12:36 am, Tuesday, 20 January 2026

দ্রব্যমূল্য কমানো, সার্বজনীন রেশনিং চালু ও ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীসভা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো, স্বলমূল্যে সার্বজনীন রেশনিং চালু, বাড়িভাড়া-গাড়িভাড়া কমানো ও মৌলভীবাজার শহর থেকে রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার দাবি জাননো হয়। ০২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত ৮ টায় সংগঠনের কোদালীপুল আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত কর্মী সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।
আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া। কর্মসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো: দুলাল মিয়া, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কালেঙ্গা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ গিয়াসউদ্দিন, ওয়াপদাগেট আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ আলী, কোদালীপুল আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল আহমেদ, সহ-সভাপতি জিল্লুর রহমান প্রমূখ।
সভায় সভায় বক্তারা বলেন চাল-ডাল, তেল-লবন-চিনি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ, শাক-সবজিসহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। এমন কি কাঁচামরিচের দামও গরীব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া জীবনরক্ষাকারী ঔষুধের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরকম অবস্থায় সরকার সকল ধরনের জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির পর নামকাওয়াস্তে ৫ টাকা মূল্য কমিয়েছে সাধারণ মানুষ যার সুফল না পেলেও পরিবহন মালিকদের মুনাফা আরও বেড়েছে। জ্বালানি তেল, গাড়িভাড়া তথা পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি ও ইউরিয়া সারের মূল্য বৃদ্ধি করে নিন্মআয়ের মানুষকে আরও দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের জীবন ও জীবিকাকে উপেক্ষা গ্যাস-বিদ্যুত-জ্বালানিসহ সকল ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। জ্বালানিতেলের পর সরকার আবারও গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। উপরন্তু দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আতœকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে; আর এখন বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাতে এই বাহনগুলো উচ্ছেদের তৎপরতা চালাচ্ছে। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা না করে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চরম অমানবিক। ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইকের ব্যবহারিক উপযোগিতার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন বর্তমান আধুনিক সমাজে মানুষ হয়ে মানুষকে টেনে নেওয়ার অমানবিক পেশার পরিবর্তে ব্যাটারি/মোটরের সাহায্যে চালিত এই সকল পরিবহণে যেমন চালকের শারিরিক শক্তি কম লাগে তেমনি যাত্রী ও মালামাল পরিবহণে সময় ও ভাড়াও কম লাগে। তাছাড়া গত ৪ এপ্রিল/২০২২ উচ্চ আদালতের এক রায়ে মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হলেও আঞ্চলিক সড়কে ও শহরের মধ্যে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান চলাচলে কোন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্ঠাও গণমাধ্যমের(একাত্তর টিভি) সাথে আলাপকালে বলেন আগামী দিনের পরিবহণ হচ্ছে বিদ্যুতচালিত গাড়ি(ইভি), যা হবে জ্বালানিতেলের চেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাত তুলে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ করা অযৌক্তিক। তাই হাজার হাজার শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা রক্ষার্থে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে হবে।
সভা থেকে ব্যাটারি/মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধ, রিকশা শ্রমিকদের স্থায়ী স্ট্যান্ড, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ ন্যায্য ভাড়ার তালিকা প্রদান, নিত্যপণ্যের উদ্ধগতি রোধ, পূর্ণাঙ্গ সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

দ্রব্যমূল্য কমানো, সার্বজনীন রেশনিং চালু ও ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি

Update Time : 06:53:51 am, Saturday, 3 September 2022

স্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীসভা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো, স্বলমূল্যে সার্বজনীন রেশনিং চালু, বাড়িভাড়া-গাড়িভাড়া কমানো ও মৌলভীবাজার শহর থেকে রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার দাবি জাননো হয়। ০২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত ৮ টায় সংগঠনের কোদালীপুল আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত কর্মী সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।
আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া। কর্মসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো: দুলাল মিয়া, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কালেঙ্গা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ গিয়াসউদ্দিন, ওয়াপদাগেট আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ আলী, কোদালীপুল আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল আহমেদ, সহ-সভাপতি জিল্লুর রহমান প্রমূখ।
সভায় সভায় বক্তারা বলেন চাল-ডাল, তেল-লবন-চিনি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ, শাক-সবজিসহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। এমন কি কাঁচামরিচের দামও গরীব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া জীবনরক্ষাকারী ঔষুধের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরকম অবস্থায় সরকার সকল ধরনের জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির পর নামকাওয়াস্তে ৫ টাকা মূল্য কমিয়েছে সাধারণ মানুষ যার সুফল না পেলেও পরিবহন মালিকদের মুনাফা আরও বেড়েছে। জ্বালানি তেল, গাড়িভাড়া তথা পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি ও ইউরিয়া সারের মূল্য বৃদ্ধি করে নিন্মআয়ের মানুষকে আরও দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের জীবন ও জীবিকাকে উপেক্ষা গ্যাস-বিদ্যুত-জ্বালানিসহ সকল ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। জ্বালানিতেলের পর সরকার আবারও গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। উপরন্তু দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আতœকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে; আর এখন বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাতে এই বাহনগুলো উচ্ছেদের তৎপরতা চালাচ্ছে। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা না করে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চরম অমানবিক। ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইকের ব্যবহারিক উপযোগিতার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন বর্তমান আধুনিক সমাজে মানুষ হয়ে মানুষকে টেনে নেওয়ার অমানবিক পেশার পরিবর্তে ব্যাটারি/মোটরের সাহায্যে চালিত এই সকল পরিবহণে যেমন চালকের শারিরিক শক্তি কম লাগে তেমনি যাত্রী ও মালামাল পরিবহণে সময় ও ভাড়াও কম লাগে। তাছাড়া গত ৪ এপ্রিল/২০২২ উচ্চ আদালতের এক রায়ে মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হলেও আঞ্চলিক সড়কে ও শহরের মধ্যে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান চলাচলে কোন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্ঠাও গণমাধ্যমের(একাত্তর টিভি) সাথে আলাপকালে বলেন আগামী দিনের পরিবহণ হচ্ছে বিদ্যুতচালিত গাড়ি(ইভি), যা হবে জ্বালানিতেলের চেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাত তুলে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ করা অযৌক্তিক। তাই হাজার হাজার শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা রক্ষার্থে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে হবে।
সভা থেকে ব্যাটারি/মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধ, রিকশা শ্রমিকদের স্থায়ী স্ট্যান্ড, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ ন্যায্য ভাড়ার তালিকা প্রদান, নিত্যপণ্যের উদ্ধগতি রোধ, পূর্ণাঙ্গ সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।