8:21 am, Thursday, 18 June 2026

ভাইরাল লাগেজ-কাণ্ডের অভিযোগ অসত্য, মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ মেলেনি: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া হজযাত্রীদের লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, অভিযোগের পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ও বডি-ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নানা ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যম সত্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠার পরপরই বিমান কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের বডি-অন-ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে মোট ৮৩৬টি লাগেজ পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাউন্ড স্টাফরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিমান চলাচল বিধি অনুযায়ী কোনো যাত্রী বা হাজি মূল চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি কিংবা সঠিকভাবে সিলগালা না করা প্রসাধনী বহন করতে পারেন না। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব বস্তু শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে জব্দ করে থাকে। একইভাবে প্রয়োজনীয় ঘোষণা ছাড়া নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে বহন করাও আন্তর্জাতিক নিয়মে নিষিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সমালোচনা ও অনুসন্ধানী ভূমিকা সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক হতে সহায়তা করে। তবে সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার বিভিন্ন স্তরে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা যাচাই করলে জানতে পারবেন, গতকালের ঘটনাটি অসত্য। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। যাত্রীদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শত শত নেতাকর্মী নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সমাবেশে মোসারফ

ভাইরাল লাগেজ-কাণ্ডের অভিযোগ অসত্য, মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ মেলেনি: প্রতিমন্ত্রী

Update Time : 08:39:53 am, Thursday, 4 June 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া হজযাত্রীদের লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, অভিযোগের পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ও বডি-ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নানা ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যম সত্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠার পরপরই বিমান কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের বডি-অন-ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে মোট ৮৩৬টি লাগেজ পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাউন্ড স্টাফরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিমান চলাচল বিধি অনুযায়ী কোনো যাত্রী বা হাজি মূল চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি কিংবা সঠিকভাবে সিলগালা না করা প্রসাধনী বহন করতে পারেন না। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব বস্তু শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে জব্দ করে থাকে। একইভাবে প্রয়োজনীয় ঘোষণা ছাড়া নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে বহন করাও আন্তর্জাতিক নিয়মে নিষিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সমালোচনা ও অনুসন্ধানী ভূমিকা সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক হতে সহায়তা করে। তবে সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার বিভিন্ন স্তরে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা যাচাই করলে জানতে পারবেন, গতকালের ঘটনাটি অসত্য। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। যাত্রীদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।