স্টাফ রিপোর্টার: স্কুলের খেলার মাঠ এবং মাদকের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যদি এলাকায় খেলাধুলার মাঠ থাকে, তবে তরুণরা মাদকের দিকে যাবে না। তারা ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত থাকবে। এতে করে তাদের মন ও মানসিকতা খেলাধুলার ওপরই মগ্ন থাকে। কিন্তু যখন খেলাধুলার সুযোগ থাকে না, তখন অলস মস্তিষ্কই অন্যায়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

বর্তমানে খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ায় মানুষ ফেসবুক আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি এতটাই বেড়েছে যে, গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ এতে মগ্ন থাকে। খেলাধুলার সুব্যবস্থা থাকলে এই আসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই কমে আসত। আমাদের মনে রাখতে হবে, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধির সাথে মাদক দূরীকরণের একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। উপযুক্ত খেলার মাঠই পারে আমাদের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে। আপনারা জানের ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন যেনো প্রতিটি উপজেলায় মানসম্মত খেলার মাঠ নিশ্চিত করা হয়। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির দাবি ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ জমি বা স্থানের অভাব নেই। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠ থাকলে স্থানীয় তরুণরা সেখানে খেলাধুলার সুযোগ পাবে। খেলার মাঠ প্রত্যক্ষভাবে মাদক কমানো বা রোধ করতে ভ‚মিকা রাখে। মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীরও বড় ভ‚মিকা প্রয়োজন। অন্যান্য পুলিশের পাশাপাশি ড্রাগ এনফোর্সমেন্টের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উইং থাকা দরকার, যা সরাসরি সমন্বিতভাবে মাদক বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তাছাড়া মাদক বিরোধী সচেতনতা বাড়াতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। মাদকের অপব্যবহার সম্পর্কিত সচেতনতামূলক ভিডিও চিত্রটি বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুল ও কলেজে প্রদর্শন করা উচিত। পাশাপাশি, সচেতনতামূলক এই অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বা পিতামাতাকেও উপস্থিত রাখা জরুরি। কারণ সন্তানদের সুরক্ষায় তাদের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। মাদকাসক্ত তরুণদের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে, তাদের দ্রæত শনাক্ত করে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ বা পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো প্রয়োজন। যাতে তারা সমাজ ও পরিবারের ক্ষতি করার পূর্বেই নিরাময়ের সুযোগ পায়। সর্বোপরি সমাজ থেকে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন নাগরিক শিক্ষক ও অভিভাবক সবার সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে আয়োজিত পুলিশ ও নাগরিগদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা এম নাসের রহমান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি আরও বলেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে আমাদের দেশে যেভাবে ফেন্সিডিল প্রবেশ করছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এবং তাদের প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা সহায়তায় এসব ফেন্সিডিল কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এটি কোনো সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাজ নয়। বরং বাংলাদেশ থেকে আসা তরল মাদকের এই স্রোত আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। পাকিস্তান কিংবা নেপাল সীমান্তে এ ধরনের কোনো কারখানা দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশের প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা জুড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। মাদক চোরাচালান রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বিশাল চালানের একটি ক্ষুদ্র অংশ আটক করা হলেও বড় অংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আমরা দেখতে পাই কোনো থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একা চেষ্টা করলেও অধস্তন কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাবে কার্যকারী ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে অতীতে যারা বিগত সরকারের স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক কর্মকাÐে লিপ্ত ছিলেন, সেসব অধস্তন কর্মকর্তারা বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমে শতভাগ সহযোগিতা করছেন না।
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোঃ জিল্লুর রহমান এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মৌলভী ওয়ালী সিদ্দিক, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহŸায়ক বকশি মিছবাউর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট ড.আব্দুল মতিন চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট মৌলভীবাজার-এর আহŸায়ক অ্যাডভোকেট রুনু কান্ত দত্ত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জামাল উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির আহŸায়ক মোঃ ফয়জুল করিম ময়ুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম এবং মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা,জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষক,সাংবাদিক,রাজনীতিবীদ, আইনজীবী,ব্যবসায়ী,সমাজকর্মীসহ নানা শ্রেণীপেশার নাগরিকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















