7:28 am, Friday, 23 January 2026

বিএনপি নেতা মরহুম গাজী মারুফ কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সারোয়ার মজুমদার ইমন

গাজী মোহাম্মদ মারুফ মিয়া –
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা বি এন পির আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী মারুফ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বন্ধু।
তার সাথে প্রথম পরিচয় কবে তা সঠিক মনে নেই, সম্ভবত ৮৯/৯০ সালের দিকে ভাদগাও ফুটবল খেলার মাঠে, তখন ফুটবলের জোয়ার, আমাদের বন্ধু বান্ধব সব ভালো ফুটবলার ছিলো,

একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে আমাদের বিপক্ষ দলের পক্ষে সে দুই গোল করে নজর কাড়ে, আমরা অবশ্য ৫-২ গোলে জিতেছিলাম, টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন ও হয়েছিলাম।
রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালী ছেলেদের প্রজন্ম আমাদের সার্কেল। কলেজ পেরিয়ে ছাত্রদলের শেষ সময় পর্যন্ত আমাদের সুখে দুখে কেটেছে, একসাথে মিছিল মিটিং, হাজিরা, অনেকবার কারাবরণ করলে ও তার সাথে দুইবার একসাথে ছিলাম, অনেক ওয়ারেন্ট নিয়ে শহরে মিসিল করে রাত্রে দূরে গিয়ে থাকতাম, মারুফের বাড়িতে অনেক থেকেছি, ৯৬ থেকে ২০০১ আবার ২০০৭ থেকে ২০১৭, তার সাথে মজা করতে তাকে উত্তেজিত করতে ভালো লাগতো, রাজনৈতিক ভাবে মাজে মাজে আমরা আলাদা বলয়ে থেকেছি কিন্তু রাত্রে ফোনে কথা হতো, সেই কথার মধ্যে থাকতো দলের চিন্তা, কি কাজ করতে হবে, নতুন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে, কোন

সার্কেল এর সাথে কাজ করতে হবে, আমাদের বন্ধুদের সবার টার্গেট থাকতো যাই করি দলের পরিধি বাড়ানো, ছাত্রদল শক্তিশালী থাকা মানেই বি এন পি শক্ত, মৌলভীবাজার আমরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ যখন আওয়ামিলীগ ক্ষমতায়, কিন্তু কোন মিছিল প্রোগ্রাম করিনি আমরা এমন নজীর নেই, পরে আবার ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন আসলে আমি গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ করি, তখন প্রায় সবাই জেল কাটতে হয়েছে, এর পরে আবার ছাত্রদলের কমিটি আসলে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও আবার কমিটিতে রাখে, আবার মিছিল মিটিং হরতাল, তখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আগের তুলনায় কয়েকগুন বেশি নির্যাতন শুরু করে, বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় গ্যম, গ্রেফতারের পরে আর খবর নেই, আমরা আতংকিত হলে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেই আমরা প্রতিবাদ না করলে তা আরো বাড়বে, এভাভে চলতে থাকে এর মধ্যে আমাদেএ সিলেটের বন্ধু ইফতেখার হোসেন দিনার ঢাকায় গ্রেফতার হয় এর ৩ দিন আগে মৌলভীবাজার এসে আমাকে ফোন দিয়েছিলো, আমি সেইফ জায়গায় ঘুমাতে যাই, তাই আর দেখা হয়নি, পরে শুনি দিনারেএ গুম হওয়া।
এর মাজে ও আমরা মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল রাজপথ ছাড়ি নাই, বারবার গ্রেফতার নির্যাতন হামলা, ব্যানার কেড়ে নেওয়া পরবর্তীতে মিছিল দেখলেই গুলি এসব করে আমাদের মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করলে ও দমাতে পারেনি,
শতো মিছিলের সঙ্গী গাজী মারুফ রাজনৈতিক জীবনে বি এন পির জন্য অনেক কস্ট করেচগে, তার পুরো পরিবারি বি এন পির সাথে জড়িত, তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তার ভাই ভাতিজাদের নির্যাতন করেছে।
আমার দেখা মতে একজন ভালো মন মানসিকতার বন্ধু গাজী মারুফ, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলো,
বন্ধু মহলে তার উপস্থিতি আমাদের আনন্দিত করতো, আমাদের সার্কেলের সবার নাম উল্লেখ করলাম না অনেক লম্বা হয়ে গেছে, আপনারা তো সবাইকেই চিনেন, ছাত্রদলের জন্য বিশেষ করে মারুফের অবদান অনস্বীকার্য, বিএনপি পরিবার একজন নিবেদিত প্রান কর্মীকে হারালো, আল্লাহ তাহাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন,
আসলে আসব লিখা যায়না কারণ আমি মনে করি মারুফ আছে আমাদের মাজে হঠাৎ ফোন করে বলবে ‘ কিতাবা আমরা এতোদুর থাকি কোর্ট ও আইয়া বওয়াত তুমরা বাড়ির ধার থাকি আওনা, ভালা রেবা “”
ফুটবল মাঠে দেখা মারুফকে রাজনীতির মাঠে একই ভাবে দেখে এসেছি প্রায় ৩০ বছরের উপরে, যখন মোবাইল আসলো, তার শখ ছিলো নিউ মডেলের মোবাইল সেট, এসবের খুজ রাখতো, কতো স্নৃতি নিয়ে মারুফের মৃত্যুর এক বছর পার হলো,
সিলেট যাওয়ার পথে বা আসার সময় একটা মনোবল থাকতো মারুফ আছে, শেরপুর অঞ্চলে গাড়ি কোন সমস্যা হলেই মারুফকে ফোন,আবার অনেক সময় তাকে না বলেই বাড়িতে গিয়ে চমকে দিতাম, রাস্তার পাশেই তাদের বাড়ি, আল্লাহ মারুফকে মাফ করে দিন, জান্নাত দান করুন, আর আমাদের প্রাবপ্রিয় সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হোক,মেধা সাহস আর দেশপ্রেমে ভরপুর ছেলেদের ছাত্রদলের পতাকাতলে নিয়ে আসবেন এই আহবান রাখি,
সবাই মারুফের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেনো তাহাকে ক্ষমা করে দিন। অগোছালো লিখাটি ঠিক করে পড়ে নিবেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়, আপনারা সজাগ দৃষ্টি রাখবেন: মৌলভীবাজারের জনসভায় তারেক রহমান

বিএনপি নেতা মরহুম গাজী মারুফ কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সারোয়ার মজুমদার ইমন

Update Time : 01:07:01 pm, Saturday, 10 January 2026

গাজী মোহাম্মদ মারুফ মিয়া –
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা বি এন পির আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী মারুফ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বন্ধু।
তার সাথে প্রথম পরিচয় কবে তা সঠিক মনে নেই, সম্ভবত ৮৯/৯০ সালের দিকে ভাদগাও ফুটবল খেলার মাঠে, তখন ফুটবলের জোয়ার, আমাদের বন্ধু বান্ধব সব ভালো ফুটবলার ছিলো,

একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে আমাদের বিপক্ষ দলের পক্ষে সে দুই গোল করে নজর কাড়ে, আমরা অবশ্য ৫-২ গোলে জিতেছিলাম, টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন ও হয়েছিলাম।
রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালী ছেলেদের প্রজন্ম আমাদের সার্কেল। কলেজ পেরিয়ে ছাত্রদলের শেষ সময় পর্যন্ত আমাদের সুখে দুখে কেটেছে, একসাথে মিছিল মিটিং, হাজিরা, অনেকবার কারাবরণ করলে ও তার সাথে দুইবার একসাথে ছিলাম, অনেক ওয়ারেন্ট নিয়ে শহরে মিসিল করে রাত্রে দূরে গিয়ে থাকতাম, মারুফের বাড়িতে অনেক থেকেছি, ৯৬ থেকে ২০০১ আবার ২০০৭ থেকে ২০১৭, তার সাথে মজা করতে তাকে উত্তেজিত করতে ভালো লাগতো, রাজনৈতিক ভাবে মাজে মাজে আমরা আলাদা বলয়ে থেকেছি কিন্তু রাত্রে ফোনে কথা হতো, সেই কথার মধ্যে থাকতো দলের চিন্তা, কি কাজ করতে হবে, নতুন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে, কোন

সার্কেল এর সাথে কাজ করতে হবে, আমাদের বন্ধুদের সবার টার্গেট থাকতো যাই করি দলের পরিধি বাড়ানো, ছাত্রদল শক্তিশালী থাকা মানেই বি এন পি শক্ত, মৌলভীবাজার আমরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ যখন আওয়ামিলীগ ক্ষমতায়, কিন্তু কোন মিছিল প্রোগ্রাম করিনি আমরা এমন নজীর নেই, পরে আবার ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন আসলে আমি গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ করি, তখন প্রায় সবাই জেল কাটতে হয়েছে, এর পরে আবার ছাত্রদলের কমিটি আসলে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও আবার কমিটিতে রাখে, আবার মিছিল মিটিং হরতাল, তখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আগের তুলনায় কয়েকগুন বেশি নির্যাতন শুরু করে, বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় গ্যম, গ্রেফতারের পরে আর খবর নেই, আমরা আতংকিত হলে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেই আমরা প্রতিবাদ না করলে তা আরো বাড়বে, এভাভে চলতে থাকে এর মধ্যে আমাদেএ সিলেটের বন্ধু ইফতেখার হোসেন দিনার ঢাকায় গ্রেফতার হয় এর ৩ দিন আগে মৌলভীবাজার এসে আমাকে ফোন দিয়েছিলো, আমি সেইফ জায়গায় ঘুমাতে যাই, তাই আর দেখা হয়নি, পরে শুনি দিনারেএ গুম হওয়া।
এর মাজে ও আমরা মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল রাজপথ ছাড়ি নাই, বারবার গ্রেফতার নির্যাতন হামলা, ব্যানার কেড়ে নেওয়া পরবর্তীতে মিছিল দেখলেই গুলি এসব করে আমাদের মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করলে ও দমাতে পারেনি,
শতো মিছিলের সঙ্গী গাজী মারুফ রাজনৈতিক জীবনে বি এন পির জন্য অনেক কস্ট করেচগে, তার পুরো পরিবারি বি এন পির সাথে জড়িত, তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তার ভাই ভাতিজাদের নির্যাতন করেছে।
আমার দেখা মতে একজন ভালো মন মানসিকতার বন্ধু গাজী মারুফ, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলো,
বন্ধু মহলে তার উপস্থিতি আমাদের আনন্দিত করতো, আমাদের সার্কেলের সবার নাম উল্লেখ করলাম না অনেক লম্বা হয়ে গেছে, আপনারা তো সবাইকেই চিনেন, ছাত্রদলের জন্য বিশেষ করে মারুফের অবদান অনস্বীকার্য, বিএনপি পরিবার একজন নিবেদিত প্রান কর্মীকে হারালো, আল্লাহ তাহাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন,
আসলে আসব লিখা যায়না কারণ আমি মনে করি মারুফ আছে আমাদের মাজে হঠাৎ ফোন করে বলবে ‘ কিতাবা আমরা এতোদুর থাকি কোর্ট ও আইয়া বওয়াত তুমরা বাড়ির ধার থাকি আওনা, ভালা রেবা “”
ফুটবল মাঠে দেখা মারুফকে রাজনীতির মাঠে একই ভাবে দেখে এসেছি প্রায় ৩০ বছরের উপরে, যখন মোবাইল আসলো, তার শখ ছিলো নিউ মডেলের মোবাইল সেট, এসবের খুজ রাখতো, কতো স্নৃতি নিয়ে মারুফের মৃত্যুর এক বছর পার হলো,
সিলেট যাওয়ার পথে বা আসার সময় একটা মনোবল থাকতো মারুফ আছে, শেরপুর অঞ্চলে গাড়ি কোন সমস্যা হলেই মারুফকে ফোন,আবার অনেক সময় তাকে না বলেই বাড়িতে গিয়ে চমকে দিতাম, রাস্তার পাশেই তাদের বাড়ি, আল্লাহ মারুফকে মাফ করে দিন, জান্নাত দান করুন, আর আমাদের প্রাবপ্রিয় সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হোক,মেধা সাহস আর দেশপ্রেমে ভরপুর ছেলেদের ছাত্রদলের পতাকাতলে নিয়ে আসবেন এই আহবান রাখি,
সবাই মারুফের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেনো তাহাকে ক্ষমা করে দিন। অগোছালো লিখাটি ঠিক করে পড়ে নিবেন।