7:19 am, Thursday, 18 June 2026

দ্রুত গণপরিবহন চালু সহ চার দফা দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট :: লকডাউনে গণপরিবহন খাতের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। পরিবহন মালিকদের কাছে বর্তমানে করোনার চেয়ে বড় ভয় হয়ে উঠেছে ঋণের বোঝা। এ অবস্থায় গণপরিবহন খাতের জন্য চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর গাবতলীর বাগবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ।

ঈদ সামনে রেখে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত গণপরিবহন চালুর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ২ কোটি যাত্রী গণপরিবহনে সড়কপথে যাতায়াত করে থাকেন। করোনা সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে মালিক-শ্রমিক, কর্মচারীদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পরিবহন পরিচালনার সংশ্লিষ্ট ব্যয় চলমান রয়েছে জানিয়ে রমেশ চন্দ্র ঘোষ এ অবস্থায় গণপরিবহন খাতের জন্য চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো-

১. কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গণপরিবহন মালিকদের গাড়ি মেরামত এবং কর্মরত শ্রমিক,
কর্মচারীদের বেতন, ঈদ-বোনাস পুনর্বাসনের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার আবেদন।

২. গণপরিবহন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ বিপরীতে সমস্ত ঋণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফসহ কিস্তি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত করতে হবে এবং লোন অ্যাকাউন্ট ৩০ জুন পর্যন্ত ক্লাসিফায়েড না করার আবেদন।

৩. গণপরিবহন মালিকদের এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে সকল ক্লাসিফায়েড লোন হালনাগাদ করার সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

৪. কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবে-২০২১ সালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধন্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে পুনরায় এই দুর্যোগে সময়ময় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনা করার সুযোগ দানে আকুল আবেদন।

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল। এরপর সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যায়, যাতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন এবং দোকানপাট। সরকারের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

শত শত নেতাকর্মী নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সমাবেশে মোসারফ

দ্রুত গণপরিবহন চালু সহ চার দফা দাবি

Update Time : 09:40:11 am, Thursday, 29 April 2021

ডেস্ক রিপোর্ট :: লকডাউনে গণপরিবহন খাতের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। পরিবহন মালিকদের কাছে বর্তমানে করোনার চেয়ে বড় ভয় হয়ে উঠেছে ঋণের বোঝা। এ অবস্থায় গণপরিবহন খাতের জন্য চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর গাবতলীর বাগবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ।

ঈদ সামনে রেখে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত গণপরিবহন চালুর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ২ কোটি যাত্রী গণপরিবহনে সড়কপথে যাতায়াত করে থাকেন। করোনা সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে মালিক-শ্রমিক, কর্মচারীদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পরিবহন পরিচালনার সংশ্লিষ্ট ব্যয় চলমান রয়েছে জানিয়ে রমেশ চন্দ্র ঘোষ এ অবস্থায় গণপরিবহন খাতের জন্য চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো-

১. কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গণপরিবহন মালিকদের গাড়ি মেরামত এবং কর্মরত শ্রমিক,
কর্মচারীদের বেতন, ঈদ-বোনাস পুনর্বাসনের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার আবেদন।

২. গণপরিবহন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ বিপরীতে সমস্ত ঋণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফসহ কিস্তি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত করতে হবে এবং লোন অ্যাকাউন্ট ৩০ জুন পর্যন্ত ক্লাসিফায়েড না করার আবেদন।

৩. গণপরিবহন মালিকদের এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে সকল ক্লাসিফায়েড লোন হালনাগাদ করার সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

৪. কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবে-২০২১ সালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধন্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে পুনরায় এই দুর্যোগে সময়ময় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনা করার সুযোগ দানে আকুল আবেদন।

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল। এরপর সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যায়, যাতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন এবং দোকানপাট। সরকারের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকছে।