ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সুষ্ঠু নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়, এবার যেকোনো মূল্য তা প্রমাণ করতে হবে।
আজ রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো। বিএনপির দাবি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হবে না। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরে ছাড়া নির্বাচন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দুই দলের এমন অবস্থানের মধ্যেই গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, এবার যেকোনো মূল্য তা প্রমাণ করতে হবে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এবারের নির্বাচনে সবাইকে খুবই মনোযোগী হতে হবে। কারণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন নিয়ে বাগবিতণ্ডা আছে এবং রাজনীতির একটি অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। আবার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক আছে। তাই এবার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে রাজনীতিতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে জানিয়ে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এই নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক চলছে।’
নির্বাচনে সহায়তা করতে সরকার সাংবিধানিকভাবে বাধ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের সহায়তা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য পরিবেশ অনুকূলে রাখতে হবে।’
সিইসি আরও বলেন, ‘ভোটার যদি জানে কেন্দ্র দখল হয়ে গেছে, তাহলে তারা ভোট প্রত্যাখ্যান করবে।’
এর আগে সকালে রাজধানীর আগারগাঁও সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত আছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। এরপর সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়। বিএনপির দাবি দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। এর ফলে তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে। পরবর্তীতে নানান নাটকীয়তা ও সংলাপের পর অবশেষে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। তবে ওই নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসন পায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। এরপর তারা কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করলেও শেষ পর্যন্ত সংসদে যায়। আর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তবে এবার আর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছে না দলটি। সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো। তাদের উত্তাপের মধ্যেই গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এই তফসিল প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভোটে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপিসহ ২৭টি রাজনৈতিক দল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























