7:45 am, Thursday, 18 June 2026

ফিফার সঙ্গে মেগা চুক্তি, ভারতে ২০২৬ বিশ্বকাপ দেখাবে ‘জি’

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। ঠিক এই শেষ মুহূর্তে এসে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার ভারতের জন্য সম্প্রচার জটিলতার অবসান ঘটল।

অবশেষে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট’ (Zee Entertainment)-এর সঙ্গে বড় ধরনের সম্প্রচার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ভারতে বিশ্বকাপের টিভি ও ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রি না হওয়ায় যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, সোমবার (১ জুন) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে তার অবসান হলো।

এই ঘোষণার পর শেয়ার বাজারে ‘জি’-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিফা এবং জি এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, এটি কেবল ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নয়, বরং আগামী ৮ বছরের একটি মেগা ডিল।

২০৩৪ সাল পর্যন্ত ফিফার মোট ৩৯টি টুর্নামেন্টের ভারতীয় সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে জি। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালের নারীদের ফুটবল বিশ্বকাপ।
এই চুক্তির আর্থিক অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও জানা গেছে, শুরুতে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল। কিন্তু ভারতের বাজারে কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় পরবর্তীতে ফিফা তাদের দাবি কমিয়ে ৬০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। এই চুক্তির মাধ্যমে রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ উদ্যোগ ‘জিওস্টার’ (JioStar)-এর একচেটিয়া স্পোর্টস বাজারে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রবেশ করল ‘জি’। উল্লেখ্য, ভারতের বাজারে আইপিএল ক্রিকেট থেকে শুরু করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের স্বত্ব বর্তমানে জিওস্টারের দখলে।

কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের ভারতীয় স্বত্ব ভায়াকম১৮ (Viacom18) প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিল, কারণ কাতারের সময় ভারতের দর্শকদের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে, যার সঙ্গে ভারতের সময়ের ব্যবধান ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।

এই বিশাল সময়ের ব্যবধানের কারণে টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি ম্যাচ ভারতের দর্শকেরা মাঝরাতের আগে দেখতে পাবেন। বাকি ৯০টি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ভারতের মধ্যরাত বা ভোররাতে। এমনকি আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচটি গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হলেও, ভারতে তখন ঘড়ির কাঁটায় থাকবে ২০ জুলাই রাত ১২টা ৩০ মিনিট।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ বিশ্বকাপের ৯৮.৪ শতাংশ ম্যাচ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ৮২.৫ শতাংশ ম্যাচ ভারতের দর্শকেরা মাঝরাতের আগেই দেখতে পেরেছিলেন। সেই তুলনায় এবারের অসময়ের ম্যাচগুলোর কারণে ভারতের সম্প্রচারকদের মধ্যে আগ্রহের কমতি ছিল।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলারা ক্যাপিটাল’-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট করণ তৌরানি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, ভারতের ক্রীড়া অর্থনীতি মূলত ক্রিকেটনির্ভর। আইপিএল যারা দেখেন, তাদের খুব ছোট একটি অংশ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেন এবং মাঝরাতের পর খেলা দেখার দর্শকের সংখ্যা আরও অনেক কম।

তৌরানি আরও ব্যাখ্যা করেন, ভারতে বর্তমানে টেলিভিশন মাধ্যমটি বেশ কঠিন সময় পার করছে। এই ধরনের বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলো থেকে মূলত ডিজিটাল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোই বড় অঙ্কের অর্থ আয় করে থাকে। টিভি স্বত্ব নিয়ে বড় লাভ না হওয়ার শঙ্কাটিই এতদিন ফিফার স্বত্ব অবিক্রীত থাকার মূল কারণ ছিল।

তবে সমস্ত জটিলতা পেরিয়ে ‘জি’-এর এই ঐতিহাসিক চুক্তি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এলো। এখন টেলিভিশনের পর্দায় বসেই বিশ্বকাপের উম্মাদনায় ভাসতে পারবেন তারা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

শত শত নেতাকর্মী নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সমাবেশে মোসারফ

ফিফার সঙ্গে মেগা চুক্তি, ভারতে ২০২৬ বিশ্বকাপ দেখাবে ‘জি’

Update Time : 08:16:32 am, Tuesday, 2 June 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। ঠিক এই শেষ মুহূর্তে এসে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার ভারতের জন্য সম্প্রচার জটিলতার অবসান ঘটল।

অবশেষে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট’ (Zee Entertainment)-এর সঙ্গে বড় ধরনের সম্প্রচার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ভারতে বিশ্বকাপের টিভি ও ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রি না হওয়ায় যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, সোমবার (১ জুন) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে তার অবসান হলো।

এই ঘোষণার পর শেয়ার বাজারে ‘জি’-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিফা এবং জি এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, এটি কেবল ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নয়, বরং আগামী ৮ বছরের একটি মেগা ডিল।

২০৩৪ সাল পর্যন্ত ফিফার মোট ৩৯টি টুর্নামেন্টের ভারতীয় সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে জি। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালের নারীদের ফুটবল বিশ্বকাপ।
এই চুক্তির আর্থিক অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও জানা গেছে, শুরুতে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল। কিন্তু ভারতের বাজারে কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় পরবর্তীতে ফিফা তাদের দাবি কমিয়ে ৬০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। এই চুক্তির মাধ্যমে রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ উদ্যোগ ‘জিওস্টার’ (JioStar)-এর একচেটিয়া স্পোর্টস বাজারে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রবেশ করল ‘জি’। উল্লেখ্য, ভারতের বাজারে আইপিএল ক্রিকেট থেকে শুরু করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের স্বত্ব বর্তমানে জিওস্টারের দখলে।

কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের ভারতীয় স্বত্ব ভায়াকম১৮ (Viacom18) প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিল, কারণ কাতারের সময় ভারতের দর্শকদের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে, যার সঙ্গে ভারতের সময়ের ব্যবধান ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।

এই বিশাল সময়ের ব্যবধানের কারণে টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি ম্যাচ ভারতের দর্শকেরা মাঝরাতের আগে দেখতে পাবেন। বাকি ৯০টি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ভারতের মধ্যরাত বা ভোররাতে। এমনকি আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচটি গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হলেও, ভারতে তখন ঘড়ির কাঁটায় থাকবে ২০ জুলাই রাত ১২টা ৩০ মিনিট।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ বিশ্বকাপের ৯৮.৪ শতাংশ ম্যাচ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ৮২.৫ শতাংশ ম্যাচ ভারতের দর্শকেরা মাঝরাতের আগেই দেখতে পেরেছিলেন। সেই তুলনায় এবারের অসময়ের ম্যাচগুলোর কারণে ভারতের সম্প্রচারকদের মধ্যে আগ্রহের কমতি ছিল।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলারা ক্যাপিটাল’-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট করণ তৌরানি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, ভারতের ক্রীড়া অর্থনীতি মূলত ক্রিকেটনির্ভর। আইপিএল যারা দেখেন, তাদের খুব ছোট একটি অংশ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেন এবং মাঝরাতের পর খেলা দেখার দর্শকের সংখ্যা আরও অনেক কম।

তৌরানি আরও ব্যাখ্যা করেন, ভারতে বর্তমানে টেলিভিশন মাধ্যমটি বেশ কঠিন সময় পার করছে। এই ধরনের বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলো থেকে মূলত ডিজিটাল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোই বড় অঙ্কের অর্থ আয় করে থাকে। টিভি স্বত্ব নিয়ে বড় লাভ না হওয়ার শঙ্কাটিই এতদিন ফিফার স্বত্ব অবিক্রীত থাকার মূল কারণ ছিল।

তবে সমস্ত জটিলতা পেরিয়ে ‘জি’-এর এই ঐতিহাসিক চুক্তি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এলো। এখন টেলিভিশনের পর্দায় বসেই বিশ্বকাপের উম্মাদনায় ভাসতে পারবেন তারা।