11:05 pm, Monday, 19 January 2026

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথ: সমীকরণ কী বলছে?

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হওয়ার পাশাপাশি নকআউট পর্বের ‘ব্র্যাকেট’ বা পথচলা কেমন হবে, তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।

আর ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল—কবে দেখা হতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের? ড্রয়ের পর যে সমীকরণ দাঁড়িয়েছে, তাতে দুই লাতিন পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়া নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বের ফলাফলের ওপর।

যদি আর্জেন্টিনা (গ্রুপ ‘জে’) এবং ব্রাজিল (গ্রুপ ‘সি’) উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে, তবে তাদের দেখা হতে পারে কেবল সেমিফাইনালে। একইভাবে, দুই দলই যদি গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়, তবুও সেমিফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই।

যদি দুই দলের মধ্যে একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং অন্যটি রানার্স-আপ হয়, তবে তাদের দেখা হওয়ার একমাত্র মঞ্চ হবে ফাইনাল।

কোনো দল যদি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী হিসেবে নকআউটে আসে, তবে সমীকরণটি বেশ জটিল এবং আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব।

ড্রয়ের ফলাফল লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ‘জে’ গ্রুপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান।

বিপরীতে, কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের জন্য গ্রুপ পর্ব কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের লড়তে হবে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং হাইতির বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার রয়েছে এক মধুর স্মৃতি।

১৯৯০ (ইতালি): সর্বশেষ দেখায় ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে কানিজিয়ার ঐতিহাসিক গোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিদায় করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৮২ (স্পেন): দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ব্রাজিল ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে।
১৯৭৮ (আর্জেন্টিনা): রোজারিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।
১৯৭৪ (জার্মানি): বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দেখায় ব্রাজিল ২-১ গোলে জয়লাভ করে।
সর্বমোট ৪ ম্যাচে ব্রাজিলের জয় ২টিতে, আর্জেন্টিনার ১টিতে এবং ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০২৬ সালের আসরে কি সেই ১৯৯০-এর স্মৃতি ফিরবে, নাকি নতুন কোনো ইতিহাস লিখবে সেলেসাওরা—সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথ: সমীকরণ কী বলছে?

Update Time : 08:51:05 am, Saturday, 6 December 2025

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হওয়ার পাশাপাশি নকআউট পর্বের ‘ব্র্যাকেট’ বা পথচলা কেমন হবে, তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।

আর ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল—কবে দেখা হতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের? ড্রয়ের পর যে সমীকরণ দাঁড়িয়েছে, তাতে দুই লাতিন পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়া নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বের ফলাফলের ওপর।

যদি আর্জেন্টিনা (গ্রুপ ‘জে’) এবং ব্রাজিল (গ্রুপ ‘সি’) উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে, তবে তাদের দেখা হতে পারে কেবল সেমিফাইনালে। একইভাবে, দুই দলই যদি গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়, তবুও সেমিফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই।

যদি দুই দলের মধ্যে একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং অন্যটি রানার্স-আপ হয়, তবে তাদের দেখা হওয়ার একমাত্র মঞ্চ হবে ফাইনাল।

কোনো দল যদি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী হিসেবে নকআউটে আসে, তবে সমীকরণটি বেশ জটিল এবং আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব।

ড্রয়ের ফলাফল লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ‘জে’ গ্রুপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান।

বিপরীতে, কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের জন্য গ্রুপ পর্ব কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের লড়তে হবে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং হাইতির বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার রয়েছে এক মধুর স্মৃতি।

১৯৯০ (ইতালি): সর্বশেষ দেখায় ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে কানিজিয়ার ঐতিহাসিক গোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিদায় করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৮২ (স্পেন): দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ব্রাজিল ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে।
১৯৭৮ (আর্জেন্টিনা): রোজারিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।
১৯৭৪ (জার্মানি): বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দেখায় ব্রাজিল ২-১ গোলে জয়লাভ করে।
সর্বমোট ৪ ম্যাচে ব্রাজিলের জয় ২টিতে, আর্জেন্টিনার ১টিতে এবং ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০২৬ সালের আসরে কি সেই ১৯৯০-এর স্মৃতি ফিরবে, নাকি নতুন কোনো ইতিহাস লিখবে সেলেসাওরা—সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।