9:41 pm, Tuesday, 15 September 2026

বিধি বর্হিভুতভাবে পরিচালনা: বড়লেখার এস.আর ব্রিকসের লাইসেন্স বাতিল

বড়লেখা প্রতিনিধি: বড়লেখা উপজেলার মিরারপাতন গ্রামের জনবসতিপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশেই পরিবেশ আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত মেসার্স এস.আর ব্রিকসের (মেসার্স সুরমা ব্রিকস) পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ইটভাটাটির ইট পোড়ানোর লাইসেন্স বাতিল করে কার্যক্রম বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রায় ৬ মাস পূর্বে শতাধিক ভুক্তভোগি এলাকাবাসির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জনভোগান্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এই ব্রিকস ফিল্ডটির ছাড়পত্র বাতিল করে জেলা প্রশাসনকে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে।

গত ১৫ মার্চ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের রাঙ্গাউটি এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমদসহ শতাধিক ভুক্তভোগি এলাকাবাসি পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর মিরারপাতন গ্রামের মেসার্স এস.আর ব্রিকসের মাটি কাটার ও ইটভাটার লাইসেন্স বাতিল করে ভাটা বন্ধের আবেদন করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মিরারপাতন গ্রামে প্রায় ১০ বছর আগে স্থাপিত ইটভাটাটির নাম পরিবর্তন করে এস.আর ব্রিকস নামে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাটার মালিকপক্ষ পরিবেশ ও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। যার নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। একইসঙ্গে রাতের বেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটা, কৃষিজমির টপ সয়েল উত্তোলন এবং ইট তৈরির কাজে ব্যবহারের কারণে এলাকার কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী লোকালয়, জনবসতি, বিদ্যালয় ও ধর্মীয় স্থাপনার কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও, মিরারপাতনের লোকালয়ের মধ্যে ভাটাটি স্থাপিত হয়েছে। ভাটার ১শ’ ফুটের মধ্যে বসতবাড়ি এবং ২শ’ মিটারের মধ্যে একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি মসজিদ রয়েছে। ভাটার মালিকপক্ষ অবৈধভাবে ষাটমা ছড়া খালের আইলাপুর অংশে মাটি কেটে খাল ভরাট করে এবং খালের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে ইটভাটার মাটি পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এলাকাবাসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম ও পরিবেশ আইন অমান্যের সত্যতা পাওয়ায় বড়লেখার মেসার্স এস.আর ব্রিকস নামক ইটভাটার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে মালিক পক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে সমস্যা ছিল, জবাবদিহি করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

বিধি বর্হিভুতভাবে পরিচালনা: বড়লেখার এস.আর ব্রিকসের লাইসেন্স বাতিল

Update Time : 05:35:01 pm, Wednesday, 2 September 2026

বড়লেখা প্রতিনিধি: বড়লেখা উপজেলার মিরারপাতন গ্রামের জনবসতিপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশেই পরিবেশ আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত মেসার্স এস.আর ব্রিকসের (মেসার্স সুরমা ব্রিকস) পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ইটভাটাটির ইট পোড়ানোর লাইসেন্স বাতিল করে কার্যক্রম বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রায় ৬ মাস পূর্বে শতাধিক ভুক্তভোগি এলাকাবাসির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জনভোগান্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এই ব্রিকস ফিল্ডটির ছাড়পত্র বাতিল করে জেলা প্রশাসনকে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে।

গত ১৫ মার্চ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের রাঙ্গাউটি এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমদসহ শতাধিক ভুক্তভোগি এলাকাবাসি পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর মিরারপাতন গ্রামের মেসার্স এস.আর ব্রিকসের মাটি কাটার ও ইটভাটার লাইসেন্স বাতিল করে ভাটা বন্ধের আবেদন করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মিরারপাতন গ্রামে প্রায় ১০ বছর আগে স্থাপিত ইটভাটাটির নাম পরিবর্তন করে এস.আর ব্রিকস নামে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাটার মালিকপক্ষ পরিবেশ ও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। যার নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। একইসঙ্গে রাতের বেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটা, কৃষিজমির টপ সয়েল উত্তোলন এবং ইট তৈরির কাজে ব্যবহারের কারণে এলাকার কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী লোকালয়, জনবসতি, বিদ্যালয় ও ধর্মীয় স্থাপনার কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও, মিরারপাতনের লোকালয়ের মধ্যে ভাটাটি স্থাপিত হয়েছে। ভাটার ১শ’ ফুটের মধ্যে বসতবাড়ি এবং ২শ’ মিটারের মধ্যে একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি মসজিদ রয়েছে। ভাটার মালিকপক্ষ অবৈধভাবে ষাটমা ছড়া খালের আইলাপুর অংশে মাটি কেটে খাল ভরাট করে এবং খালের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে ইটভাটার মাটি পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এলাকাবাসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম ও পরিবেশ আইন অমান্যের সত্যতা পাওয়ায় বড়লেখার মেসার্স এস.আর ব্রিকস নামক ইটভাটার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে মালিক পক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।