7:34 am, Thursday, 18 June 2026

বেতন পরিশোধে অক্ষম হলে পৌরসভা হয়ে যাবে ইউনিয়ন

অনলাইন ডেস্ক: কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা না থাকলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পৌরসভাকে প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তরিত অথবা পরিষদ ভেঙ্গে পুনঃনির্বাচনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। সোমবার (৫ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও হিসাব সংরক্ষণের পদ্ধতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, নিজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করা ও উন্নয়ন কাজে অবদান রাখা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌরসভা সৃষ্টি হয়েছে। নিজ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং জনগণকে সঠিক সেবা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে পৌরসভা টিকে থাকার যৌক্তিকতা হারাবে। বিদ্যমান আইনের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পৌরসভাকে ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর বা পরিষদ ভেঙ্গে পুনঃনির্বাচন দেয়া হবে। পৌরসভা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ পৌরসভা তাদের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করছে। যেসব পৌরসভা পুরোপুরি বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না, সেসবের সুনির্দিষ্ট কারণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভাগুলোতে আয় এবং ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা হবে। এ লক্ষ্যে এক্সটারনাল অডিটের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সব প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের ত্রৈমাসিক বিবরণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ না করে পৌরসভাগুলো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অযৌক্তিক লোক নিয়োগ দিয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে পৌরসভায় আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ দিতে হলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীন এলাকার জন্য কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবার পরিকল্পনাসহ অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত আছে। এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সব কর্মচারী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত অফিস করলে জনগণ আরও অধিক সেবা পাবেন। তাই এটি নিশ্চিত করতে হবে। মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদকে অধিক কার্যকর করার জন্য জেলা পরিষদ আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক রাজস্ব ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ উন্নয়ন খাতে স্থানান্তর করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় সভায় এ বিভাগের সব অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সচিবরা অংশ নেন।
Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শত শত নেতাকর্মী নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সমাবেশে মোসারফ

বেতন পরিশোধে অক্ষম হলে পৌরসভা হয়ে যাবে ইউনিয়ন

Update Time : 06:34:04 pm, Monday, 5 July 2021
অনলাইন ডেস্ক: কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা না থাকলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পৌরসভাকে প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তরিত অথবা পরিষদ ভেঙ্গে পুনঃনির্বাচনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। সোমবার (৫ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও হিসাব সংরক্ষণের পদ্ধতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, নিজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করা ও উন্নয়ন কাজে অবদান রাখা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌরসভা সৃষ্টি হয়েছে। নিজ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং জনগণকে সঠিক সেবা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে পৌরসভা টিকে থাকার যৌক্তিকতা হারাবে। বিদ্যমান আইনের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পৌরসভাকে ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর বা পরিষদ ভেঙ্গে পুনঃনির্বাচন দেয়া হবে। পৌরসভা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ পৌরসভা তাদের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করছে। যেসব পৌরসভা পুরোপুরি বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না, সেসবের সুনির্দিষ্ট কারণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভাগুলোতে আয় এবং ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা হবে। এ লক্ষ্যে এক্সটারনাল অডিটের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সব প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের ত্রৈমাসিক বিবরণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ না করে পৌরসভাগুলো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অযৌক্তিক লোক নিয়োগ দিয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে পৌরসভায় আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ দিতে হলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীন এলাকার জন্য কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবার পরিকল্পনাসহ অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত আছে। এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সব কর্মচারী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত অফিস করলে জনগণ আরও অধিক সেবা পাবেন। তাই এটি নিশ্চিত করতে হবে। মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদকে অধিক কার্যকর করার জন্য জেলা পরিষদ আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক রাজস্ব ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ উন্নয়ন খাতে স্থানান্তর করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় সভায় এ বিভাগের সব অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সচিবরা অংশ নেন।