9:42 pm, Sunday, 19 April 2026

মৌলভীবাজারে নারী অপহরণের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার-৩


বিশেষ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ জড়িত ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুলাউড়া থানার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের জাকির, সদর থানার সৈয়ারপুরের কাওছার এবং বেরিরচর এলাকার জসিম।
গত ৮মার্চ সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মোঃ মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য কমলগঞ্জের বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা জিজ্ঞাসা করে। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি বারবার সামনে-পেছনে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পরে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে তার বাড়ির রাস্তায় ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের একজন নেমে তার মুখ চেপে ধরে ১০-১২ হাত টেনে নিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি ধস্তাধস্তি করে তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ থানার মামলা নং-০৭, জিআর-১৯/২৬, তারিখ ০৯/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা-৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ রুজু করা হয়।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), মৌলভীবাজার নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার এবং এএসআই হামিদুর রহমানসহ একাধিক টিম সিসি ক্যামরার ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
এই চক্রের সবাই নানা অপরাধের সাথে জড়িত। রমজান মাসে ভোরে বেলা ফাঁকা রাস্তায় মেয়েটিকে একা পেয়ে তারা ধর্ষণের টার্গেট করে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন সস্তা হোটেলে রাত কাটাতো আর এই গাড়িটি ব্যবহার করেই সিলেট অঞ্চলে ঘুরে নানান অপরাধ করে আসছিল। তারা মাদক, চুরি, ডাকতি এবং ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত মর্মে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
সিডিএমএস যাচাই করে গ্রেফতারকৃত জাকির, কাওসার এবং জসিমের বিরুদ্ধে চুরি এবং মাদক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া তাদের দলের জাহাঙ্গীরের (পলাতক) বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ৩টি মামলা রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌলভীবাজারে নারী অপহরণের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার-৩

Update Time : 09:16:37 am, Wednesday, 11 March 2026


বিশেষ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ জড়িত ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুলাউড়া থানার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের জাকির, সদর থানার সৈয়ারপুরের কাওছার এবং বেরিরচর এলাকার জসিম।
গত ৮মার্চ সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মোঃ মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য কমলগঞ্জের বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা জিজ্ঞাসা করে। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি বারবার সামনে-পেছনে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পরে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে তার বাড়ির রাস্তায় ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের একজন নেমে তার মুখ চেপে ধরে ১০-১২ হাত টেনে নিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি ধস্তাধস্তি করে তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ থানার মামলা নং-০৭, জিআর-১৯/২৬, তারিখ ০৯/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা-৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ রুজু করা হয়।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), মৌলভীবাজার নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার এবং এএসআই হামিদুর রহমানসহ একাধিক টিম সিসি ক্যামরার ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
এই চক্রের সবাই নানা অপরাধের সাথে জড়িত। রমজান মাসে ভোরে বেলা ফাঁকা রাস্তায় মেয়েটিকে একা পেয়ে তারা ধর্ষণের টার্গেট করে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন সস্তা হোটেলে রাত কাটাতো আর এই গাড়িটি ব্যবহার করেই সিলেট অঞ্চলে ঘুরে নানান অপরাধ করে আসছিল। তারা মাদক, চুরি, ডাকতি এবং ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত মর্মে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
সিডিএমএস যাচাই করে গ্রেফতারকৃত জাকির, কাওসার এবং জসিমের বিরুদ্ধে চুরি এবং মাদক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া তাদের দলের জাহাঙ্গীরের (পলাতক) বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ৩টি মামলা রয়েছে।