2:37 am, Sunday, 15 March 2026

মৌলভীবাজারের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৫জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের মাতম

স্টাফ রিপোটার: মৌলভীবাজারের জুড়িতে বিদুৎ স্পৃষ্ট হয়ে একি পরিবারের নিহত ৫জনের দাফন বিকেলে শোকাতর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ঝড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।। এদিকে পল্লী বিদ্যুতের খামখেয়ালির কারনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এই এলাকার ঝুকিপূর্ণ আরও অনেক বিদ্যুৎতের লাইন আছে। সেগুলো বাড়ি ঘরের উপর দিয়ে টানা হয়েছে। কিন্তু কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। সেগুলো অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) ভোরে ফয়জুর রহমানের ঘরের টিনের চালে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। রাতে প্রচন্ড ঝড়ের কারণে এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। ভোরে বিদ্যুৎ আসার পরপরই ঝড় শুরু হয়। এ ঝড়ে বিদ্যুতের ১১হাজার ভোল্টের মূল তার ছিঁড়ে ফয়জুর রহমানের ঘরের ওপর পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। ঘরে থাকা লোকজন তাড়াহুড়া বের হওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি। স্থানীয়রা পাঁচ জনকে মৃত ও একজনকে আহত অবস্থায় ঘরের মূল দরজার সামনে থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় মানুষের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।


ভ্যান চালক বাক প্রতিবন্ধী ছিলেন ফয়জুর রহমান। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেহেরি খেয়ে রোজা রেখেছিলেন। কথা ছিলো ইফতার করবেন প্রতিবেশি হান্নান মিয়াকে নিয়ে। ঈদে ছেলে মেয়েদেরে নতুন কাপড় কিনে দেওয়ার কথা ছিল। নতুন কাপড় তারা পড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সাদা কাপড়। তারাবির পরে হান্নান মিয়া যান উনার বাড়িতে। ফয়জুর রহমান কথা বলতে না পারলেও ইশারায় অনেক কথা হয় হান্নান মিয়ার সাথে। এটাই ছিলো এই পরিবারের জীবনের বেঁচে থাকার শেষ রাত। মৃতদের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় স্থানীয় হাজী ইন্তাজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হয়েছে। এরপর গোয়ালবাড়ি কবরস্থানে এক সারিতে পাঁচ জনকে সমাহিত করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী একাদিকরা বলেন- মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়াবাড়ি এলাকায় টিন শেড এই বাড়িতে থাকতেন ভ্যান চালক ফয়জুর রহমান, স্ত্রী শিরিন বেগম, ষোল বছরের বড় মেয়ে সামিয়া, তের বছরের মেঝ মেয়ে সাবিনা, আট বছরের ছেলে সায়েম ছয় বছরের মেয়ে সোনিয়া। তারা সেহেরি খেয়ে ঘুমাতে যান।

এনিয়ে শেষ কতা হয় যাদের সাথে হত রাতে কয়েকজন কান্নায় বলেন- সেহরী শেষে ফজরের পর রাত ৪টা ৫০ মিনিটের সময় ঝড়ে বাড়ির উপর দিয়ে টানা ১১ হাজার ভোল্টেজের পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে ফয়জুরের বাড়ির ছাদে। কিন্তু এলাকাবাসী জানান, ফয়জুর বাড়িতে কোন বিদ্যুতের সংযোগ ছিলোনা। তিনি ব্যবহার করতেন সৌর বিদ্যুত। যে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুজুগ পাননি। সে বিদ্যৎ কেড়ে নিল ফয়জুর রহমানের সর্বস্ব। পাশের লোকজন জানিয়েছেন, এই বাড়ির মালিক কয়েকবারই তাকে বলেছিলেন, টিন সেড এই ঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে। কিন্তু তিনি তা মানেননি।

এবিষয়ে আব্দুল কাইয়ুম, চেয়ারম্যান , গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ বলেন- কোনও কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এমন মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় এই প্রথম হয়েছে। আরো ঝুকিপুর্ন বিদুৎ লাই রয়েছে সেগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানাই।

ঘটনার বিষয়ে মিজানুর রহমান, জিএম, পল্লি বিদ্ৎু সমিতি, মৌলভীবাজার জানান- এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাছাড়া নিহতের পরিবারকে বেঁচে থাকা চিকিৎসাধীন সদস্যের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ হাজার টাকা দাফন কাফনের জন্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ।
এঘটনার পর মোহাম্মদ মঞ্জুর রহমান, পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার জানান- বিদ্যুতের মূল লাইন ছিঁড়ে ঘরের ওপর পড়ার কারণে ১১হাজার ভোল্টের মূল লাইন ছিঁড়ে পড়ে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা —–

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা একই এলাকায় আরও ঝুকিপূর্ণ ১১হাজার ভোল্টেজের লাইন টানা আছে। সেগুলো অপসারণ না হলে আরও দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।তাই দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানান।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

অপরাধী ‘ধরিয়ে দিতে’ পুলিশের আহ্বান, মব ভায়োলেন্সের শঙ্কা

মৌলভীবাজারের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৫জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের মাতম

Update Time : 05:36:16 pm, Tuesday, 26 March 2024

স্টাফ রিপোটার: মৌলভীবাজারের জুড়িতে বিদুৎ স্পৃষ্ট হয়ে একি পরিবারের নিহত ৫জনের দাফন বিকেলে শোকাতর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ঝড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।। এদিকে পল্লী বিদ্যুতের খামখেয়ালির কারনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এই এলাকার ঝুকিপূর্ণ আরও অনেক বিদ্যুৎতের লাইন আছে। সেগুলো বাড়ি ঘরের উপর দিয়ে টানা হয়েছে। কিন্তু কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। সেগুলো অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) ভোরে ফয়জুর রহমানের ঘরের টিনের চালে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। রাতে প্রচন্ড ঝড়ের কারণে এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। ভোরে বিদ্যুৎ আসার পরপরই ঝড় শুরু হয়। এ ঝড়ে বিদ্যুতের ১১হাজার ভোল্টের মূল তার ছিঁড়ে ফয়জুর রহমানের ঘরের ওপর পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। ঘরে থাকা লোকজন তাড়াহুড়া বের হওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি। স্থানীয়রা পাঁচ জনকে মৃত ও একজনকে আহত অবস্থায় ঘরের মূল দরজার সামনে থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় মানুষের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।


ভ্যান চালক বাক প্রতিবন্ধী ছিলেন ফয়জুর রহমান। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেহেরি খেয়ে রোজা রেখেছিলেন। কথা ছিলো ইফতার করবেন প্রতিবেশি হান্নান মিয়াকে নিয়ে। ঈদে ছেলে মেয়েদেরে নতুন কাপড় কিনে দেওয়ার কথা ছিল। নতুন কাপড় তারা পড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সাদা কাপড়। তারাবির পরে হান্নান মিয়া যান উনার বাড়িতে। ফয়জুর রহমান কথা বলতে না পারলেও ইশারায় অনেক কথা হয় হান্নান মিয়ার সাথে। এটাই ছিলো এই পরিবারের জীবনের বেঁচে থাকার শেষ রাত। মৃতদের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় স্থানীয় হাজী ইন্তাজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হয়েছে। এরপর গোয়ালবাড়ি কবরস্থানে এক সারিতে পাঁচ জনকে সমাহিত করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী একাদিকরা বলেন- মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়াবাড়ি এলাকায় টিন শেড এই বাড়িতে থাকতেন ভ্যান চালক ফয়জুর রহমান, স্ত্রী শিরিন বেগম, ষোল বছরের বড় মেয়ে সামিয়া, তের বছরের মেঝ মেয়ে সাবিনা, আট বছরের ছেলে সায়েম ছয় বছরের মেয়ে সোনিয়া। তারা সেহেরি খেয়ে ঘুমাতে যান।

এনিয়ে শেষ কতা হয় যাদের সাথে হত রাতে কয়েকজন কান্নায় বলেন- সেহরী শেষে ফজরের পর রাত ৪টা ৫০ মিনিটের সময় ঝড়ে বাড়ির উপর দিয়ে টানা ১১ হাজার ভোল্টেজের পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে ফয়জুরের বাড়ির ছাদে। কিন্তু এলাকাবাসী জানান, ফয়জুর বাড়িতে কোন বিদ্যুতের সংযোগ ছিলোনা। তিনি ব্যবহার করতেন সৌর বিদ্যুত। যে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুজুগ পাননি। সে বিদ্যৎ কেড়ে নিল ফয়জুর রহমানের সর্বস্ব। পাশের লোকজন জানিয়েছেন, এই বাড়ির মালিক কয়েকবারই তাকে বলেছিলেন, টিন সেড এই ঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে। কিন্তু তিনি তা মানেননি।

এবিষয়ে আব্দুল কাইয়ুম, চেয়ারম্যান , গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ বলেন- কোনও কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এমন মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় এই প্রথম হয়েছে। আরো ঝুকিপুর্ন বিদুৎ লাই রয়েছে সেগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানাই।

ঘটনার বিষয়ে মিজানুর রহমান, জিএম, পল্লি বিদ্ৎু সমিতি, মৌলভীবাজার জানান- এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাছাড়া নিহতের পরিবারকে বেঁচে থাকা চিকিৎসাধীন সদস্যের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ হাজার টাকা দাফন কাফনের জন্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ।
এঘটনার পর মোহাম্মদ মঞ্জুর রহমান, পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার জানান- বিদ্যুতের মূল লাইন ছিঁড়ে ঘরের ওপর পড়ার কারণে ১১হাজার ভোল্টের মূল লাইন ছিঁড়ে পড়ে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা —–

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা একই এলাকায় আরও ঝুকিপূর্ণ ১১হাজার ভোল্টেজের লাইন টানা আছে। সেগুলো অপসারণ না হলে আরও দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।তাই দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানান।