12:36 pm, Thursday, 19 February 2026

বিএনপির নারী কর্মীদের কপাল খুলছে !

অনলাইন ডেস্ক: দলের জেলা ও মহানগরের বর্তমান কমিটিতে নতুন করে আরও ১৫ শতাংশ নারী সদস্য যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দলের জেলা ও মহানগর কমিটির সভায় বর্তমান সংখ্যার ১৫ ভাগ নারী সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটাকে বিএনপির নারী কর্মীদের জন্য কমিটিতে স্থান পাওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দলটির নারী নেত্রীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব জেলা ও মহানগরের সভাপতি/আহ্বায়কের কাছে এই চিঠি ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনী আইন বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সব কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী থাকতে হবে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো কমিটিতেই নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের গঠনতন্ত্রের বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নারী সদস্যরা। দলটির স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছিলাম। কারণ আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবসময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছি। নারীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিএনপির এই সিদ্ধান্ত একটি বড় অর্জন। রাজনৈতিক সচেতন নারীরা আরও উদ্বুদ্ধ হবে।’

দলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটি বৈঠক করে কমিটির সংখ্যার ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পরে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবকৃত মহিলা সদস্যের দলে আনুগত্য, সম্পৃক্ততা, সক্রিয়তা, বয়স, যোগ্যতা, দল ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এমরান সালেহ প্রিন্স ঢাকা টাইমসকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য কমিটিতে থাকতে হবে। সেখানে বিএনপি ১৫ শতাংশ সদস্যের কথা বলার বিষয়ে প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের অনেক কমিটিতে নারী সদস্যরা আছেন। এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তাদের বাইরেও নারী সদস্য রাখতে হবে। এটা হয়তো ধাপে ধাপে বাড়বে।’

মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দলের এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই নারী কর্মীদের জন্য ভালো খবর। আমরা চাচ্ছিলাম ধীরে ধীরে নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু হোক। সে লক্ষ্য পূরণে দল অনেক দূর এগিয়ে যাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আরও অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নারীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর চেষ্টা ব্যক্তিগতভাবেও করেছি। কারণ দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের থেকে কোনো অংশে কম নয়, বরং রাজনীতিসহ অনেক জায়গায় ভালো করছেন তেমন উদাহরণ আছে। তাই নারীদের অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। নারী সদস্য কমিটিতে বাড়ানোর উদ্যোগ সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এজন্য চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। নির্দেশনা মতো আমি আমার সাংগঠনিক এলাকার সব কমিটিতে এটি বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বাংলাদেশ: স্থিতিশীলতা, সুরক্ষা ও কৌশলগত ভবিষ্যতের প্রশ্নে ভারতের ভূমিকা

বিএনপির নারী কর্মীদের কপাল খুলছে !

Update Time : 06:02:45 pm, Sunday, 22 August 2021

অনলাইন ডেস্ক: দলের জেলা ও মহানগরের বর্তমান কমিটিতে নতুন করে আরও ১৫ শতাংশ নারী সদস্য যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দলের জেলা ও মহানগর কমিটির সভায় বর্তমান সংখ্যার ১৫ ভাগ নারী সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটাকে বিএনপির নারী কর্মীদের জন্য কমিটিতে স্থান পাওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দলটির নারী নেত্রীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব জেলা ও মহানগরের সভাপতি/আহ্বায়কের কাছে এই চিঠি ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনী আইন বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সব কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী থাকতে হবে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো কমিটিতেই নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের গঠনতন্ত্রের বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নারী সদস্যরা। দলটির স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছিলাম। কারণ আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবসময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছি। নারীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিএনপির এই সিদ্ধান্ত একটি বড় অর্জন। রাজনৈতিক সচেতন নারীরা আরও উদ্বুদ্ধ হবে।’

দলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটি বৈঠক করে কমিটির সংখ্যার ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পরে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবকৃত মহিলা সদস্যের দলে আনুগত্য, সম্পৃক্ততা, সক্রিয়তা, বয়স, যোগ্যতা, দল ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এমরান সালেহ প্রিন্স ঢাকা টাইমসকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য কমিটিতে থাকতে হবে। সেখানে বিএনপি ১৫ শতাংশ সদস্যের কথা বলার বিষয়ে প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের অনেক কমিটিতে নারী সদস্যরা আছেন। এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তাদের বাইরেও নারী সদস্য রাখতে হবে। এটা হয়তো ধাপে ধাপে বাড়বে।’

মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দলের এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই নারী কর্মীদের জন্য ভালো খবর। আমরা চাচ্ছিলাম ধীরে ধীরে নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু হোক। সে লক্ষ্য পূরণে দল অনেক দূর এগিয়ে যাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আরও অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নারীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর চেষ্টা ব্যক্তিগতভাবেও করেছি। কারণ দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের থেকে কোনো অংশে কম নয়, বরং রাজনীতিসহ অনেক জায়গায় ভালো করছেন তেমন উদাহরণ আছে। তাই নারীদের অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। নারী সদস্য কমিটিতে বাড়ানোর উদ্যোগ সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এজন্য চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। নির্দেশনা মতো আমি আমার সাংগঠনিক এলাকার সব কমিটিতে এটি বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’