5:10 am, Monday, 16 March 2026

বিদেশ যাচ্ছেন গভর্নর আহসান মনসুর

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের মাস খানেকের জন্য বিদেশে যাওয়ার একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে তখন জানানো হয়, গভর্নরের বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তবে এবার জানা গেলো, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উচ্চ পর্যায়ের একটি সম্মেলনে (এশিয়া ইন ২০৫০) যোগ দিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন গভর্নর। আগামী ৪-৬ মার্চ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আইএমএফ’র একটি সম্মেলনে অংশ নিতে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন গভর্নর। তার সফর সঙ্গী হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। বুধবার (১৮ ফ্রেব্রুয়ারি) তার বিদেশ যাওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে।’

হাবিবুর রহমান গত বছর একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণে বাধার মুখে পড়েন।

গত বছরের ৩১ আগস্ট হাবিবুর রহমানের নামিবিয়া যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১১ জন কর্মকর্তা আমন্ত্রিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন সফরে যেতে পারলেও হাবিবুর রহমানকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ফ্লাইটে উঠতে দেননি।
জানা গেছে, ওই সময় অর্থমন্ত্রণালয় দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কয়েকজন এবং সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের এমডি ও পরিচালকদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে দুদককে চিঠি দেয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পাঠানো ওই তালিকায় হাবিবুর রহমানের নাম থাকায় তিনি তখন বিদেশ যেতে পারেননি। নভেম্বরে সরকারি আদেশ (জিও) না থাকায় আরেকটি সফরে যোগ দিতে পারেননি হাবিবুর।
ড. হাবিবুর রহমান ডেপুটি গভর্নর হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক দল কর্মীর মবের মুখে পড়ে দুই ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও নীতি উপদেষ্টা পদত্যাগে বাধ্য হন। তবে হাবিবুর রহমান ও নূরুন নাহার পদে বহাল থাকেন।

এ দিকে গত মঙ্গলবার দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়। বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম অফিস করেন তারেক রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। গভর্নর পদেও নতুন মুখ আসবে এমন আলোচনা চলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও।

এর মধ্যেও নিয়মিত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এশিয়া যখন জনসংখ্যাগত চাপ ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখোমুখি, তখন আইএমএফ’র এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক একীকরণ জোরদারের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

পাকিস্তানকে ১১ রানে হারাল বাংলাদেশ, জিতল সিরিজও

বিদেশ যাচ্ছেন গভর্নর আহসান মনসুর

Update Time : 10:55:42 am, Wednesday, 18 February 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের মাস খানেকের জন্য বিদেশে যাওয়ার একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে তখন জানানো হয়, গভর্নরের বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তবে এবার জানা গেলো, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উচ্চ পর্যায়ের একটি সম্মেলনে (এশিয়া ইন ২০৫০) যোগ দিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন গভর্নর। আগামী ৪-৬ মার্চ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আইএমএফ’র একটি সম্মেলনে অংশ নিতে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন গভর্নর। তার সফর সঙ্গী হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। বুধবার (১৮ ফ্রেব্রুয়ারি) তার বিদেশ যাওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে।’

হাবিবুর রহমান গত বছর একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণে বাধার মুখে পড়েন।

গত বছরের ৩১ আগস্ট হাবিবুর রহমানের নামিবিয়া যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১১ জন কর্মকর্তা আমন্ত্রিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন সফরে যেতে পারলেও হাবিবুর রহমানকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ফ্লাইটে উঠতে দেননি।
জানা গেছে, ওই সময় অর্থমন্ত্রণালয় দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কয়েকজন এবং সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের এমডি ও পরিচালকদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে দুদককে চিঠি দেয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পাঠানো ওই তালিকায় হাবিবুর রহমানের নাম থাকায় তিনি তখন বিদেশ যেতে পারেননি। নভেম্বরে সরকারি আদেশ (জিও) না থাকায় আরেকটি সফরে যোগ দিতে পারেননি হাবিবুর।
ড. হাবিবুর রহমান ডেপুটি গভর্নর হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক দল কর্মীর মবের মুখে পড়ে দুই ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও নীতি উপদেষ্টা পদত্যাগে বাধ্য হন। তবে হাবিবুর রহমান ও নূরুন নাহার পদে বহাল থাকেন।

এ দিকে গত মঙ্গলবার দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়। বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম অফিস করেন তারেক রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। গভর্নর পদেও নতুন মুখ আসবে এমন আলোচনা চলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও।

এর মধ্যেও নিয়মিত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এশিয়া যখন জনসংখ্যাগত চাপ ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখোমুখি, তখন আইএমএফ’র এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক একীকরণ জোরদারের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।