকে এক ইতিহাস বানিয়ে দিলেন। এমনকি হুটহাট লেখার কারণে কিছু কাটাকাটিও রয়েছে এতে। পাতা তিনটি পাশাপাশি সাজানো, যেন পড়ে মনে হয় তার জাতীয় দলের গল্পের শেষ পৃষ্ঠা এটি।

প্রথম পাতায় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথা জানিয়ে মেসি লিখেছেন সেই শক্তিশালী বাক্য, ‘আমি আমার সবকিছু দিয়েছি… নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছি, আমার আর কিছুই দেওয়ার বাকি নেই।’ কোনো বার্তা সংস্থা দিয়ে তৈরি করা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, এখানে রয়েছে ক্লান্তি, সমাপ্তি এবং একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার সহজ স্বীকারোক্তি।

দ্বিতীয় পাতাটি ছিল স্মৃতির পথ ধরে হাঁটা। পরিবার, সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও সেশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘এই ২০ বছরের সমস্ত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।’ এই পাতায় দুই দশকের সেই দীর্ঘ যাত্রার প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে, যেখানে এক ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রায় সব অভিজ্ঞতাই জমা হয়েছিল।

তৃতীয় পাতায় এসে বার্তার সুর আবার বদলে যায়। অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও খাঁটি আর্জেন্টাইন মেজাজে শেষ টানেন তিনি, ‘আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!’

চিঠির সঙ্গে মেসি পোস্ট করেছেন নিজের জাতীয় দলের সেরা মুহূর্তগুলো দিয়ে তৈরি একটি আবেগঘন ভিডিও। আলবিসিলেস্তেদের (আর্জেন্টিনা দল) হয়ে নিজের যাত্রার এক অডিও-ভিজ্যুয়াল চিত্র তুলে ধরেছেন সেখানে।

অভিষেকের প্রথম দিনগুলো, বড় বড় টুর্নামেন্ট, ব্যর্থতার মুহূর্ত এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের আনন্দ; সবই ধরা পড়েছে এতে। হাত দিয়ে লেখা চিঠির পাশাপাশি এই ভিডিওটি যেন পুরো গল্পটিকে চোখের সামনে জীবন্ত করে তুলেছে।