3:44 pm, Thursday, 19 February 2026

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চান ফিফা সভাপতি

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের সেই সোনালি অতীত এখন কেবলই স্মৃতি। ২০০৩ সালের সাফ জয়ের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে বড় কোনো সাফল্যের দেখা নেই। ফিফা র‍্যাংকিংয়েও অবস্থান তলানিতে (১৮০তম)।

তবে এই হতাশার মধ্যেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছেন খোদ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ফুটবল সমর্থকের প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের একদম নিচের দিকে থাকা বাংলাদেশ কি কখনও বিশ্বকাপে খেলবে?; এমন প্রশ্নের উত্তরে ইনফান্তিনো বলেন, ‘অবশ্যই পারবে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ যাতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, সেটাই ফিফার মূল লক্ষ্য।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপে আমরা এমন কিছু দল পেয়েছি যারা আগে কখনও খেলেনি।

আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দ, কনকাকাফ থেকে কুরাসাও এবং এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে। তাই বাংলাদেশের মতো দারুণ এক ফুটবল জাতি, যেখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে, তাদেরও বড় সুযোগ আছে।’
ইনফান্তিনো আরও জানান, ফিফা সরাসরি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে দেশের ফুটবলে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণদের পাশাপাশি হামজা চৌধুরী ও শমিত শোমদের মতো প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশ দলের উন্নতির আভাস তিনি দেখছেন।

তার মতে, বাংলাদেশে প্রচুর মেধাবী ফুটবলার আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিশ্বমঞ্চে দেখার অপেক্ষায় আছে ফিফা।
গত বুধবার বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি ঢাকা সফর করে গেছে। সেই ট্রফি সামনে থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমান প্রজন্ম না পারলেও ভবিষ্যতের প্রতিনিধিরা ঠিকই একদিন লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে ওড়াবে।

তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা।

১৯৮০ সালের পর এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে আর পা রাখা হয়নি বাংলাদেশের। এমনকি হামজা চৌধুরীর মতো তারকাদের নিয়েও এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি এবার। তবুও ফিফা সভাপতির এমন মন্তব্য দেশের ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনা মাফিক এগোলে ইনফান্তিনোর এই বিশ্বাস বাস্তবে রূপ নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

বাণিজ্য-জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-নেপাল

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চান ফিফা সভাপতি

Update Time : 09:45:34 am, Saturday, 17 January 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের সেই সোনালি অতীত এখন কেবলই স্মৃতি। ২০০৩ সালের সাফ জয়ের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে বড় কোনো সাফল্যের দেখা নেই। ফিফা র‍্যাংকিংয়েও অবস্থান তলানিতে (১৮০তম)।

তবে এই হতাশার মধ্যেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছেন খোদ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ফুটবল সমর্থকের প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের একদম নিচের দিকে থাকা বাংলাদেশ কি কখনও বিশ্বকাপে খেলবে?; এমন প্রশ্নের উত্তরে ইনফান্তিনো বলেন, ‘অবশ্যই পারবে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ যাতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, সেটাই ফিফার মূল লক্ষ্য।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপে আমরা এমন কিছু দল পেয়েছি যারা আগে কখনও খেলেনি।

আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দ, কনকাকাফ থেকে কুরাসাও এবং এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে। তাই বাংলাদেশের মতো দারুণ এক ফুটবল জাতি, যেখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে, তাদেরও বড় সুযোগ আছে।’
ইনফান্তিনো আরও জানান, ফিফা সরাসরি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে দেশের ফুটবলে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণদের পাশাপাশি হামজা চৌধুরী ও শমিত শোমদের মতো প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশ দলের উন্নতির আভাস তিনি দেখছেন।

তার মতে, বাংলাদেশে প্রচুর মেধাবী ফুটবলার আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিশ্বমঞ্চে দেখার অপেক্ষায় আছে ফিফা।
গত বুধবার বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি ঢাকা সফর করে গেছে। সেই ট্রফি সামনে থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমান প্রজন্ম না পারলেও ভবিষ্যতের প্রতিনিধিরা ঠিকই একদিন লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে ওড়াবে।

তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা।

১৯৮০ সালের পর এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে আর পা রাখা হয়নি বাংলাদেশের। এমনকি হামজা চৌধুরীর মতো তারকাদের নিয়েও এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি এবার। তবুও ফিফা সভাপতির এমন মন্তব্য দেশের ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনা মাফিক এগোলে ইনফান্তিনোর এই বিশ্বাস বাস্তবে রূপ নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।