2:39 pm, Friday, 10 April 2026

বড়লেখায় মধ্যরাতে ডাকাত আতঙ্ক, মসজিদে মসজিদে মাইকিং

বড়লেখা প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বন্যাকবলিত তালিমপুর ও সুজানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মধ্যরাতে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন এলাকার মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধে মানুষজন এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন। তবে পুলিশ বলছে, এসব এলাকায় পুলিশের টহল দল রয়েছে। পুলিশও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অনেকে ফেসবুকেও বিষয়টি শেয়ার করে সবাই সতর্ক থাকতে বলছেন। কেউ আবার একে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টায় ডাকাত হানা দিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে সুজানগর ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামে ডাকাত হানা দিয়েছে বলে পুলিশের কাছে ফোন আসে। এতে এসব এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় এসব এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করা হয়। অনেকে ফেসবুকেও বিষয়টি শেয়ার করে সবাই সতর্ক থাকতে বলছেন। ডাকাতি প্রতিরোধে এসব এলাকার মানুষজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

তালিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান পলক নিজের ফেসবুকে আইডিতে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে তালিমপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে শ্রীরামপুর গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করেছে সবাই এগিয়ে আসেন।’

পশ্চিম গগড়া এলাকার বাসিন্দা রিপন দাস বলেন, এমনিতেই বন্যায় পানিবন্দি মানুষ। এরমধ্যে বিদ্যুৎ নাই। বৃষ্টি হলে আতঙ্ক বাড়ে। তার ওপর এলাকায় ডাকাত হানা দিয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার মসজিদেও মাইকিং করা হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে নতুন আতঙ্ক যোগ হয়েছে।

তালিমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, রাতে প্রথমে আমার কাছে শ্রীরামপুর থেকে লিটন বিশ্বাস কল এসেছে যে এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে। পরে পশ্চিম গগড়া থেকে সেলিম আহমদও কল দিয়েছেন। পরে পাটনা এলাকায় ডাকাত হানা দিয়েছে বলে খবর এসেছে। এসব এলাকায় মসজিদেও মাইকিং হচ্ছে। মানুষজন এলাকায় পাহার দিচ্ছেন। মানুষজন আতঙ্কে আছেন। এরমধ্যে বিদ্যুৎ নাই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় ভয়টা আরও বেড়েছে।

এদিকে শিমুল চৌধুরী নামে একজন নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘সুজানগরে একসাথে এত গ্রামে ডাকাত ঢুকলো কেমনে গুজব নাকি আজাব প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তালিমপুর ইউনিয়নে টহলে থাকা এসআই আতাউর রহমান বলেন, আমরা তালিমপুরে টহল দিচ্ছি। এরকম কোনো আমরা খবর পাইনি। এখন খোঁজ নিচ্ছি। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

সুজানগর ইউনিয়নে টহলে থাকা এএসআই আব্দুল হালিম বলেন, আমরা সুজানগর এলাকায় অবস্থান করেছি। এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে বলে কটালপুর থেকে এক লোক ৯৯৯ কল দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে ৯৯৯ থেকে আমাকে কল দেওয়া হয়। পরে আমি কটালপুর এলাকার ওই লোকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলছেন, ডাকাতরা নাকি নৌকায় এসেছিল। পরে চলে গেছে। তাকে বলেছি ভয়ের কারণ নেই। আমরা আছি। পরে আমি সুজানগর ইউপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, তারা জেগে আছেন।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো : আতাউর রহমান এর শেষ কর্ম দিবস সম্পন্ন

বড়লেখায় মধ্যরাতে ডাকাত আতঙ্ক, মসজিদে মসজিদে মাইকিং

Update Time : 06:52:23 am, Friday, 24 June 2022

বড়লেখা প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বন্যাকবলিত তালিমপুর ও সুজানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মধ্যরাতে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন এলাকার মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধে মানুষজন এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন। তবে পুলিশ বলছে, এসব এলাকায় পুলিশের টহল দল রয়েছে। পুলিশও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অনেকে ফেসবুকেও বিষয়টি শেয়ার করে সবাই সতর্ক থাকতে বলছেন। কেউ আবার একে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টায় ডাকাত হানা দিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে সুজানগর ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামে ডাকাত হানা দিয়েছে বলে পুলিশের কাছে ফোন আসে। এতে এসব এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় এসব এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করা হয়। অনেকে ফেসবুকেও বিষয়টি শেয়ার করে সবাই সতর্ক থাকতে বলছেন। ডাকাতি প্রতিরোধে এসব এলাকার মানুষজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

তালিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান পলক নিজের ফেসবুকে আইডিতে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে তালিমপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে শ্রীরামপুর গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করেছে সবাই এগিয়ে আসেন।’

পশ্চিম গগড়া এলাকার বাসিন্দা রিপন দাস বলেন, এমনিতেই বন্যায় পানিবন্দি মানুষ। এরমধ্যে বিদ্যুৎ নাই। বৃষ্টি হলে আতঙ্ক বাড়ে। তার ওপর এলাকায় ডাকাত হানা দিয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার মসজিদেও মাইকিং করা হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে নতুন আতঙ্ক যোগ হয়েছে।

তালিমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, রাতে প্রথমে আমার কাছে শ্রীরামপুর থেকে লিটন বিশ্বাস কল এসেছে যে এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে। পরে পশ্চিম গগড়া থেকে সেলিম আহমদও কল দিয়েছেন। পরে পাটনা এলাকায় ডাকাত হানা দিয়েছে বলে খবর এসেছে। এসব এলাকায় মসজিদেও মাইকিং হচ্ছে। মানুষজন এলাকায় পাহার দিচ্ছেন। মানুষজন আতঙ্কে আছেন। এরমধ্যে বিদ্যুৎ নাই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় ভয়টা আরও বেড়েছে।

এদিকে শিমুল চৌধুরী নামে একজন নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘সুজানগরে একসাথে এত গ্রামে ডাকাত ঢুকলো কেমনে গুজব নাকি আজাব প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তালিমপুর ইউনিয়নে টহলে থাকা এসআই আতাউর রহমান বলেন, আমরা তালিমপুরে টহল দিচ্ছি। এরকম কোনো আমরা খবর পাইনি। এখন খোঁজ নিচ্ছি। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

সুজানগর ইউনিয়নে টহলে থাকা এএসআই আব্দুল হালিম বলেন, আমরা সুজানগর এলাকায় অবস্থান করেছি। এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে বলে কটালপুর থেকে এক লোক ৯৯৯ কল দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে ৯৯৯ থেকে আমাকে কল দেওয়া হয়। পরে আমি কটালপুর এলাকার ওই লোকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলছেন, ডাকাতরা নাকি নৌকায় এসেছিল। পরে চলে গেছে। তাকে বলেছি ভয়ের কারণ নেই। আমরা আছি। পরে আমি সুজানগর ইউপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, তারা জেগে আছেন।