10:19 am, Sunday, 7 December 2025

ভারি বৃষ্টিতেও খেলা চালানোয় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ অধিনায়ক

ডেস্ক রিপোর্ট : নারী বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরে গেছে বাংলাদেশের নারীরা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ শুরু হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের চার ঘণ্টা পাঁচ মিনিট বিলম্বে। ২৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ভালো শুরু করেও মাত্র ১৪০ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে হেসেখেলে ৯ উইকেটের জয় পায় নিউজিল্যান্ডের প্রমীলারা। ম্যাচ শেষে হারের জন্য নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেও খেলার কন্ডিশন নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ভারি বর্ষণের মধ্যেও খেলা চালিয়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের সন্ধানে থাকা বাংলাদেশের ব্যাট হাতে শুরুটা হয়েছিল দারুণ। দলীয় পঞ্চাশ খুব দ্রুত তুলে নিলেও এরপরের ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে রানের গতি কমে যায় টাইগ্রেসদের। শেষ পর্যন্ত সেই গতি আর বাড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

নিগার সুলতানা বলছেন এই রানই ম্যাচ জয়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছিল। জ্যোতি বলেন, ‘আমাদের সংগ্রহ যা ছিল, তা খুবই ভালো ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্র পুরো ভিন্ন ছিল। বৃষ্টি ছিল অনেক বেশি ও আবহাওয়ার অবস্থা খেলার উপযুক্ত ছিল না। তবু আমরা খেলেছি। বোলাররা গ্রিপ করতে সমস্যা অনুভব করেছে।’

ভারি বৃষ্টির জন্য ফিল্ডারদের বল দেখতেও সমস্যা হচ্ছিল। জ্যোতি আরও বলেন, ‘আউটফিল্ডে যারা ফিল্ডিং করেছে, এত বৃষ্টি হচ্ছিল যে বল দেখতেও কষ্ট হচ্ছিল।’

আউটফিল্ড খেলার অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় ফিল্ডারদের ইনজুরি ঝুঁকি নিয়ে ফিল্ডিং করতে হয়েছে। তাই দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন তিনি। ‘ফিল্ডারদের নিরাপদে ম্যাচ শেষ করা নিয়ে দুর্ভাবনায় ছিলাম আমি। কারণ আরও ৫টি ম্যাচ বাকি আছে। খেলোয়াড়রা যদি নিরাপদ থাকে, তাহলেই বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারব। লড়াইটা করবো যাদের নিয়ে, তাদের নিরাপত্তা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ -জ্যোতি বলেন।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচের প্রথমার্ধেও বৃষ্টি থাকার পরেও নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশের অনুরূপ সমস্যায় পড়েনি বলে মনে করেন জ্যোতি। তাই নিজেদের হারের পেছনে বৃষ্টিকে অজুহাত নয় বরং যথার্থ কারণ বলে মনে করেন তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘এখন আপনারা বলতে পারেন যে এটা অজুহাত, কারণ প্রথম ইনিংসেও বৃষ্টি ছিল। কিন্তু আসলে তা নয়। প্রথম ইনিংসে বৃষ্টির জোর এত ছিল না, আমাদের ব্যাটিংয়ে সময় কন্ডিশন তুলনামূলক ভালো ছিল।’

জ্যোতি জানাচ্ছেন মাঠের আম্পায়ারদের অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার পায় নি বাংলাদেশ দল। বৃষ্টির জন্য খেলা চালিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে – এটা জানালেও আম্পায়ার খেলা চালিয়ে নিতে বলেন। জ্যোতি বলছেন, ‘মাঠে যখন ছিলাম, আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করছিলাম এই কন্ডিশনে খেলা চালিয়ে যাবো কি না। তারা বারবার বলছিলেন যে, ‘চালিয়ে যান।’ সেক্ষেত্রে মাঠে আমার আর বেশি কিছু করার থাকে না। কিন্তু মাঠের বাইরে অবশ্যই যতটুকু কাজ করা যায়, কথা বলে ম্যাচ রেফারিকে জানাবো যে কন্ডিশন এরকম ছিল বা পরের ম্যাচে কী কী করলে ভালো হবে।’

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে- উদ্যোগতা কুতুব উদ্দিন চৌধুরী কুলাউড়ায় কৃষি মেলায়

ভারি বৃষ্টিতেও খেলা চালানোয় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ অধিনায়ক

Update Time : 01:39:42 pm, Monday, 7 March 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : নারী বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরে গেছে বাংলাদেশের নারীরা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ শুরু হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের চার ঘণ্টা পাঁচ মিনিট বিলম্বে। ২৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ভালো শুরু করেও মাত্র ১৪০ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে হেসেখেলে ৯ উইকেটের জয় পায় নিউজিল্যান্ডের প্রমীলারা। ম্যাচ শেষে হারের জন্য নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেও খেলার কন্ডিশন নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ভারি বর্ষণের মধ্যেও খেলা চালিয়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের সন্ধানে থাকা বাংলাদেশের ব্যাট হাতে শুরুটা হয়েছিল দারুণ। দলীয় পঞ্চাশ খুব দ্রুত তুলে নিলেও এরপরের ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে রানের গতি কমে যায় টাইগ্রেসদের। শেষ পর্যন্ত সেই গতি আর বাড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

নিগার সুলতানা বলছেন এই রানই ম্যাচ জয়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছিল। জ্যোতি বলেন, ‘আমাদের সংগ্রহ যা ছিল, তা খুবই ভালো ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্র পুরো ভিন্ন ছিল। বৃষ্টি ছিল অনেক বেশি ও আবহাওয়ার অবস্থা খেলার উপযুক্ত ছিল না। তবু আমরা খেলেছি। বোলাররা গ্রিপ করতে সমস্যা অনুভব করেছে।’

ভারি বৃষ্টির জন্য ফিল্ডারদের বল দেখতেও সমস্যা হচ্ছিল। জ্যোতি আরও বলেন, ‘আউটফিল্ডে যারা ফিল্ডিং করেছে, এত বৃষ্টি হচ্ছিল যে বল দেখতেও কষ্ট হচ্ছিল।’

আউটফিল্ড খেলার অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় ফিল্ডারদের ইনজুরি ঝুঁকি নিয়ে ফিল্ডিং করতে হয়েছে। তাই দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন তিনি। ‘ফিল্ডারদের নিরাপদে ম্যাচ শেষ করা নিয়ে দুর্ভাবনায় ছিলাম আমি। কারণ আরও ৫টি ম্যাচ বাকি আছে। খেলোয়াড়রা যদি নিরাপদ থাকে, তাহলেই বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারব। লড়াইটা করবো যাদের নিয়ে, তাদের নিরাপত্তা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ -জ্যোতি বলেন।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচের প্রথমার্ধেও বৃষ্টি থাকার পরেও নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশের অনুরূপ সমস্যায় পড়েনি বলে মনে করেন জ্যোতি। তাই নিজেদের হারের পেছনে বৃষ্টিকে অজুহাত নয় বরং যথার্থ কারণ বলে মনে করেন তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘এখন আপনারা বলতে পারেন যে এটা অজুহাত, কারণ প্রথম ইনিংসেও বৃষ্টি ছিল। কিন্তু আসলে তা নয়। প্রথম ইনিংসে বৃষ্টির জোর এত ছিল না, আমাদের ব্যাটিংয়ে সময় কন্ডিশন তুলনামূলক ভালো ছিল।’

জ্যোতি জানাচ্ছেন মাঠের আম্পায়ারদের অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার পায় নি বাংলাদেশ দল। বৃষ্টির জন্য খেলা চালিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে – এটা জানালেও আম্পায়ার খেলা চালিয়ে নিতে বলেন। জ্যোতি বলছেন, ‘মাঠে যখন ছিলাম, আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করছিলাম এই কন্ডিশনে খেলা চালিয়ে যাবো কি না। তারা বারবার বলছিলেন যে, ‘চালিয়ে যান।’ সেক্ষেত্রে মাঠে আমার আর বেশি কিছু করার থাকে না। কিন্তু মাঠের বাইরে অবশ্যই যতটুকু কাজ করা যায়, কথা বলে ম্যাচ রেফারিকে জানাবো যে কন্ডিশন এরকম ছিল বা পরের ম্যাচে কী কী করলে ভালো হবে।’