9:45 pm, Sunday, 19 July 2026

ফরাসিরা প্রয়োজনে ‘নোংরা’ ফুটবলটাও খেলতে জানে: এমবাপ্পে

ডেস্ক রিপোর্ট : ফরাসি ফুটবল মানেই যেন সুন্দর আর নান্দনিক পাসের পসরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে চেনা সেই রূপে দেখা গেল না ফ্রান্সকে।

লাতিন আমেরিকার দলটির আগ্রাসী আর শরীরনির্ভর ফুটবলের জবাবটা মাঠে ঠিক সেভাবেই দিয়েছে ফরাসিরা। ম্যাচ শেষে তাই কিলিয়ান এমবাপ্পের কণ্ঠেও ঝরল কড়া সুর।

প্যারাগুয়েকে একহাত নিয়ে এই তারকার সোজা কথা, ফরাসিরা প্রয়োজনে ‘নোংরা’ ফুটবলটাও খেলতে জানে!
ফিলাডেলফিয়ায় শনিবার শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পুরো ম্যাচেই প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের কড়া ট্যাকল আর উসকানির মুখে পড়তে হয়েছে ফরাসিদের।

তবে তাতে ঘাবড়ে না গিয়ে উল্টো ইটের জবাব পাটকেলে দিয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এমবাপ্পে।

রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা স্যুট-বুট পরে মাঠে নামব, আর শুধু সুন্দর সুন্দর পাস আর কারিকুরি করে দর্শকদের বিনোদন দেব। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে, আমরা শুধু সুন্দর ফুটবলই খেলি না। আমরাও ‘নোংরা’ ফুটবলটা খেলতে জানি, আর আজ সেটাই করে দেখিয়েছি। এমনকি ওই কাজে আমরা ওদের চেয়েও ভালো ছিলাম। দরকার পড়লে আমরা হাত নোংরা করতেও প্রস্তুত।’
মাঠের এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল হাত মেলাতে এলে তাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যান এমবাপ্পে। এতেই মেজাজ হারিয়ে এমবাপ্পের দিকে বল ছুঁড়ে মারেন গিল, যার জেরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রীতিমতো হাতাহাতি বেধে যায়।

পরে অবশ্য মিক্সড জোনে গিল নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি হাত বাড়িয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে পাত্তাই দিল না। উত্তেজনার বশে রাগের মাথায় আমি কাজটা করে ফেলেছি। তবে সত্যি বলতে ফ্রান্স দুর্দান্ত খেলেছে, তারা বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার।’

ম্যাচের পরিসংখ্যানও বলে দিচ্ছে কতটা শারীরিক শক্তির মহড়া হয়েছে মাঠে। প্যারাগুয়ে পুরো ম্যাচে ১৩টি ফাউল করেছে, অথচ রেফারি তাদের একটিও কার্ড দেখাননি। উল্টো ফ্রান্সের তিন খেলোয়াড়কে দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। ফরাসি মিডফিল্ডার রায়ান চেরকিও এমবাপ্পের সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘লাতিন দলগুলো মাঠে তো আর আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আসবে না। তবে আজকের ম্যাচটা সবাইকে মনে করিয়ে দিল, পরিস্থিতি কঠিন হলেও আমরা মাঠে বুক চিতিয়ে লড়তে জানি।’

প্যারাগুয়ের এই শরীরনির্ভর ফুটবলের কঠিন বাধা পেরিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফরাসিদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ আফ্রিকান চমক মরক্কো।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রতিনিধিদলের হেক্সাস মৌলভীবাজার সফর, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান।

ফরাসিরা প্রয়োজনে ‘নোংরা’ ফুটবলটাও খেলতে জানে: এমবাপ্পে

Update Time : 08:45:50 am, Sunday, 5 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ফরাসি ফুটবল মানেই যেন সুন্দর আর নান্দনিক পাসের পসরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে চেনা সেই রূপে দেখা গেল না ফ্রান্সকে।

লাতিন আমেরিকার দলটির আগ্রাসী আর শরীরনির্ভর ফুটবলের জবাবটা মাঠে ঠিক সেভাবেই দিয়েছে ফরাসিরা। ম্যাচ শেষে তাই কিলিয়ান এমবাপ্পের কণ্ঠেও ঝরল কড়া সুর।

প্যারাগুয়েকে একহাত নিয়ে এই তারকার সোজা কথা, ফরাসিরা প্রয়োজনে ‘নোংরা’ ফুটবলটাও খেলতে জানে!
ফিলাডেলফিয়ায় শনিবার শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পুরো ম্যাচেই প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের কড়া ট্যাকল আর উসকানির মুখে পড়তে হয়েছে ফরাসিদের।

তবে তাতে ঘাবড়ে না গিয়ে উল্টো ইটের জবাব পাটকেলে দিয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এমবাপ্পে।

রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা স্যুট-বুট পরে মাঠে নামব, আর শুধু সুন্দর সুন্দর পাস আর কারিকুরি করে দর্শকদের বিনোদন দেব। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে, আমরা শুধু সুন্দর ফুটবলই খেলি না। আমরাও ‘নোংরা’ ফুটবলটা খেলতে জানি, আর আজ সেটাই করে দেখিয়েছি। এমনকি ওই কাজে আমরা ওদের চেয়েও ভালো ছিলাম। দরকার পড়লে আমরা হাত নোংরা করতেও প্রস্তুত।’
মাঠের এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল হাত মেলাতে এলে তাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যান এমবাপ্পে। এতেই মেজাজ হারিয়ে এমবাপ্পের দিকে বল ছুঁড়ে মারেন গিল, যার জেরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রীতিমতো হাতাহাতি বেধে যায়।

পরে অবশ্য মিক্সড জোনে গিল নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি হাত বাড়িয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে পাত্তাই দিল না। উত্তেজনার বশে রাগের মাথায় আমি কাজটা করে ফেলেছি। তবে সত্যি বলতে ফ্রান্স দুর্দান্ত খেলেছে, তারা বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার।’

ম্যাচের পরিসংখ্যানও বলে দিচ্ছে কতটা শারীরিক শক্তির মহড়া হয়েছে মাঠে। প্যারাগুয়ে পুরো ম্যাচে ১৩টি ফাউল করেছে, অথচ রেফারি তাদের একটিও কার্ড দেখাননি। উল্টো ফ্রান্সের তিন খেলোয়াড়কে দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। ফরাসি মিডফিল্ডার রায়ান চেরকিও এমবাপ্পের সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘লাতিন দলগুলো মাঠে তো আর আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আসবে না। তবে আজকের ম্যাচটা সবাইকে মনে করিয়ে দিল, পরিস্থিতি কঠিন হলেও আমরা মাঠে বুক চিতিয়ে লড়তে জানি।’

প্যারাগুয়ের এই শরীরনির্ভর ফুটবলের কঠিন বাধা পেরিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফরাসিদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ আফ্রিকান চমক মরক্কো।