5:40 pm, Monday, 11 May 2026

বইমেলায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট :: অমর একুশে বইমেলা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বইমেলায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বইমেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে ডিএমপির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি একথা জানান।

মো. সরওয়ার বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও বইমেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কন্ট্রোল রুমে রাতেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন। বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
তিনি আরও বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইট কেন্দ্রিক ও অভ্যন্তরীণ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

ইউনিফর্মড পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোকসমাগম বেশি থাকে বিধায় এ সময়গুলোতে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বইমেলা প্রাঙ্গণ কেন্দ্রিক ফুট পেট্রোল ব্যবস্থা ও মুক্তমঞ্চ কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলার প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে দ্বারা চেকিংয়ের পাশাপাশি ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বড় ব্যাগ, কার্টন, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মেলায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার ভেতরে ও চারপাশে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকা সুইপিং করা হবে। হকার, বখাটে, ছিনতাইকারী ও পকেটমারের তৎপরতা রোধে বিশেষ টিমের ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় আগত নারী-শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলা কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রবেশ পথে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পিকেট ও দূরবর্তী চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, বইমেলা প্রাঙ্গণে ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। সার্চ লাইটের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিবি, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াটসহ ডিএমপির বিশেষায়িত টিমগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বইমেলায় লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, হেল্প ডেস্ক ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র থাকবে। মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আগত দর্শনার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। বইমেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক পৃথক ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বইমেলা উপলক্ষে কয়েকটি জায়গায় ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হবে। বইমেলা চলাকালীন দিনে ও রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করবে না। এবার টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা সবসময় বন্ধ থাকবে না। আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা বিবেচনা করে কখনো বন্ধ থাকবে, কখনো খোলা থাকবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, বইমেলায় আগত অনুমোদিত যানবাহনের জন্য পার্কিং স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্কিং এলাকায় যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ ও বের হওয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নো-পার্কিং জোনে কোন গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। নীলক্ষেত/ভিসি বাংলো ক্রসিং থেকে আগত গাড়ি হাকীম চত্বর ইউটার্ন/রাইট টার্ন, শাহবাগ ক্রসিং থেকে আগত গাড়ি রাজু ভাস্কর্য ইউটার্ন/লেফট টার্ন এবং দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে আগত গাড়ি তিন নেতার মাজার গ্যাপ ইউটার্ন হয়ে বইমেলা সংশ্লিষ্ট পার্কিং স্থান অথবা গন্তব্যে পৌঁছাবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

পুলিশি হয়রানি ও ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে ফারিয়ার মানববন্ধন

বইমেলায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

Update Time : 09:08:49 am, Wednesday, 25 February 2026

ডেস্ক রিপোর্ট :: অমর একুশে বইমেলা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বইমেলায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বইমেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে ডিএমপির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি একথা জানান।

মো. সরওয়ার বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও বইমেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কন্ট্রোল রুমে রাতেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন। বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
তিনি আরও বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইট কেন্দ্রিক ও অভ্যন্তরীণ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

ইউনিফর্মড পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোকসমাগম বেশি থাকে বিধায় এ সময়গুলোতে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বইমেলা প্রাঙ্গণ কেন্দ্রিক ফুট পেট্রোল ব্যবস্থা ও মুক্তমঞ্চ কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলার প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে দ্বারা চেকিংয়ের পাশাপাশি ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বড় ব্যাগ, কার্টন, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মেলায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার ভেতরে ও চারপাশে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকা সুইপিং করা হবে। হকার, বখাটে, ছিনতাইকারী ও পকেটমারের তৎপরতা রোধে বিশেষ টিমের ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় আগত নারী-শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলা কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রবেশ পথে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পিকেট ও দূরবর্তী চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, বইমেলা প্রাঙ্গণে ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। সার্চ লাইটের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিবি, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াটসহ ডিএমপির বিশেষায়িত টিমগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বইমেলায় লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, হেল্প ডেস্ক ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র থাকবে। মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আগত দর্শনার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। বইমেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক পৃথক ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বইমেলা উপলক্ষে কয়েকটি জায়গায় ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হবে। বইমেলা চলাকালীন দিনে ও রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করবে না। এবার টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা সবসময় বন্ধ থাকবে না। আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা বিবেচনা করে কখনো বন্ধ থাকবে, কখনো খোলা থাকবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, বইমেলায় আগত অনুমোদিত যানবাহনের জন্য পার্কিং স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্কিং এলাকায় যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ ও বের হওয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নো-পার্কিং জোনে কোন গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। নীলক্ষেত/ভিসি বাংলো ক্রসিং থেকে আগত গাড়ি হাকীম চত্বর ইউটার্ন/রাইট টার্ন, শাহবাগ ক্রসিং থেকে আগত গাড়ি রাজু ভাস্কর্য ইউটার্ন/লেফট টার্ন এবং দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে আগত গাড়ি তিন নেতার মাজার গ্যাপ ইউটার্ন হয়ে বইমেলা সংশ্লিষ্ট পার্কিং স্থান অথবা গন্তব্যে পৌঁছাবে।