5:37 am, Thursday, 19 February 2026

নির্বাচন কমিশন আইন এক অনন্য মাইলফলক : কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আইন এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

শুক্রবার নিজের সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে একথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জনগণের বহুল প্রত্যাশিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল’ পাস হয়েছে ৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সংবিধানের অভিপ্রায় অনুযায়ী দেশের পঞ্চাশ বছর পর বিলটি পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় সংসদের সব সদস্যের প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী ইসি গঠন ও এটিকে শক্তিশালী করতে যা কিছু হয়েছে তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো ইসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবিধানের আলোকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে এই আইন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

এই আইনকে কেউ কেউ অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে যে মন্তব্য করেছেন সে প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিবের এই আইন না মানার বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক। তবে যে দল বা ব্যক্তি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে, তাদের কাছ থেকে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যই প্রত্যাশিত ছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব দেশ বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী গণধিকৃত গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে ইসি গঠন আইনের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য রেখেছেন তা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয় সংসদের সব সদস্য, দেশের সংবিধান এবং আইনের শাসনের প্রতি নির্মম উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি বিএনপির কোনো বিশ্বাস নেই। তাই বিএনপি জনগণের ভোট নয়, বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়।

বিএনপি লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি স্বয়ং মির্জা ফখরুল নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় বিএনপি মহাসচিবের নিজে স্বাক্ষর করে দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দেওয়া জাতির জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন নির্বাচন ছাড়া ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে, তারা কাদের দেওয়া টাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন? বাংলাদেশ থেকে এই অর্থ কোন চ্যানেলে বিদেশে পাচার করা হয়েছে? তার হিসাব কি বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছেন?

ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবের কাছে এতসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না পারলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক ও আইনগত অধিকার থাকবে না।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বাংলাদেশ: স্থিতিশীলতা, সুরক্ষা ও কৌশলগত ভবিষ্যতের প্রশ্নে ভারতের ভূমিকা

নির্বাচন কমিশন আইন এক অনন্য মাইলফলক : কাদের

Update Time : 11:14:38 am, Friday, 28 January 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আইন এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

শুক্রবার নিজের সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে একথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জনগণের বহুল প্রত্যাশিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল’ পাস হয়েছে ৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সংবিধানের অভিপ্রায় অনুযায়ী দেশের পঞ্চাশ বছর পর বিলটি পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় সংসদের সব সদস্যের প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী ইসি গঠন ও এটিকে শক্তিশালী করতে যা কিছু হয়েছে তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো ইসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবিধানের আলোকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে এই আইন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

এই আইনকে কেউ কেউ অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে যে মন্তব্য করেছেন সে প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিবের এই আইন না মানার বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক। তবে যে দল বা ব্যক্তি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে, তাদের কাছ থেকে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যই প্রত্যাশিত ছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব দেশ বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী গণধিকৃত গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে ইসি গঠন আইনের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য রেখেছেন তা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয় সংসদের সব সদস্য, দেশের সংবিধান এবং আইনের শাসনের প্রতি নির্মম উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি বিএনপির কোনো বিশ্বাস নেই। তাই বিএনপি জনগণের ভোট নয়, বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়।

বিএনপি লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি স্বয়ং মির্জা ফখরুল নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় বিএনপি মহাসচিবের নিজে স্বাক্ষর করে দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দেওয়া জাতির জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন নির্বাচন ছাড়া ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে, তারা কাদের দেওয়া টাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন? বাংলাদেশ থেকে এই অর্থ কোন চ্যানেলে বিদেশে পাচার করা হয়েছে? তার হিসাব কি বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছেন?

ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবের কাছে এতসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না পারলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক ও আইনগত অধিকার থাকবে না।