1:50 pm, Sunday, 14 June 2026

মনু নদীর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় পাম্প কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ

মো: রেজাউল ইসলাম চৌধুরী : মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে অবস্থিত কাশিমপুর পাম্প হাউজ। হাওরের জমির ধান চাষ পাম্প হাউজের সেঁচ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। সেঁচ পাম্প কাজ করলে কৃষকের ঘরে ধান ওঠে। পাম্প কাজ না করলে পানিতে তলিয়ে যায় হাওরের ধান।
হাওর জনপদের কৃষকরা এমন দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য পানি সেঁচের ব্যবস্থা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রভাবশালীদের চাপ, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ নানা কারণে হাওর থেকে পানি সেঁচ দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় কাশিমপুর পাম্প হাউজ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।

চলতি মৌসুমে কাশিমপুর পাম্পহাউজে ৮টি নতুন সেঁচ প্রাম্প স্থাপন করা হয়। মনুনদী সেঁচ প্রকল্পের অধীনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ২৪ হাজার ১৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পাম্পহাউজে দ্বিতীয় বারের মতো স্থাপন করা হয়েছে নতুন পাম্প মেশিন।
স্থানীয় লোকজন ও আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনু নদীর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্পের ৮ টি কঝই ইৎধহফ পাম্প ক্রয়ে ৬১,৬০,৯৫,২৮০/- টাকা দর প্রস্তাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেডকে অনুমোদন দেওয়া হয় যার স্মারক নং- মৌযাবি/ কাশিমপুর পাম্প হাউস/ডব্লিউ -২/১৯৮ তারিখ : ৩০/০১/২০১৭। অত:পর সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড জার্মানী থেকে পাম্প সরবরাহ নেওয়ার জন্য এন সি সি ব্যাংক, উত্তারা শাখায় একটি এলসি খুলেন যার এলসি নাম্বার : ১৬২৪১৭০১০১৬৯ এবং পাম্প সরবরাহ নেওয়ার জন্য মোট : ১৬,৮৮,০০০.০০ ইউরো যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায়: ১৬,৪৫,৮০,০০০/- টাকা এন সি সি ব্যাংক এর মাধ্যমে জার্মানিতে প্রেরণ করেন এবং ২৮/০১/২০১৮ ইং তারিখে পাম্পগুলো মৌলভীবাজা এ সরবরাহ করা হয়। বিগত জুন ২০১৭ থেকে জুন ২০১৮ এর মধ্যে সর্বমোট ৭৯,১১,৪৪,০০০/- টাকা বিল পরিশোধ করা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যার মধ্যে ৮ টি পাম্প বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬১,৬০,৯৫,২৮০/- টাকা যেখানে আয়কর ও ভ্যাট কর্তন করলে নীট টাকা ৫৪,৮৩,২৪,৭৯৯ /- মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সকে প্রদান করা হয়। পাম্প ক্রয়ে এল সি এর মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ, আনুষাঙ্গিক খরচ ও লভ্যাংশ সহ মোট আনুমানিক খারচ পড়েছে ২০,৪২,০০,০০০/- টাকা। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাযোশে সরকারের কাছ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত (৫৪,৮৩,২৪,৭৯৯.০০ – ২০,৪২,০০,০০০.০০) = ৩৪,৪১,২৪,৭৯৯.০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভোক্তভূগীরা প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, প্রকৌশলী সৈয়দ আরশেদ রেজা, চেয়ারম্যান,মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, প্রকৌশলী মো: আব্দুস সালাম, জেনারেল ম্যানেজার, মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, এস এম শহীদুল ইসলাম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পাবনা পওর সার্কেল, পাবনা, মো: আনিছুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী, মৌলভীবাজার যান্ত্রিক পওর বিভাগ, বাপাউবো, মৌলভীবাজার, মো: আবু তালেব, নির্বাহি প্রকৌশলী যান্ত্রিক, বাপাউবো, ঢাকা, নেছার আহমদ, সংসদ সদস্য মৌলভীবাজার ৩ আসন, মো: কামাল হোসেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলাসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবী জানাচ্ছেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা‘র আয়োজনে ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মনু নদীর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় পাম্প কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : 11:11:38 am, Tuesday, 15 September 2020

মো: রেজাউল ইসলাম চৌধুরী : মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে অবস্থিত কাশিমপুর পাম্প হাউজ। হাওরের জমির ধান চাষ পাম্প হাউজের সেঁচ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। সেঁচ পাম্প কাজ করলে কৃষকের ঘরে ধান ওঠে। পাম্প কাজ না করলে পানিতে তলিয়ে যায় হাওরের ধান।
হাওর জনপদের কৃষকরা এমন দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য পানি সেঁচের ব্যবস্থা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রভাবশালীদের চাপ, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ নানা কারণে হাওর থেকে পানি সেঁচ দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় কাশিমপুর পাম্প হাউজ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।

চলতি মৌসুমে কাশিমপুর পাম্পহাউজে ৮টি নতুন সেঁচ প্রাম্প স্থাপন করা হয়। মনুনদী সেঁচ প্রকল্পের অধীনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ২৪ হাজার ১৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পাম্পহাউজে দ্বিতীয় বারের মতো স্থাপন করা হয়েছে নতুন পাম্প মেশিন।
স্থানীয় লোকজন ও আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনু নদীর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্পের ৮ টি কঝই ইৎধহফ পাম্প ক্রয়ে ৬১,৬০,৯৫,২৮০/- টাকা দর প্রস্তাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেডকে অনুমোদন দেওয়া হয় যার স্মারক নং- মৌযাবি/ কাশিমপুর পাম্প হাউস/ডব্লিউ -২/১৯৮ তারিখ : ৩০/০১/২০১৭। অত:পর সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড জার্মানী থেকে পাম্প সরবরাহ নেওয়ার জন্য এন সি সি ব্যাংক, উত্তারা শাখায় একটি এলসি খুলেন যার এলসি নাম্বার : ১৬২৪১৭০১০১৬৯ এবং পাম্প সরবরাহ নেওয়ার জন্য মোট : ১৬,৮৮,০০০.০০ ইউরো যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায়: ১৬,৪৫,৮০,০০০/- টাকা এন সি সি ব্যাংক এর মাধ্যমে জার্মানিতে প্রেরণ করেন এবং ২৮/০১/২০১৮ ইং তারিখে পাম্পগুলো মৌলভীবাজা এ সরবরাহ করা হয়। বিগত জুন ২০১৭ থেকে জুন ২০১৮ এর মধ্যে সর্বমোট ৭৯,১১,৪৪,০০০/- টাকা বিল পরিশোধ করা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যার মধ্যে ৮ টি পাম্প বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬১,৬০,৯৫,২৮০/- টাকা যেখানে আয়কর ও ভ্যাট কর্তন করলে নীট টাকা ৫৪,৮৩,২৪,৭৯৯ /- মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সকে প্রদান করা হয়। পাম্প ক্রয়ে এল সি এর মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ, আনুষাঙ্গিক খরচ ও লভ্যাংশ সহ মোট আনুমানিক খারচ পড়েছে ২০,৪২,০০,০০০/- টাকা। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাযোশে সরকারের কাছ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত (৫৪,৮৩,২৪,৭৯৯.০০ – ২০,৪২,০০,০০০.০০) = ৩৪,৪১,২৪,৭৯৯.০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভোক্তভূগীরা প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, প্রকৌশলী সৈয়দ আরশেদ রেজা, চেয়ারম্যান,মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, প্রকৌশলী মো: আব্দুস সালাম, জেনারেল ম্যানেজার, মেসার্স সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, এস এম শহীদুল ইসলাম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পাবনা পওর সার্কেল, পাবনা, মো: আনিছুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী, মৌলভীবাজার যান্ত্রিক পওর বিভাগ, বাপাউবো, মৌলভীবাজার, মো: আবু তালেব, নির্বাহি প্রকৌশলী যান্ত্রিক, বাপাউবো, ঢাকা, নেছার আহমদ, সংসদ সদস্য মৌলভীবাজার ৩ আসন, মো: কামাল হোসেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলাসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবী জানাচ্ছেন।